বিনোদন ঝলক
তারকা

কেউ কারো জায়গায় যেতে পারে না: মেহজাবিনের সঙ্গে তুলনা নিয়ে যা বললেন তটিনী

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৬5 মিনিটে পড়ুন
তটিনী ও মেহজাবীন প্রসঙ্গ নিয়ে নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

একজনের অভিনয় যাত্রা অন্যজনের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে, কিন্তু তাই বলে তার জায়গা নেওয়া যায় না। এই ভাবনাতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিম সাইয়ারা তটিনী। অভিনয়জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায়ই তাঁকে শুনতে হয়, তিনি নাকি মেহজাবীন চৌধুরীর মতো। এমন তুলনা ভালো লাগলেও নিজেকে কখনো মেহজাবীনের জায়গায় কল্পনা করেন না তটিনী। বরং এই গুণী অভিনেত্রীর কাজ, পরিশ্রম ও ক্যারিয়ার থেকে শেখার বিষয়টিকেই বড় করে দেখেন তিনি।

সম্প্রতি ফিরে আসার গল্প নাটকের সংবাদ সম্মেলনে মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা নিয়ে কথা বলেন তটিনী। তাঁর ভাষ্যে, এ ধরনের মন্তব্য তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে না। বরং নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে আরও সচেতনভাবে ভাবতে উৎসাহিত করে। এই মনোভাবটাই তাঁর বক্তব্যের মূল সুর। তুলনাকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখছেন না, দেখছেন শেখার সুযোগ হিসেবে।

তটিনী বলেন, অনেকেই বলেন, তুমি মেহজাবীনের মতো, মেহজাবীনের জায়গায় যাচ্ছ। আসলে কেউ কারো জায়গায় যেতে পারে না। তিনি কারো সঙ্গে নিজেকে তুলনা করবেন না, কারো জায়গায় ভাবাটাও ঠিক না। শিল্প অঙ্গনে এই তুলনা হয় না। মেহজাবীন অনেক বড়, গুণী একজন শিল্পী। তবে, তুলনা করলে ভালো লাগে। তাঁর মতো গুণী অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনাও তো বড় পাওয়া। এই কয়েকটি বাক্যেই তটিনী নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন, প্রশংসা গ্রহণ করছেন, কিন্তু নিজের পরিচয় অন্যের ছায়ায় ঢাকতে চাইছেন না।

তটিনীর বক্তব্যে স্পষ্ট, মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনাকে তিনি প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখেন না। বরং তাঁর কাছে মেহজাবীনের দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুসরণীয় উদাহরণ। এ প্রসঙ্গে তটিনী আরও বলেন, তাঁদের জেনারেশন বা পরের জেনারেশনের জন্য মেহজাবীন একটা উদাহরণ। তাঁর ক্যারিয়ারে এগিয়ে চলা, কাজের প্রতি সততা, তাঁর পরিশ্রম, তাঁর অনেক অভিজ্ঞতা, তাঁর কাছ থেকে সবার শেখা উচিত।

অভিনয়ে আসার পর থেকেই মেহজাবীনকে অনুসরণ করার পরামর্শ পেয়েছেন তটিনী। তবে, সেই অনুসরণের বিষয়টি কেবল অভিনয় কিংবা ক্যারিয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যক্তিত্ব ও আচরণও ছিল আলোচনায়। তটিনী বলেন, তিনি যখন অভিনয়ে আসেন, তখনই অনেকে তাঁকে একটা কথাই বলেছিলেন, যদি কারও মতো হতে চাও, তাহলে মেহজাবীনকে ফলো করো। আর শুধু ক্যারিয়ার নয়, সে মানুষ হিসেবে কেমন, তার আচার আচরণ সবই ফলো করার কথা বলতেন। কারণ, সিনিয়রদের কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা নেওয়া উচিত।

এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তটিনীর কাছে অনুসরণ মানে অনুকরণ নয়। অনুসরণ মানে কাজের প্রতি সততা শেখা, আচরণে শালীনতা শেখা, আর নিজের পথ নিজে তৈরি করা। ছোট পর্দায় নতুন প্রজন্মের অনেক অভিনেত্রীকেই সিনিয়রদের সঙ্গে তুলনার মুখে পড়তে হয়। সেই তুলনা কখনো চাপ হয়ে দাঁড়ায়, কখনো আবার এগিয়ে যাওয়ার জ্বালানি হয়। তটিনী দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।

অল্প সময়ের অভিনয়জীবনেই দর্শকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন তটিনী। তাঁর অভিনীত নাটকগুলো নিয়ে দর্শকের আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ফিরে আসার গল্প দিয়ে আলোচনায় আছেন তিনি। এতে তাঁকে দেখা যাচ্ছে গ্রাম থেকে ঢাকায় পড়তে আসা এক তরুণীর চরিত্রে। পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেগের গল্পে নির্মিত এই ধারাবাহিকে নূরজাহান চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।

একদিকে নতুন কাজ দিয়ে দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখা, অন্যদিকে অভিজ্ঞ শিল্পীদের কাছ থেকে শেখার আগ্রহ, তটিনীর বক্তব্যে এই দুই দিকই উঠে এসেছে। মেহজাবীনের সঙ্গে তুলনা তাঁর কাছে প্রশংসার বিষয় হলেও নিজের পরিচয় গড়ে তোলার গুরুত্বও তিনি অস্বীকার করছেন না। অন্যের সাফল্যকে নিজের গন্তব্য না ভেবে অনুপ্রেরণা হিসেবে নেওয়াই যে তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেত্রী।

এই আলোচনার মধ্যেই সোমবার আরেকটি হালকা মুহূর্তও ভাগ করে নিলেন তটিনী। হলুদ পোশাকে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, আজ হলুদের সঙ্গে আমার ভাব হয়েছে। হলুদ রঙের সঙ্গে এবার ভাব জমেছে অভিনেত্রীর, অন্তত তাঁর নতুন ছবির ক্যাপশন সে কথাই বলছে। সরল এই বাক্যে ছবির সঙ্গে মিশেছে মজার এক অভিব্যক্তি।

তটিনীর নতুন পোস্টে নজর কাড়ছে হলুদ রঙের উপস্থিতি। ক্যাপশনেও পোশাকের রঙকেই করেছেন মূল আকর্ষণ। নিজের ছবির সঙ্গে এমন হালকা, কথোপকথনের ঢঙে লেখা বাক্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পোস্টকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি। তবে, হলুদ রঙের সঙ্গে ভাব হওয়ার এই কথার পেছনে কোনো বিশেষ উপলক্ষ রয়েছে কি না, তা জানাননি অভিনেত্রী। ফলে পোস্টটি নিয়ে অনুমান না করে ছবির সাজ ও ক্যাপশনের মজাটুকুই উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে অনুরাগীদের।

অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় তটিনী নিয়মিতই ছবি ও ভাবনা ভাগ করে নেন। চলতি সময়ে তাঁর আলোচিত কাজের মধ্যে রয়েছে ফিরে আসার গল্প। অন্যদিকে, বড় পর্দায় কাজের বিষয়ে তাড়াহুড়ো করতে চান না তটিনী। গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, অভিনয়ে আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করে উপযুক্ত গল্প ও চরিত্র পেলে সিনেমায় কাজ করতে চান। এই ধৈর্যের কথাটাও তাঁর মেহজাবীন নিয়ে বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। তাড়াহুড়ো করে অন্যের জায়গায় পৌঁছনো নয়, নিজের সময়ে নিজের জায়গা তৈরি করা, এটাই যেন তাঁর পথ।

সব মিলিয়ে তটিনীর এই সপ্তাহের বার্তাটা পরিষ্কার। তুলনা আসবেই, প্রশংসাও আসবে, কিন্তু নিজের পরিচয়টা নিজেকেই গড়তে হবে। মেহজাবীনের মতো গুণী শিল্পীর সঙ্গে তুলনা তাঁর কাছে সম্মানের, কিন্তু গন্তব্য নয়। আর হলুদ পোশাকের হালকা পোস্টটা মনে করিয়ে দেয়, ভারী কথা বলার পাশাপাশি হালকা মুহূর্ত ভাগ করে নিতেও তিনি স্বচ্ছন্দ। দর্শকদের জন্য এটাই হয়তো তটিনীর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, কাজের প্রতি সিরিয়াস, কিন্তু নিজেকে নিয়ে সহজ।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার