বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিল্লি ও হরিয়ানা থেকে তাদের আটক করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেফতার হওয়া চারজন হলেন কুনাল (২১), সুমিত (১৯), রাধা (২৩) ও বাবিতা (২৩)। ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তাদের মুম্বাই পুলিশের তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
পুলিশের দাবি, এই চারজন হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার শৃঙ্খলের অংশ ছিলেন। অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে কুনাল অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল ও ২০ রাউন্ড গুলি সংগ্রহ করেন। ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন সুমিত। অন্যদিকে, রাধা ও বাবিতা সেই অস্ত্র মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পটভূমি: গত ১৮ অক্টোবর, রোববার সন্ধ্যায় ফুটবল খেলে একটি ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় তিন হামলাকারী। ঘটনায় অভিনেতা নিজে অক্ষত থাকলেও তার চালক গুলিবিদ্ধ হন এবং পাশে থাকা একজন অটোরিকশাচালকও আহত হন। আহত চালককে বাঁচাতে টাইগার নিজেই গাড়ির চালকের আসনে বসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান, যা পরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
টাইমলাইন: হামলার পরদিন, সোমবার সকালে রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশন থেকে তিন হামলাকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পুনে থেকে জয়পুরগামী ট্রেনে করে তারা নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। এরপর মঙ্গলবার দিল্লি ও হরিয়ানায় পৃথক অভিযানে আটক করা হয় অস্ত্র সরবরাহে জড়িত সন্দেহে আরও চারজনকে।
এর আগে গ্রেফতার তিন হামলাকারী হলেন হরিয়ানার সোনিপতের রেহান ওরফে শুক্কা, বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা এবং মুম্বাইয়ে বসবাসকারী হৃতিক কুর্মি ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ফুল সিং। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে প্রায় দশ দিন ধরে টাইগারের গতিবিধির ওপর নজরদারি চালিয়েছিল তারা।
তদন্তে নতুন তথ্য: মুম্বাই পুলিশের অপরাধ শাখা জানিয়েছে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন বলিউডের অন্য এক প্রভাবশালী তারকা। ওই তারকার কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করতে না পেরে তারা হামলা চালাতে পারেননি। পরে টাইগার শ্রফকে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য মনে করে তার গাড়িতে গুলি চালানো হয় বলে পুলিশের দাবি। মূল লক্ষ্য কে ছিলেন, তা এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।
কেন এই গ্রেফতার গুরুত্বপূর্ণ: এতদিন তদন্তের অগ্রগতি ছিল মূলত হামলাকারীদের গ্রেফতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অস্ত্র সরবরাহকারীদের ধরা পড়ায় এবার ঘটনার পেছনের পুরো শৃঙ্খল সামনে আসতে শুরু করেছে। পাঞ্জাবের অমৃতসর থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে দিল্লি-হরিয়ানা হয়ে মুম্বাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার এই পথ তদন্তকারীদের কাছে একটি আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনিল পণ্ডিতের নামও এই মামলায় নতুন করে সামনে এলো।
এরপর কী: তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে মুম্বাই পুলিশ। অস্ত্রের উৎস, সরবরাহ শৃঙ্খলে আর কারা জড়িত এবং হামলার পরিকল্পনায় অর্থের যোগান কে দিয়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে টাইগার শ্রফের নিরাপত্তা জোরদার রাখা হয়েছে।
