বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ওয়েব সিরিজ

সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ গাইড: আফরান নিশোর আদনান, জিশার মৃত্যুর রহস্য, চরকিতে কোথায় দেখবেন

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩ নভেম্বর ২০২৬7 মিনিটে পড়ুন
সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ গাইডের নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

বাংলাদেশের ওয়েব সিরিজের ইতিহাসে সিন্ডিকেট একটি আলাদা নাম। শিহাব শাহীন নির্মিত এই ক্রাইম থ্রিলার মুক্তির রাতেই দর্শকের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিল, আর সেই আলোচনা শুধু একটি ভালো সিরিজের প্রশংসায় থেমে থাকেনি, বরং একটি নতুন ধরনের গল্প বলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। আফরান নিশো এখানে আদনান নামের এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যাঁকে একই সঙ্গে প্রেমিক, রহস্যময় মানুষ আর সত্যের সন্ধানকারী হিসেবে দেখা যায়। একটি ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যুকে ঘিরে গল্প শুরু হয়, কিন্তু গল্প যত এগোয়, ততই বোঝা যায় যে এই মৃত্যু শুধু একটি ঘটনা নয়, তার পেছনে আছে ক্ষমতা, দুর্নীতি আর চাপা সত্যের একটি জাল। এই গাইডে সিন্ডিকেটের গল্প, চরিত্র, পর্ব, দেখার উপায় আর দর্শক প্রতিক্রিয়া এক জায়গায় সাজানো হলো, শেষটা না ফাঁস করে।

গল্পের শুরুটা খুব সরল, কিন্তু ভেতরটা সরল নয়। দিনের বেলায় একটি স্বনামধন্য ব্যাংকের ছাদ থেকে পড়ে মারা যান ব্যাংক কর্মকর্তা জিশা। সবাই ধরে নেয় এটি আত্মহত্যা। কিন্তু জিশার প্রেমিক ও সহকর্মী আদনান এই ব্যাখ্যা মানতে পারেন না। তাঁর ধারণা, জিশাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। আরেক সহকর্মী স্বর্ণাকে সঙ্গে নিয়ে আদনান সত্য উদঘাটনে নেমে পড়েন। চরকির অফিসিয়াল পেজে গল্পের এই মূল কাঠামোটাই দেওয়া আছে, আর এখান থেকেই সিরিজের মূল প্রশ্ন দাঁড়ায়, জিশা আসলে কী জানতেন, আর কারা চাইছিল সেই জানা চাপা থাকুক।

আদনান চরিত্রটি সিন্ডিকেটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। প্রথম আলোর ১১ জুলাই ২০২২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চরিত্রে আফরান নিশোর উপস্থিতিই ছিল সিরিজের মূল চমক। ছোট চুল, হালকা দাড়ি আর মেঘলা চোখের আদনান কখনো প্রেমিকের মতো নরম, কখনো আবার চুপচাপ আর রহস্যময়। দর্শকের মতে, অ্যাসপারগার সিনড্রোমে আক্রান্ত একজন মানুষের চরিত্রে নিশো পুরোপুরি সফল হয়েছিলেন। এই চরিত্রের বিশেষত্ব হলো, তিনি সাধারণ গোয়েন্দার মতো আচরণ করেন না। তিনি নিজের মতো করে ভাবেন, নিজের মতো করে সূত্র জোড়া দেন, আর সেই ভিন্নভাবে ভাবার ক্ষমতাই তাঁকে সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

জিশা আর স্বর্ণা, এই দুটি চরিত্র গল্পের দুই প্রান্ত ধরে রাখে। জিশা গল্পের শুরুতে মারা গেলেও, তাঁর জীবনের লুকানো দিকগুলোই আসলে গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তিনি কী দেখেছিলেন, কী জানতেন, কার সঙ্গে তাঁর টানাপোড়েন ছিল, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই আদনান একটি বড় চক্রের মুখোমুখি হন। স্বর্ণা সেই যাত্রায় আদনানের সঙ্গী, সহকর্মী আর বাস্তবের সঙ্গে সংযোগ। জিশার চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, আর স্বর্ণার চরিত্রে তাসনিয়া ফারিণ। তাঁদের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, রাশেদ মামুন অপু, নাসির উদ্দিন খানসহ অনেকে, এমনটাই চরকির অফিসিয়াল পেজের কাস্ট তালিকায় আছে।

নির্মাতা শিহাব শাহীন এই সিরিজের লেখকও। অর্থাৎ গল্প, চরিত্র আর পর্বের কাঠামো, সবকিছু একই হাত থেকে এসেছে। চরকির জন্য তিনি এর আগে মরীচিকাও নির্মাণ করেছিলেন বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। সিন্ডিকেটে তাঁর নির্মাণের ধরন হলো ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানো। প্রতিটি পর্বে একটি করে নতুন সূত্র আসে, একটি করে পুরোনো ধারণা ভেঙে যায়, আর দর্শককে পরের পর্বের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ধরনের গল্পে শেষ পর্ব পর্যন্ত ধৈর্য ধরে দেখা জরুরি, কারণ শুরুর দিকে যা সহজ মনে হয়, শেষের দিকে তার অর্থ বদলে যেতে পারে।

সিন্ডিকেট মোট ৭ পর্বের একটি সিজনের সিরিজ। চরকির অফিসিয়াল পেজ অনুযায়ী এর ঘরানা থ্রিলার, ক্রাইম আর হত্যা রহস্য, আর এটি ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য নির্ধারিত। পর্বগুলোর দৈর্ঘ্য ২৮ মিনিট থেকে ৪৪ মিনিটের মধ্যে, সব মিলিয়ে পুরো সিরিজ দেখতে প্রায় চার ঘণ্টা লাগে। অর্থাৎ এক সন্ধ্যায় বা দুই দিনে ভাগ করে পুরো গল্প শেষ করা যায়। পর্বের সংখ্যা কম বলে গল্পে অপ্রয়োজনীয় টানাটানি নেই, প্রতিটি পর্বই মূল রহস্যের সঙ্গে যুক্ত। যাঁরা লম্বা সিরিজে সময় দিতে চান না কিন্তু একটি সম্পূর্ণ থ্রিলার দেখতে চান, তাঁদের জন্য এই দৈর্ঘ্য একটি বড় সুবিধা।

সিরিজটি মুক্তি পেয়েছিল ২০২২ সালের ১০ জুলাই, ঈদুল আজহার দিন রাত ৮টায়, চরকিতে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তির পর রাত থেকেই দর্শকের আলোচনা শুরু হয়, আর সেই আলোচনা ভোর পেরিয়ে সকাল পর্যন্ত বাড়তে থাকে। ফেসবুকের নাটক আর সিনেমা সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোতে শত শত পোস্ট হয়েছিল সিন্ডিকেট নিয়ে। দর্শকদের দেওয়া রেটিংয়ের মধ্যে ১০-এ ১০, ৯.৫, অনেকের ৯ আর কারও কারও ৮, সব ধরনের সংখ্যাই ছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, সিরিজটি শুধু দেখা হয়নি, তা নিয়ে তর্ক, প্রশংসা আর বিশ্লেষণও হয়েছিল।

দর্শক কেন সিন্ডিকেটকে এতটা পছন্দ করেছিলেন, তার কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্রাইম থ্রিলার, রোমান্স আর মনস্তাত্ত্বিক গল্পের এই মিশ্রণ তখন খুব বেশি দেখা যায়নি। দ্বিতীয়ত, নিশোর আদনান চরিত্রটি ছিল প্রচলিত নায়কের ছকের বাইরে। তৃতীয়ত, শিহাব শাহীনের গল্প বলার ধরন দর্শককে অনুমান করতে বাধ্য করেছে, শেষটা আগেভাগে আন্দাজ করা সহজ ছিল না। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দর্শকের প্রশংসার সুরে শাহীনের নির্মাণ আর গল্প বলার ধরনের কথা বিশেষভাবে এসেছে। এই তিনটি কারণ মিলিয়েই সিন্ডিকেট একটি মাস্ট ওয়াচ কাজ হিসেবে দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়েছিল।

সিন্ডিকেট দেখার একমাত্র বৈধ ঠিকানা চরকি। সিরিজটি চরকির অরিজিনাল কাজ, তাই চরকির অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকেই দেখতে হবে। চরকির সাবস্ক্রিপশন নিয়ে দেখা যায়, আর পর্বগুলো সেখানেই সাজানো আছে। এখানে একটি সতর্কতা জরুরি, সিন্ডিকেটের পূর্ণ পর্বের অনানুষ্ঠানিক আপলোড বা ডাউনলোড লিংক খোঁজা উচিত নয়। বৈধ উপায়ে দেখলে নির্মাতা আর প্ল্যাটফর্ম, দুই পক্ষই পরের কাজের জন্য উৎসাহ পান। আর চরকিতে দেখার আরেকটি সুবিধা হলো, পর্বের ক্রম, দৈর্ঘ্য আর সাবটাইটেল সংক্রান্ত তথ্য সেখানেই ঠিকঠাক পাওয়া যায়।

সিন্ডিকেট দেখার আগে যা মনে রাখা ভালো, তা হলো এটি একটি প্রাপ্তবয়স্কদের থ্রিলার। হত্যা, রহস্য আর দুর্নীতির প্রসঙ্গ গল্পের কেন্দ্রে আছে, তাই হালকা মেজাজের বিনোদন খুঁজলে এই সিরিজটি সেই প্রত্যাশা পূরণ করবে না। বরং মনোযোগ দিয়ে দেখলে প্রতিটি পর্বের ছোট ছোট ইঙ্গিত কাজে লাগে। প্রথম পর্বে জিশার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ধরে নেওয়ার যে সহজ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা নিয়েই আদনানের সন্দেহ, আর সেই সন্দেহ থেকেই গল্পের আসল যাত্রা শুরু। দর্শক হিসেবে আদনানের সঙ্গে সঙ্গে সূত্রগুলো মেলাতে পারলে সিরিজটি আরও উপভোগ্য হয়।

সিন্ডিকেটের পর কী দেখবেন, এই প্রশ্নের একটি সহজ উত্তর হলো শিহাব শাহীনের আগের চরকি কাজ মরীচিকা। এছাড়া চরকিতে আফরান নিশোর অন্যান্য থ্রিলার কাজও দেখা যায়, তবে এই গাইডে শুধু যাচাই করা সংযোগটাই উল্লেখ করা হলো। সিন্ডিকেটের দ্বিতীয় সিজন নিয়ে এই গাইড লেখার সময় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যাচাই করা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি, তাই দ্বিতীয় সিজন আসছে বলে দাবি করা ঠিক হবে না। চরকি বা নির্মাতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে তখনই তা নিশ্চিত খবর হিসেবে ধরা যাবে।

সব মিলিয়ে সিন্ডিকেট এমন একটি সিরিজ, যা একটি মৃত্যুর রহস্য দিয়ে শুরু হয়ে ক্ষমতার একটি চক্রের দিকে এগিয়ে যায়। আদনানের ভিন্নভাবে ভাবার ক্ষমতা, জিশার লুকানো সত্য আর স্বর্ণার সঙ্গ, এই তিনটি উপাদান গল্পকে টেনে নিয়ে যায়। ৭ পর্বের ছোট কাঠামো, চরকিতে সহজলভ্যতা আর মুক্তির সময়ের ব্যাপক দর্শক প্রতিক্রিয়া, সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের ওয়েব সিরিজ দেখার তালিকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। যাঁরা এখনো দেখেননি, তাঁদের জন্য সিন্ডিকেট একটি সম্পূর্ণ, শেষ পর্যন্ত টানটান থাকা থ্রিলার হিসেবে দেখার মতো।

সিন্ডিকেট নামটি নিজেই গল্পের ইঙ্গিত দেয়। সিন্ডিকেট বলতে বোঝায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যেখানে কয়েকজন মানুষ নিজেদের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করে। এই সিরিজে আদনান যতই সত্যের কাছাকাছি যান, ততই বোঝা যায় যে জিশার মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তার পেছনে আছে এমন একটি চক্র, যার সদস্যরা নিজেদের বাঁচাতে যেকোনো কিছু করতে পারে। ব্যাংকের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এই চক্রের উপস্থিতি গল্পকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে, কারণ দর্শক বুঝতে পারেন যে সত্য লুকানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের ভেতরের মানুষই কাজ করছে। এই কারণেই সিরিজের নামটি শুধু শিরোনাম নয়, গল্পের মূল প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত।

দেখার পরিকল্পনা হিসেবে সিন্ডিকেটকে দুই ভাগে ভাগ করে দেখা সুবিধাজনক। প্রথম দিনে প্রথম তিনটি পর্ব দেখলে গল্পের মূল চরিত্র আর সন্দেহের কাঠামো পরিষ্কার হয়, আর পরের দিনে বাকি চারটি পর্ব দেখলে রহস্যের জট খুলতে থাকে। শেষ পর্বটি সবচেয়ে লম্বা, ৪৪ মিনিটের, তাই শেষ পর্বের জন্য একটানা সময় রাখা ভালো। চরকির পেজে প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য আলাদাভাবে দেওয়া আছে, তাই নিজের সময় অনুযায়ী পর্ব সাজিয়ে নেওয়া যায়। একটানা দেখলে মোট প্রায় চার ঘণ্টা লাগবে, আর ভাগ করে দেখলে দুই সন্ধ্যায় পুরো গল্প শেষ করা যাবে।

প্রশ্নোত্তরে সংক্ষেপে, সিন্ডিকেট কী, শিহাব শাহীনের ৭ পর্বের ক্রাইম থ্রিলার, চরকি অরিজিনাল। কারা আছেন, প্রধান চরিত্র আদনান, অভিনয়ে আফরান নিশো, সঙ্গে নাজিফা তুষি, তাসনিয়া ফারিণ, শতাব্দী ওয়াদুদ, রাশেদ মামুন অপু, নাসির উদ্দিন খানসহ অনেকে। কবে মুক্তি পেয়েছিল, ২০২২ সালের ১০ জুলাই ঈদের দিন রাত ৮টায়। কোথায় দেখবেন, শুধু চরকিতে, বৈধ সাবস্ক্রিপশনে। কত সময় লাগবে, পর্বভেদে ২৮ থেকে ৪৪ মিনিট, মোট প্রায় চার ঘণ্টা। দ্বিতীয় সিজন কি আসছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এই তথ্যগুলো মাথায় রেখে সিন্ডিকেট দেখলে গল্পের রহস্যটা আরও পরিষ্কারভাবে ধরা দেবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন