বিনোদন ঝলক
তারকা

সুনীতা আমার জীবনে সৌভাগ্য বয়ে এনেছে: স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগে যা বললেন গোবিন্দ

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৬5 মিনিটে পড়ুন
গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজা নিয়ে নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

স্ত্রী সুনীতা আহুজার পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ। তাঁর দাবি, তৃতীয় পক্ষের লোকজন সুনীতাকে প্রভাবিত করছেন এবং তাঁর মন্তব্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চললেও গোবিন্দ স্বীকার করেছেন, তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারে সুনীতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। স্ত্রীকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সুনীতাকে নিজের মতো করে কথা বলার সুযোগ দিতে চান বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

গোবিন্দের ভাষায়, তিনি স্ত্রীর সৌভাগ্যের ওপর এতটাই নির্ভর করেছেন যে, আজ তিনি যে নাম ও সম্মান অর্জন করেছেন, তার পেছনে রয়েছে তাঁর মায়ের আশীর্বাদ এবং তাঁর স্ত্রী। সুনীতার কারণেই তাঁকে কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সুনীতা তাঁর জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছেন, এমনটাই বলেছেন গোবিন্দ। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অভিযোগের জবাব দেওয়ার বদলে তিনি স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতার সুরটাই সামনে এনেছেন।

স্ত্রীর অভিযোগের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখতে চান গোবিন্দ। তাঁর কথায়, সুনীতাকে যারা প্রভাবিত করছে, তারা ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর অভিযোগ এড়িয়ে যাবেন। তখনই তারা বুঝতে পারবে, গোবিন্দের সঙ্গে লাগতে গিয়ে কী ভুল করেছে। তিক্ততা কখনো মধুরতায় পরিণত হয় না, এই বিশ্বাসের কথাও বলেছেন তিনি। এই পর্ব পেরিয়ে গেলে মানুষ বলবে, তিনি যথেষ্ট সম্মান বজায় রেখে আচরণ করেছেন। তিনি ওদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছেন না, এমন মনোভাবও স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা।

সাত আট বছর আগে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন গোবিন্দ। এ কারণে স্ত্রীর সম্মানহানি হতে পারে, এমন কিছু বলা থেকে বিরত থেকেছেন তিনি। বরং নীরব থাকাকেই শ্রেয় বলে মনে করেছেন এই অভিনেতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নীরব ও সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখতে চান গোবিন্দ, যাতে সম্পর্কের ক্ষত স্থায়ী না হয়। তাঁর ভাষায়, এই পর্ব শেষ হয়ে গেলেও ক্ষতগুলো থেকে যাবে। কেউ তাঁকে বাধ্য না করলে নিজের আচরণ নিয়ে কোনো সন্দেহ তৈরি করতে চান না তিনি।

কাছের মানুষকেও অনেক সময় বাইরের লোকজন প্রভাবিত করতে পারেন। আর এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা বহু বছর আগেই করেছিলেন গোবিন্দ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, কাউকে বিব্রত করার মতো পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না, এটা তাঁর স্বভাবের মধ্যেই নেই। সাত আট বছর আগেই তিনি বলেছিলেন, তাঁকে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এই পুরোনো আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বর্তমান বিতর্ক তাঁর কাছে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি সংযমের পথেই থাকতে চান।

স্ত্রীর অভিযোগ ঘিরে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন গোবিন্দ। কে কী বলছেন, তা নিয়ে বিশেষ মাথা ঘামাতে চান না তিনি। এটি সাময়িক ব্যাপার, একসময় এটা কেটে যাবে বলে মনে করেন অভিনেতা। তাঁর ভাষায়, সারা দেশের সবাই এভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, বিশেষ করে মহিলারা। কিন্তু তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি কোনো আপত্তি তুলছেন না। এই মনোভাব থেকেও বোঝা যায়, বিতর্ককে আরো উসকে দেওয়ার বদলে তিনি তা থিতিয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করতে চান।

বিতর্কের সূত্রপাতের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত মাসে কলকাতার একটি মন্দির দর্শনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন সুনীতা আহুজা। ছবির ক্যাপশনে জীবনের অশুভ শক্তি বা দানবদের বিনাশ কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি নারী ও জেন জি প্রজন্মের সমর্থন চান। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, তাঁর সংসার ভেঙে পড়ছে। এর আগে সুনীতা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, গোবিন্দ তাঁর পরবর্তী রূপা সিনেমার সহঅভিনেত্রী কোমল রানী স্বর্ণকারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এই অভিযোগ নিয়েই গোবিন্দ ও সুনীতার দাম্পত্য সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে।

এর আগে মারাঠি এক অভিনেত্রীর সঙ্গে গোবিন্দ পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন সুনীতা। ফলে সংসার ভাঙার উপক্রম হয়েছিল। এ নিয়ে দারুণভাবে সমালোচিত হয়েছেন গোবিন্দ। যদিও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন সুনীতা। অর্থাৎ, এই দম্পতির দাম্পত্য টানাপোড়েন নতুন নয়, এর আগেও তা আলোচনায় এসেছে। তবে প্রতিবারই সম্পর্ক টিকে থাকার দিকেই গড়িয়েছে ঘটনা, অন্তত এখন পর্যন্ত।

১৯৮৭ সালে বিয়ে করেন গোবিন্দ ও সুনীতা। এই দম্পতির দুই সন্তান, মেয়ে টিনা ও ছেলে যশবর্ধন। ইতিমধ্যে রুপালি জগতে নাম লিখিয়েছেন গোবিন্দের মেয়ে টিনা আহুজা। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া সেকেন্ড হ্যান্ড হাজবেন্ড সিনেমায় দেখা গেছে তাঁকে। পরিচালক সাই রাজেশের হাত ধরে খুব শিগগির বলিউডে অভিষেক হতে যাচ্ছে যশবর্ধনের। পরিবারের এই প্রেক্ষাপটও গোবিন্দের বক্তব্যকে আরো তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে, কারণ বিতর্কটি শুধু দুজন মানুষের নয়, একটি পরিবারেরও।

পর্দার বাইরে গোবিন্দকে দেখা যায়নি দীর্ঘদিন। ২০১৯ সালে সর্বশেষ বড়পর্দায় দেখা যায় তাঁকে। রঙ্গিলা রাজা ছিল তাঁর অভিনীত শেষ সিনেমা। এতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। মুক্তির পর বক্স অফিসে ব্যর্থ হয় সিনেমাটি। ২০২২ সালে একটি তথ্যচিত্রে দেখা যায় গোবিন্দকে। গত সাত বছর ধরে চলচ্চিত্র থেকে দূরে রয়েছেন নব্বই দশকের পর্দা কাঁপানো এই তারকা।

তবে দীর্ঘ বিরতির পর বড়পর্দায় ফিরছেন গোবিন্দ। রূপা ও দুনিয়াদারি শিরোনামের দুটো সিনেমা নিয়ে খুব চেনা ভুবনে ফিরছেন এই তারকা। দুটো সিনেমায় তাঁর বিপরীতে অভিনয় করবেন নবাগত কোমল রানী স্বর্ণকার। লক্ষণীয় বিষয় হলো, রূপা সিনেমার সহঅভিনেত্রীকে ঘিরেই সুনীতার সাম্প্রতিক ইঙ্গিত, আর সেই সিনেমা দিয়েই ফিরছেন গোবিন্দ। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তন আর দাম্পত্য বিতর্ক, দুটোই এখন একসঙ্গে আলোচনায়।

এই পুরো ঘটনায় দুটি দিক স্পষ্ট। একদিকে সুনীতার অভিযোগ ও ইঙ্গিত, যা তিনি নিজের মতো করে প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে গোবিন্দের জবাব, যেখানে অভিযোগ খণ্ডনের চেয়ে সংযম, কৃতজ্ঞতা আর স্ত্রীর সম্মান রক্ষার কথাই বেশি। অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত বিষয় নয়, এগুলো দম্পতির নিজেদের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে তৈরি আলোচনা। তাই পাঠকের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি, কোনটা অভিযোগ আর কোনটা প্রমাণিত সত্য, এই পার্থক্যটা যেন গুলিয়ে না যায়।

এরপর কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গোবিন্দ ফিরবেন কি না, সুনীতা আবার কী বলবেন, রূপা ও দুনিয়াদারি কবে আসবে, এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু পরিষ্কার, গোবিন্দ এই মুহূর্তে বিতর্ক বাড়াতে চান না। তিনি চান, সময় পেরিয়ে গেলে মানুষ তাঁর আচরণের সংযমটাই মনে রাখুক। বলিউডের এই প্রবীণ তারকার জন্য এটাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, পর্দার বাইরের এই অধ্যায় তিনি কতটা শান্তভাবে পার করতে পারেন।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার