বন্ধুত্ব কতটা সুন্দর এবং বিশ্বস্ত হতে পারে, তার চমৎকার উদাহরণ তৌসিফ মাহবুব ও শবনম ফারিয়া। শোবিজে তাঁদের ক্যারিয়ার প্রায় একই সময়ে শুরু হয়েছিল। দুজনের পারিবারিক বন্ধনও দারুণ। ২৭ অক্টোবর তৌসিফের জন্মদিন উপলক্ষে আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন ফারিয়া। সেখানে জানিয়েছেন অজানা কিছু কথা, যা মুহূর্তেই ভক্তদের মন ছুঁয়ে গেছে।
ফারিয়া জানান, ঢাকার বাইরে শুটিং হলে তাঁর পরিবার অনুমতি দিত না। কারণ, শুটিং থেকে ফিরতে রাত হয়ে যেত। কিন্তু সেই শুটিংয়ে যদি তৌসিফ থাকতেন, তাহলেই মিলত অনুমতি। এতটাই বিশ্বস্ত মানুষ তৌসিফ। অভিনয় শুরু করার পর বাসা থেকে ঢাকার বাইরে শুটিংয়ের অনুমতি ছিল না ফারিয়ার। শুধু তৌসিফ থাকলে তিনি অনুমতি পেতেন।
এমনকি দেশের বাইরে ফারিয়ার প্রথম শুটিংয়ের অনুমতিও মিলেছিল তৌসিফ আর সিয়াম থাকার কারণে। ওই বয়সেই তৌসিফ কতটা দায়িত্বশীল ছিলেন, সেটা বোঝা যায় ফারিয়ার আরেকটি কথায়। তাঁর মা তৌসিফকে ফারিয়ার গার্ডিয়ান বানিয়ে দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, পরিবারের চোখে তৌসিফ ছিলেন ভরসার মানুষ, যাঁর হাতে মেয়েকে নিশ্চিন্তে ছেড়ে দেওয়া যায়।
শুধু কি বন্ধুদের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল তৌসিফ? না। ফারিয়া লেখেন, তৌসিফ এখন মিডিয়ার অনেকের গার্ডিয়ান। অনেকের কাছে শোনা যায়, বিপদে পড়লে সবার আগে এগিয়ে আসেন তৌসিফ। কারো টাকার দরকার হলেও সবাই জানেন, তৌসিফকে কল করলে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করে সাহায্য করেন। ফারিয়ার ভাষায়, তৌসিফ হয়তো আরও অনেক বড় অভিনেতা হবেন, কিন্তু ব্যক্তি তৌসিফ ইতিমধ্যেই অনেক বড় হয়ে গেছেন।
তৌসিফের নানা অর্জনের কথাও উল্লেখ করেছেন ফারিয়া। তাঁর ভাষায়, তৌসিফ নির্মাতাদের ভরসার জায়গা পেয়েছেন, দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন, পরিবারের যোগ্য ছেলে হয়েছেন, আর পেয়েছেন বন্ধুদের মতো সম্পদ। জন্মদিনের শুভেচ্ছার সঙ্গে এই অর্জনগুলোর কথা তুলে ধরে ফারিয়া বুঝিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের বন্ধুত্ব শুধু শুটিংয়ের সেটে সীমাবদ্ধ নয়।
ফারিয়ার ওই পোস্টে মন্তব্য করে অনুভূতি জানিয়েছেন তৌসিফও। তিনি লেখেন, ফারিয়ার মতো বন্ধু পাওয়া কত বড় পাওয়া, তা হয়তো বলে বোঝানো যায় না। তাঁর প্রতিটা পদক্ষেপে, প্রতিটা ঠিক-ভুলে পাশে থাকেন ফারিয়া, তাঁকে বোঝেন, সাহস জোগান। মন্তব্যের শেষে তিনি ফারিয়ার মাকে সালামও দিয়েছেন।
তৌসিফের জন্মদিনে এদিন আরও এক বন্ধুর শুভেচ্ছাও আলোচনায় এসেছে। স্পর্শিয়ার বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তায় ২০০৯ সাল থেকে অমলিন বন্ধুত্বের গল্প উঠে এসেছে। ফারিয়ার পোস্টটি সেই ধারাবাহিকতায় আরেকটি দিক যোগ করেছে, আর তা হলো পরিবারের ভরসা। একজন বন্ধু যখন পরিবারের কাছেও গার্ডিয়ান হয়ে ওঠেন, তখন সেই বন্ধুত্বের গভীরতা বোঝা যায়।
এই গল্প কেন ভক্তদের ছুঁয়েছে, সেটা বোঝা কঠিন নয়। শোবিজের বন্ধুত্ব নিয়ে অনেক সময় সন্দেহের কথা শোনা যায়। কিন্তু তৌসিফ-ফারিয়ার গল্পে রয়েছে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা, পরিবারের আস্থা আর বিপদে পাশে থাকার প্রমাণ। একজন অভিনেতার বড় হওয়া শুধু পর্দার সাফল্য দিয়ে মাপা যায় না, ব্যক্তি হিসেবে কতটা ভরসার মানুষ তিনি, সেটাও এর অংশ। ফারিয়ার পোস্ট সেই কথাটাই মনে করিয়ে দিয়েছে।
