কবে বিয়ে করছেন, এই প্রশ্নটা অভিনেত্রী সাফা কবিরকে প্রায়ই শুনতে হয়। চারপাশে বন্ধুরা বিয়ে করে সংসারী হচ্ছেন, অনেকে সন্তান নিয়ে নতুন জীবন শুরু করেছেন। সেই ছবি দেখিয়ে সাফাকেও বারবার একই প্রশ্ন করা হয়। সম্প্রতি এক আড্ডায় এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, বিয়ে করা বা একা থাকা একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অযাচিত প্রশ্ন তাঁকে বিরক্ত করে।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি নিজের জীবনযাপন, অভিনয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাফা কবির। সেখানেই উঠে আসে বিয়ে ও একক জীবন নিয়ে তাঁর ভাবনার প্রসঙ্গ। তিনি জানান, বন্ধুদের বিয়ে হচ্ছে, অনেকে সন্তান নিয়ে সংসার শুরু করেছেন। এর মধ্যে নিজের একা থাকা নিয়ে তাঁকেও প্রায়ই নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের বোঝা উচিত, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এ ধরনের প্রশ্ন অনেকের জন্যই অস্বস্তিকর হতে পারে।
এই বক্তব্যের মধ্যে একটি বড় বার্তা আছে। তারকারা পর্দায় থাকেন বলে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন সবার আলোচনার বিষয় হয়ে যায়। কিন্তু সাফা মনে করিয়ে দিয়েছেন, তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই। তাঁদেরও ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব সময় ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বিয়ে নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়লেও নিজের জীবন নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট সাফা কবির। তিনি বলেছেন, নিজের জীবন নিয়ে তিনি বেশ সন্তুষ্ট এবং সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সুন্দর একটি জীবন কাটছে তাঁর। এই কথাটা শুধু একটি সাক্ষাৎকারের লাইন নয়, বরং এক ধরনের অবস্থান। অন্যের জীবনের ছাঁচে নিজেকে ফেলতে তিনি রাজি নন।
তবে ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে নিজের পছন্দের কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী। শিক্ষিত, রসবোধসম্পন্ন ও ভালো মনের একজন মানুষকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ তাঁর। এখানে কোনো নাম, কোনো সম্পর্কের ঘোষণা বা কোনো বিয়ের তারিখ নেই। শুধু আছে পছন্দের একটি ছবি। পাঠকের জন্য এটা পরিষ্কার রাখা জরুরি যে, সাফা বিয়ের ঘোষণা দেননি, তিনি শুধু জানিয়েছেন কেমন মানুষকে তিনি পছন্দ করেন।
অভিনয়জীবন নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন সাফা কবির। নিজের অভিনীত কাজ নিয়ে কখনোই শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারেন না বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর মধ্যে নিজের কাজ নিয়ে এই অতৃপ্তি থাকা প্রয়োজন। কারণ, তা আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। এই কথাটা অনেক শিল্পীর ক্ষেত্রেই সত্যি। নিজের কাজের প্রতি অসন্তোষই অনেক সময় পরের কাজকে আরও ভালো করে।
নিজের জীবনদর্শন তুলে ধরে সাফা বলেন, তিনি নিজেকে আত্মনির্ভরশীল মানুষ মনে করেন এবং সব অবস্থায় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করেন। নিজের সমস্যা নিজে সমাধান করা আর আশপাশের পরিবেশকে ইতিবাচক রাখাই তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। এই জীবনদর্শনই তাঁর বিয়ে নিয়ে অবস্থানের সঙ্গে মিলে যায়। অন্যের প্রশ্নে নয়, নিজের ভালো থাকাতেই তিনি গুরুত্ব দিতে চান।
সব মিলিয়ে সাফা কবিরের এই আড্ডার বার্তাটা সহজ কিন্তু স্পষ্ট। বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের ভালো থাকা, আত্মনির্ভরশীলতা ও পছন্দকে গুরুত্ব দিতেই তিনি স্বচ্ছন্দ। কবে বিয়ে করবেন, সেই প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তিনি কেমন জীবন চান। আর সেই উত্তর তিনি নিজেই দিয়েছেন, নিজের ভাষায়, নিজের সময়ে।
