সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে গিয়েছিল। গায়ে হলুদের সাজে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব ও অভিনেত্রী সাফা কবিরকে। সাফার পরনে হলুদের ওপর নানা রঙের নকশা করা লেহেঙ্গা, তৌসিফের পরনে হলুদ পাঞ্জাবি আর কুর্তি। চারপাশে আরও তরুণ-তরুণী, মুখে হাসি, আবহটা একেবারে বিয়ের বাড়ির মতো। ভিডিওটি দেখে অনেকের মনেই প্রথম প্রশ্নটা এসেছে, এরা কি বিয়ে করছেন, নাকি এটি কোনো নতুন নাটকের দৃশ্য। এই লেখার সোজা উত্তরটা আগেই দিয়ে রাখা ভালো, দুটোর কোনোটাই নয়। যাচাই করা খবর বলছে, ভিডিওটি একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্রের অংশ, আর সেই প্রতিষ্ঠান বিয়ের নানা আয়োজনের পোশাক নকশা করে ও বিক্রি করে।
কেন এত আলোচনা হলো, সেটা বোঝা কঠিন নয়। তৌসিফ আর সাফা দুজনেই দর্শকের খুব চেনা মুখ, আর গায়ে হলুদের দৃশ্য মানেই আমাদের মনে প্রথমে বিয়ের ছবি ভেসে ওঠে। তার ওপর ভিডিওতে দুজনের উপস্থিতি এতটাই প্রাণবন্ত আর স্বাভাবিক ছিল যে অনেকেই সেটিকে বাস্তব অনুষ্ঠান ভেবে নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার ভেবেছেন, হয়তো কোনো নতুন নাটকের শুটিংয়ের দৃশ্য ফাঁস হয়েছে। কিন্তু দুটি অনুমোদিত সংবাদমাধ্যম, যুগান্তর ও ঢাকা পোস্ট, আলাদা আলাদা প্রতিবেদনে একই তথ্য দিয়েছে, এটি বিজ্ঞাপনের কাজ। একটি বিয়ের পোশাকের প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার জন্যই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের আদলে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
ভিডিওতে আসলে কী দেখা গেছে, সেটা একটু খুঁটিয়ে দেখলে বিভ্রান্তির কারণটা আরও পরিষ্কার হয়। একটি রিসোর্টে ধারণ করা হয়েছে বিজ্ঞাপনচিত্রটি। সাফাকে দেখা গেছে হলুদ লেহেঙ্গায়, যার ওপর নানা রঙের নকশা। তৌসিফের পরনে হলুদ পাঞ্জাবি ও কুর্তি। তাঁদের ঘিরে ছিলেন আরও কয়েকজন তরুণ-তরুণী, যাঁরা হলুদের আবহটাকে পূর্ণতা দিয়েছেন। অর্থাৎ পুরো আয়োজনটাই সাজানো হয়েছে এমনভাবে, যাতে দেখতে ঠিক একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের মতো লাগে। বিজ্ঞাপনের ভাষায় এটাই স্বাভাবিক, পোশাক বিক্রি করতে হলে পোশাকটিকে তার আসল পরিবেশে দেখাতে হয়। কিন্তু দর্শকের চোখে সেই বাস্তবসম্মত সাজই বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
ভিউ সংখ্যাও এই আলোচনাকে আরও বড় করেছে। প্রতিবেদনগুলো জানিয়েছে, প্রকাশের দুই দিনের মধ্যেই ভিডিওটির ভিউ প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাড়িয়েছে। দুই দিনে সাড়ে চার লাখ ভিউ মানে, ভিডিওটি শুধু দুই শিল্পীর ভক্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, শেয়ার হতে হতে অনেক দূর ছড়িয়েছে। অনেকেই দুজনের রসায়নের প্রশংসা করেছেন, কেউ কেউ লিখেছেন, তাঁদের একসঙ্গে দেখতে ভালো লাগছে। এই প্রশংসার পাশাপাশি ভুল ধারণাও একই গতিতে ছড়িয়েছে। কেউ লিখেছেন, এটি নতুন নাটকের দৃশ্য, কেউ ধরেই নিয়েছেন পারিবারিক অনুষ্ঠান। এখানেই যাচাই করে পড়ার গুরুত্বটা বোঝা যায়, কারণ ভাইরাল হওয়া মানেই সত্যি হওয়া নয়, আর প্রথম দেখায় যা মনে হয়, সেটাই সব সময় আসল ঘটনা নয়।
তৌসিফ ও সাফার সম্পর্ক নিয়েও এই সুযোগে পরিষ্কার করে বলা দরকার। দুটি প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। শোবিজে প্রায় একই সময়ে তাঁদের পথচলা শুরু হলেও বন্ধুত্বটা তার চেয়েও পুরনো। অর্থাৎ তাঁরা দীর্ঘদিনের পরিচিত, একে অপরের কাজের জগতের কাছের মানুষ। এই বন্ধুত্বের প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভিডিওর হলুদ-সাজ দেখে যাঁরা বিয়ের অনুমান করছেন, তাঁদের জন্য আসল তথ্যটা হলো, দুজনের সম্পর্ক বন্ধুত্বের, আর ভিডিওর ঘটনাটা পেশাদার কাজের অংশ। বন্ধুত্ব আর পেশাদার কাজ, এই দুটোকে আলাদা করে দেখলেই পুরো ছবিটা পরিষ্কার হয়।
বন্ধুত্বের এই গল্পের সাম্প্রতিক অধ্যায়টি হলো সিলেট সফর। কিছুদিন আগেই বন্ধুদের সঙ্গে সিলেট ঘুরে এসেছেন তৌসিফ ও সাফা। গত ২৭ অক্টোবর ছিল তৌসিফের জন্মদিন। বিশেষ দিনটি উপলক্ষে স্ত্রী ও বন্ধুদের নিয়ে সিলেটে সময় কাটান তিনি। সফরে তৌসিফ ও সাফার সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া এবং সৈয়দ জামান শাওন। অভিনেতা সিয়াম আহমেদেরও যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততার কারণে তিনি যেতে পারেননি। সিলেট সফরের ছবি ও মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তৌসিফ নিজেও।
সিলেট সফরের একটি ছবি শেয়ার করে তৌসিফ যে কথাগুলো লিখেছিলেন, সেগুলো বন্ধুত্বের এই গল্পের সঙ্গে খুব মানানসই। তিনি লিখেছিলেন, বয়স বাড়ে, সময় বদলায়, জীবনের হিসাব বদলে যায়, কিন্তু কিছু বন্ধুত্ব মনে করিয়ে দেয়, জীবনে এখনো অনেক কিছু সুন্দর আছে। এই লাইনগুলো থেকে বোঝা যায়, তাঁর কাছে বন্ধুত্বের জায়গাটা কতটা আলাদা। জন্মদিনের সফর, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, আর তারপর হলুদ-সাজের বিজ্ঞাপনচিত্র, এই ঘটনাগুলো সময়ের দিক থেকে কাছাকাছি বলেই হয়তো দর্শকের মনে সেগুলো একসঙ্গে মিশে গেছে। কিন্তু ঘটনাগুলো আলাদা, একটি ব্যক্তিগত সফর, আরেকটি পেশাদার বিজ্ঞাপনের কাজ।
এখন প্রশ্ন হলো, এমন ভুল ধারণা কেন এত দ্রুত ছড়ায়। এর একটি কারণ হলো, আমরা ভিডিও দেখি, কিন্তু প্রসঙ্গ দেখি না। ফেসবুকের একটি পেজে ভিডিওটি দেখা গেছে, সেখানে পুরো প্রসঙ্গ সব সময় সামনে থাকে না। দ্বিতীয় কারণ, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ সব সময়ই বেশি। বিয়ে, সম্পর্ক, পারিবারিক অনুষ্ঠান, এই বিষয়গুলোতে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহলী। তৃতীয় কারণ, বিজ্ঞাপনচিত্রের নির্মাণই এমন যে সেটি বাস্তব মনে হয়। পোশাকের বিজ্ঞাপনে যদি পোশাকটিকে বাস্তব অনুষ্ঠানের মতো করে না দেখানো হয়, তাহলে দর্শক পোশাকের ব্যবহারটাই বুঝতে পারবেন না। এই তিনটি কারণ একসঙ্গে মিলেই একটি সাধারণ বিজ্ঞাপনচিত্রকে ভাইরাল আলোচনার বিষয় বানিয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনা থেকে পাঠক হিসেবে আমাদের জন্য একটি সহজ শিক্ষাও আছে। কোনো তারকার ভিডিও বা ছবি দেখে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে দুটি প্রশ্ন করা ভালো। প্রথমত, ভিডিওটির উৎস কী, এটি কি কোনো অফিশিয়াল পেজ, সংবাদমাধ্যম, নাকি শুধু একটি ফ্যান পেজ বা শেয়ার করা ক্লিপ। দ্বিতীয়ত, বিষয়টি নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিছু লিখেছে কি না। এই ক্ষেত্রে যুগান্তর ও ঢাকা পোস্ট দুটোই ২ নভেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, আর দুটোতেই পরিষ্কার বলা হয়েছে, এটি বিজ্ঞাপনচিত্র। তাই এই লেখার ভিত্তি কোনো অনুমান নয়, দুটি অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
তৌসিফ মাহবুবকে সামনে কোথায় দেখা যাবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও এই প্রতিবেদনগুলোতেই আছে। তৌসিফকে দেখা যাবে নির্মাতা শিহাব শাহীনের ওয়েব সিনেমা ক্যাফে আমব্রেলায়। এই ওয়েব ফিল্মটি আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে। তাই হলুদ-সাজের ভিডিও নিয়ে যাঁদের কৌতূহল, তাঁদের জন্য পরের স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, ক্যাফে আমব্রেলা আসলে কী, কারা আছেন, আর কোথায় কীভাবে দেখা যাবে। এই অংশে সেই পুরো গাইডটাই দেওয়া হলো, যাতে একটি লেখা পড়েই দুটি প্রশ্নের উত্তর মেলে।
ক্যাফে আমব্রেলা কী ধরনের কাজ, সেটা আগে পরিষ্কার করা দরকার। এটি একটি রোমান্স ও ড্রামা ঘরানার ওয়েব ফিল্ম। এতে চার জুটির চার রকম ভালোবাসার গল্প উঠে এসেছে। প্রেমের মিষ্টি মুহূর্তের পাশাপাশি আছে সম্পর্কের টানাপোড়েন, মান অভিমান, ভুল বোঝাবুঝি আর আবেগের নানা রং। চারটি আলাদা গল্প একপর্যায়ে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়, আর সেটাই এই ওয়েব ফিল্মের বড় আকর্ষণ। নাম শুনে অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন, এটি কোনো ক্যাফেকে ঘিরে গল্প, কিন্তু তা নয়। গল্পের কেন্দ্রে আছে মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা আর আবেগ, ক্যাফের নামটি এখানে প্রতীকী।
ক্যাফে আমব্রেলা মুক্তি পেয়েছে ২৯ অক্টোবর, আইস্ক্রিনে। ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছিল ২২ অক্টোবর। ট্রেলারের পর থেকেই দর্শকের আগ্রহ বাড়তে থাকে, কারণ তাতে জুটিগুলোর সম্পর্কের নানা সমীকরণের আভাস মিলেছিল। নির্মাতা শিহাব শাহীনের মতে, গল্পের ভিন্নতা আর চার জোড়া শিল্পীর রসায়ন ওটিটি দর্শকদের কাছে নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে। যাঁরা এখনো দেখেননি, তাঁরা আইস্ক্রিনে গিয়ে ওয়েব ফিল্মটির নাম খুঁজে দেখতে পারবেন। দেখার বিস্তারিত ব্যবস্থা বা সাবস্ক্রিপশনের বিষয়টি প্ল্যাটফর্মেই যাচাই করে নেওয়া ভালো, কারণ এ ধরনের তথ্য সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে।
কারা আছেন ক্যাফে আমব্রেলায়, সেই তালিকাটাও বেশ আকর্ষণীয়। লাক্স সুপারস্টার ২০২৫ এর চ্যাম্পিয়ন বিদুষী বর্ণিতা, প্রথম রানারআপ নাযাহ নাওয়ার ও দ্বিতীয় রানারআপ আমিনা ইসলামকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ওয়েব ফিল্ম। বিদুষীর বিপরীতে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব, নাযাহর সঙ্গে আছেন পার্থ শেখ, আর আমিনার সঙ্গে রয়েছেন আরেফিন জিলানী। অন্য জুটিতে দেখা যাবে সাইদুর রহমান পাভেল ও সানজিদা তাসনিমকে। অর্থাৎ একদিকে অভিজ্ঞ মুখ তৌসিফ, অন্যদিকে লাক্সের মঞ্চ থেকে আসা তিন নতুন মুখ, এই মিশেলটাই কাজটির আলাদা আকর্ষণ।
এই ওয়েব ফিল্ম দিয়েই অভিনয়ে অভিষেক হচ্ছে বিদুষী, নাযাহ ও আমিনার। লাক্স সুপারস্টার ২০২৫ এর গ্র্যান্ড ফিনালেতে এই ওয়েব ফিল্মের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, আর প্রতিযোগিতার পুরস্কার হিসেবেই অভিনয়ের সুযোগ পান তিন লাক্স তারকা। নতুনদের প্রস্তুত করতে শুটিং শুরুর আগে তাঁদের নিয়ে প্রায় এক মাসের কর্মশালা করেছেন নির্মাতা শিহাব শাহীন। প্রথম বড় কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিদুষী জানিয়েছেন, লাক্সের পর এটিই তাঁর প্রথম বড় কাজ, আর লাক্সের অন্য দুই প্রতিযোগীর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করা ও রিহার্সালের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ। নির্মাতা তাঁদের অনেক সময় দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিদুষীর চরিত্রটির নাম সামিরা। মজার বিষয় হলো, সামিরা পেশায় একজন অভিনেত্রী, অথচ বাস্তব জীবনে বিদুষী অভিনয়ের জগতে একেবারে নতুন। ফলে চরিত্রটির জীবনযাপন, চিন্তাভাবনা ও অনুভূতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবে এই ভিন্নতাই তাঁকে চরিত্রটির প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিল। গল্পে ভালোবাসা, সম্পর্কের সমঝোতা এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের টানাপোড়েন উঠে এসেছে। মুক্তির পর বিদুষী জানিয়েছেন, দর্শকের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী, আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ভালো লাগার কথা শুনছেন। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে দর্শকের কাছ থেকে এমন সাড়া পাওয়া তাঁর কাছে অনেক বড় অনুপ্রেরণা।
তৌসিফের দিক থেকে ক্যাফে আমব্রেলার গল্পটা আবার একটু ভিন্নভাবে ধরা যায়। তিনি বলেছেন, নাম শুনে অনেকে হয়তো ক্যাফেকেন্দ্রিক গল্প ভাবতে পারেন, কিন্তু এটি মূলত মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সম্পর্কের গল্প। এতে চারটি আলাদা গল্প রয়েছে, গল্পগুলো আলাদাভাবে এগোলেও একপর্যায়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হবে। শুধু প্রেমের মিষ্টি মুহূর্ত নয়, সম্পর্কের জটিলতা, ভুল বোঝাবুঝি, মান অভিমান, সবই উঠে এসেছে এই গল্পে। অর্থাৎ যাঁরা শুধু হালকা প্রেমের গল্প আশা করছেন, তাঁরা এখানে সম্পর্কের গভীর দিকটাও পাবেন।
নাযাহ নাওয়ারের পথটা আবার একটু আলাদা। লাক্সে অংশ নেওয়ার আগে তিনি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের অ্যানি সিরিজে অভিনয় করেছিলেন, আর সেই সিরিজটি এখনো মুক্তির অপেক্ষায় আছে। ফলে ক্যাফে আমব্রেলা দিয়েই দর্শকদের সামনে প্রথমবারের মতো পুরোপুরি আত্মপ্রকাশ ঘটছে তাঁর। লাক্সের মঞ্চ থেকে পাওয়া এই সুযোগকে তিনি বড় করেই দেখছেন, আর নির্মাতা ও সহশিল্পীদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই তিন নতুন মুখের গল্প মিলিয়ে ক্যাফে আমব্রেলা শুধু একটি ওয়েব ফিল্ম নয়, তিনজন নতুন শিল্পীর অভিষেকের মঞ্চও বটে।
এবার ফিরে আসা যাক হলুদ-সাজের ভিডিওর প্রসঙ্গে। এই ভিডিও আর ক্যাফে আমব্রেলা, দুটোকে একসঙ্গে দেখলে তৌসিফের সাম্প্রতিক ব্যস্ততার একটা ছবি পাওয়া যায়। একদিকে তিনি একটি ওয়েব ফিল্মের মুখ্য শিল্পী হিসেবে দর্শকের সামনে এসেছেন, অন্যদিকে বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজেও তাঁকে দেখা যাচ্ছে। শোবিজে এটা খুব স্বাভাবিক, একজন জনপ্রিয় মুখ একই সময়ে নাটক, ওয়েব ফিল্ম আর বিজ্ঞাপনের কাজ করেন। কিন্তু দর্শকের চোখে এই কাজগুলো যখন আলাদা আলাদা ক্লিপ হিসেবে আসে, তখন সেগুলো মিশে যেতে পারে। হলুদ-সাজের ভিডিওর ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই হয়েছে।
এই লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি আবার একবার স্পষ্ট করে বলা যাক, যাতে কোনো ভুল ধারণা না থাকে। তৌসিফ ও সাফার হলুদ-সাজের ভিডিওটি কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানের ভিডিও নয়। এটি কোনো নতুন নাটকের দৃশ্যও নয়। এটি একটি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনচিত্র, যেখানে বিয়ের আয়োজনের পোশাক দেখানো হয়েছে। দুজনের সম্পর্ক বন্ধুত্বের। আর ভিডিওটির ভিউ সংখ্যা, প্রায় সাড়ে চার লাখ, সেটি বিজ্ঞাপনচিত্রটির জনপ্রিয়তার প্রমাণ, কোনো ব্যক্তিগত ঘটনার প্রমাণ নয়। এই তিনটি তথ্য মনে রাখলেই ভিডিওটি নিয়ে আর কোনো বিভ্রান্তি থাকার কথা নয়।
পাঠকদের জন্য প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তরগুলো এক জায়গায় সাজিয়ে দেওয়া হলো। প্রশ্ন, তৌসিফ আর সাফা কি বিয়ে করছেন। উত্তর, না, প্রতিবেদনগুলো বলছে এটি বিজ্ঞাপনচিত্র, আর দুজনের সম্পর্ক বন্ধুত্বের। প্রশ্ন, এটি কি নতুন নাটকের দৃশ্য। উত্তর, না, নাটকের দৃশ্য বলে কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়নি, বরং বিজ্ঞাপনচিত্র বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশ্ন, ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে। উত্তর, একটি রিসোর্টে, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের আদলে সাজিয়ে। প্রশ্ন, ভিডিওটি কত মানুষ দেখেছেন। উত্তর, প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রকাশের দুই দিনের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ ভিউ ছাড়িয়েছে।
আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাক। প্রশ্ন, তৌসিফকে সামনে কোথায় দেখা যাবে। উত্তর, শিহাব শাহীনের ক্যাফে আমব্রেলায়, যা আইস্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে। প্রশ্ন, ক্যাফে আমব্রেলা কী নিয়ে। উত্তর, চার জুটির চার রকম ভালোবাসার গল্প, যা একপর্যায়ে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়। প্রশ্ন, ক্যাফে আমব্রেলায় আর কারা আছেন। উত্তর, বিদুষী বর্ণিতা, নাযাহ নাওয়ার, পার্থ শেখ, আমিনা ইসলাম, আরেফিন জিলানী, সাইদুর রহমান পাভেল ও সানজিদা তাসনিম। প্রশ্ন, ক্যাফে আমব্রেলা কোথায় দেখবেন। উত্তর, আইস্ক্রিনে, আর সাবস্ক্রিপশন বা দেখার বিস্তারিত ব্যবস্থা প্ল্যাটফর্মেই যাচাই করে নেওয়া ভালো।
শেষ কথা হলো, ভাইরাল ভিডিও দেখে মুগ্ধ হওয়া দোষের নয়, কিন্তু সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে একটু যাচাই করে নেওয়া ভালো। তৌসিফ ও সাফার হলুদ-সাজের ভিডিওটি সুন্দর, তাঁদের রসায়নও দর্শকের ভালো লেগেছে, কিন্তু সেই ভালো লাগার পেছনের আসল ঘটনাটা জানলে ভিডিওটি আরও উপভোগ্য হয়। এটি একটি পোশাকের বিজ্ঞাপন, যেখানে দুই বন্ধু-শিল্পী পেশাদার কাজের অংশ হিসেবে গায়ে হলুদের সাজে হাজির হয়েছেন। আর যাঁরা তৌসিফের অভিনয় দেখতে চান, তাঁদের জন্য আসল ঠিকানা আইস্ক্রিনের ক্যাফে আমব্রেলা। ভিডিওর বিভ্রান্তি পেছনে ফেলে, এই দুটি তথ্য মনে রাখলেই যথেষ্ট।
