ঢালিউড অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন কোনো সিনেমা নয়, বরং একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করেই এই আলোচনা। ভিডিওতে দেখা যায়, মেহেদি পরানোর সময় হঠাৎ অপু বিশ্বাসকে চুমু দিচ্ছেন এক যুবক। আর সেই মুহূর্তটাই এখন সবার মুখে মুখে।
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ নভেম্বর প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, হঠাৎ চুমুতে কিছুটা চমকে যান, লজ্জা পেয়ে হেসে ওঠেন অভিনেত্রী। গতকাল শনিবার দিনভর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এরপর থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়, কে এই যুবক, আর ভিডিওটি আসলে কিসের অংশ।
জাগো নিউজের শিরোনামে ওই যুবককে আদনান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল অংশে বলা হয়েছে, মেহেদি পরানোর সময়ের দৃশ্যটাই ভাইরাল হয়েছে। বর কনের সাজে মেহেদি অনুষ্ঠানের এই দৃশ্য দেখে অনেকেই প্রথমে ভেবেছেন, এটা কি সত্যিকারের কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান? এই প্রশ্নটাই ভিডিওটিকে আরও বেশি ছড়িয়ে দিয়েছে।
এখানে একটা সতর্কতা জরুরি। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে ভিডিওটির প্রসঙ্গ, মুহূর্ত আর ছড়িয়ে পড়ার কথা আছে, কিন্তু ভিডিওটি কোনো সত্যিকারের বিয়ে, নাকি কোনো শুটিং বা প্রচারণামূলক কাজের অংশ, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। তাই ভিডিও দেখে বিয়ে বলে দাবি করা যাবে না। সোশ্যালে প্রচারণামূলক ভিডিওর অংশ বলে যে দাবি ঘুরছে, সেটাও এখনো অনুমোদিত কোনো সূত্রে নিশ্চিত হয়নি।
তাহলে ভিডিওটি ভাইরাল হলো কেন? প্রথম কারণ, মুহূর্তটা অপ্রত্যাশিত। মেহেদি পরানোর শান্ত মুহূর্তে হঠাৎ চুমু, আর অপুর চমকে যাওয়া হাসি, এই সমন্বয়টা দর্শকের চোখে আটকে যায়। দ্বিতীয় কারণ, অপু বিশ্বাস নিজেই ঢালিউডের অন্যতম আলোচিত মুখ, তাঁকে ঘিরে যেকোনো ভিডিওই দ্রুত ছড়ায়। তৃতীয় কারণ, ভিডিওর প্রসঙ্গ স্পষ্ট নয় বলে কৌতূহল বাড়ে, মানুষ জানতে চায় আসল ঘটনা কী।
অপুকে ঘিরে এই সপ্তাহে এটাই প্রথম আলোচনা নয়। হ্যালোইন উপলক্ষে কালো লেসের স্লিট গাউন, গাঢ় লাল লিপস্টিক, স্মোকি মেকআপ আর হাতে লণ্ঠন নিয়ে তাঁর রহস্যময় লুকও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরেছে, আর সেই লুক নিয়ে আলাদা প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ একই সপ্তাহে দুটি ভিন্ন ভিডিও আর ছবির কারণে অপু আলোচনার কেন্দ্রে, কিন্তু দুটি ঘটনা আলাদা, একটার সঙ্গে আরেকটাকে মেলানো ঠিক হবে না।
ভাইরাল ভিডিওর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অনুমানকে খবর বানিয়ে ফেলা। একটি ছোট ক্লিপ দেখে পুরো অনুষ্ঠান, সম্পর্ক বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এই ভিডিওর ক্ষেত্রেও তাই সত্যটা হলো, একটি মুহূর্ত ছড়িয়েছে, আর সেই মুহূর্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নের উত্তর এখনো অনুমোদিত সূত্রে আসেনি, আর সেটা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই সাংবাদিকতার সঠিক পথ।
এরপর কী হতে পারে? আদনান বা অপু নিজে যদি ভিডিওটির প্রসঙ্গ পরিষ্কার করেন, তাহলে আলোচনার মোড় বদলে যাবে। যদি এটি কোনো কাজের অংশ হয়, তাহলে সেই কাজের নাম আর উদ্দেশ্য সামনে আসবে। আর যদি এটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মুহূর্ত হয়, তাহলে সেটাও তখনই জানা যাবে। আপাতত পাঠকের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বোঝাপড়া এটাই, ভিডিওটি ভাইরাল, মুহূর্তটি আলোচিত, কিন্তু বিয়ে বা প্রচারণা, কোনো দাবিই এখনো নিশ্চিত নয়।
