ছোটপর্দায় এখন সবচেয়ে আলোচিত মুখগুলোর একজন নাজনীন নীহা। কিন্তু বড়পর্দায় অভিষেক নিয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করতে চান না তিনি। সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা থাকলেও নিজেকে আরও প্রস্তুত করে তবেই চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করতে চান এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায় অভিনয়ের জন্য এখনো প্রস্তুত নন তিনি।
নীহা বলেন, বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমা বলতে যা বোঝায়, তাতে কাজ করার জন্য প্রস্তুত নই আমি। অবশ্যই সিনেমায় অভিনয় করব। তা এখন নয়। তাঁর মতে, নিজেকে প্রস্তুত করার এখনও অনেক বাকি। সময় হলেই সিনেমায় অভিনয় করবেন তিনি। এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বড়পর্দায় অভিষেককে তিনি শুধু নতুন একটি মাধ্যমে কাজ করা হিসেবে দেখছেন না। নিজের অভিনয়ক্ষমতা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
চলচ্চিত্রে কাজের জন্য সময় নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নীহা আরও বলেন, নাটকে অভিনয় করতে তিনি এখনো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সিনেমা বড় একটি বিষয়। সেখানে অভিনয়ের জন্য নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে কাজে নামতে চান তিনি। সে কারণে একটু সময় নিচ্ছেন। অভিনয়ের দক্ষতা আরও বাড়ানো, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরই চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করতে চান এই অভিনেত্রী।
নীহার এই অবস্থান এমন এক সময়ে এলো, যখন তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। সম্প্রতি জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন 'ভালো আছো তো' নাটকে। জাকারিয়া সৌখিন পরিচালিত নাটকটি সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশের পর দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে দুই অভিনয়শিল্পীর রসায়ন দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে। প্রকাশের মাত্র দুই দিনে নাটকটি এক কোটি ভিউ অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে।
'ভালো আছো তো'র সাফল্যের পর অপূর্বর সঙ্গেই নীহার পরের কাজ নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শুটিং শেষ হওয়া 'ত্রিভুজ' নাটকটি আসছে শিগগিরই। সেখানে অপূর্বর পাশাপাশি ইমতিয়াজ বর্ষণও রয়েছেন। ফলে ছোটপর্দায় নীহার হাতে এখন কাজের অভাব নেই, বরং একের পর এক আলোচিত কাজ আসছে।
এর পাশাপাশি ভিন্ন একটি চরিত্রে দর্শকের সামনে আসার সুযোগও পাচ্ছেন তিনি। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের 'ইনস্টাগ্রাম' শিরোনামের ইউটিউব চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন নীহা। এতে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন খায়রুল বাসার। বিভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিসর বাড়াতে চান তিনি।
নীহার ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে এই ধীরস্থির অবস্থানটা আরও পরিষ্কার হয়। ছোটপর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। 'ভালো আছো তো'র মতো কাজ তাঁকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কিন্তু সেই সাফল্যের চাপে তাড়াহুড়ো করে সিনেমায় নামার বদলে তিনি প্রস্তুতিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটা এমন এক সিদ্ধান্ত, যা অনেক তরুণ অভিনয়শিল্পী নিতে পারেন না।
দর্শকের দিক থেকেও এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। নীহার ভক্তরা তাঁকে বড়পর্দায় দেখতে চান, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ভুল গল্প বা ভুল চরিত্র দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হলে সেই আগ্রহই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নীহা নিজেও সেটা বোঝেন বলেই উপযুক্ত গল্প, চরিত্র এবং নিজের প্রস্তুতি, সবকিছু অনুকূলে এলেই চলচ্চিত্রে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
চলচ্চিত্রে অভিষেকের বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি নীহা। ফলে বড়পর্দায় তাঁকে কবে দেখা যাবে, তা নিয়ে আপাতত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সিনেমায় অভিনয়ের ইচ্ছা যে রয়েছে, তা পরিষ্কার করেছেন তিনি।
এরপর কী, সেটা এখন তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, উপযুক্ত গল্প ও চরিত্র। দ্বিতীয়ত, নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। তৃতীয়ত, সঠিক সময়। এই তিনটি মিললেই নীহার বড়পর্দার অভিষেক হবে। তার আগ পর্যন্ত ছোটপর্দায় নিয়মিত অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতেই মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। দর্শকের জন্য আপাতত অপেক্ষাটাই খবর, আর সেই অপেক্ষার মধ্যেই রয়েছে তাঁর পরের চমকের ইঙ্গিত।
