বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ওয়েব সিরিজ

দ্য ডিপ্লোম্যাট সিজন ৫ কবে আসবে: নেটফ্লিক্সের ঘোষণা, সিজন ৪-এর শেষটা, কাস্ট আর যা জানা গেছে

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩ নভেম্বর ২০২৬8 মিনিটে পড়ুন
দ্য ডিপ্লোম্যাট সিজন ৫ নিয়ে নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

নেটফ্লিক্সের রাজনৈতিক থ্রিলার দ্য ডিপ্লোম্যাট আরও এক মৌসুমের জন্য ফিরছে। চতুর্থ মৌসুম মুক্তির পরপরই পঞ্চম মৌসুম নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে নেটফ্লিক্স, আর সেই খবর বাংলাদেশের দর্শকের কাছেও পৌঁছেছে কালের কণ্ঠের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনে। ঘোষণাটি আসে ২৯ অক্টোবর, অর্থাৎ চতুর্থ মৌসুম আসার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায়। সাধারণত কোনো সিরিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো দর্শকের সাড়া দেখে কিছুটা সময় নেয়, কিন্তু দ্য ডিপ্লোম্যাটের ক্ষেত্রে চতুর্থ মৌসুমের চার্ট সাফল্যই সিদ্ধান্তটিকে দ্রুত করে দিয়েছে। এই গাইডে থাকছে পঞ্চম মৌসুম নিয়ে যা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা গেছে, চতুর্থ মৌসুমের শেষটা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, পুরো সিরিজের যাত্রা, কাস্ট আর কবে নতুন মৌসুম আসতে পারে, সেই প্রশ্নের সৎ উত্তর।

প্রথমেই পরিষ্কার করে দেওয়া যাক, পঞ্চম মৌসুমের ঘোষণা মানেই মুক্তির তারিখ ঘোষণা নয়। নেটফ্লিক্স এখনো জানায়নি পঞ্চম মৌসুম কবে আসবে, গল্প ঠিক কোন দিকে যাবে, বা নতুন মৌসুমে কটি পর্ব থাকবে। বিবিসির বরাতে বাংলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মৌসুমের ঘোষণা আসলেও গল্প কেমন হবে, সে আভাস মেলেনি। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনেও একই ইঙ্গিত আছে, সিরিজের কেন্দ্রে থাকা দুই দম্পতির সম্পর্কের জটিলতা ঘিরে নাটকীয়তা অব্যাহত থাকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এখনো পর্যন্ত যা নিশ্চিত, তা হলো সিরিজটি চলবে, আর বাকিটা অনুমান আর অপেক্ষার বিষয়। এই পার্থক্যটা মাথায় রাখা জরুরি, কারণ ইন্টারনেটে এরই মধ্যে পঞ্চম মৌসুমের গল্প নিয়ে নানা দাবি ঘুরছে, যেগুলোর বেশিরভাগই আনুষ্ঠানিক নয়।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের গল্পের কেন্দ্রে আছেন কেট ওয়াইলার, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের একজন ক্যারিয়ার কূটনীতিক। কেরি রাসেল এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কেটের স্বামী হ্যাল ওয়াইলার, যিনি একসময় রাষ্ট্রদূত ছিলেন আর এখন ভাইস প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় আছেন, সেই চরিত্রে আছেন রুফাস সিউয়েল। তাদের দাম্পত্য জীবন আর পেশাগত জীবন সিরিজজুড়ে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, আর সেই টানাপোড়েনই গল্পের মূল চালিকাশক্তি। কূটনীতির জগতে প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত স্বার্থ, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর আন্তর্জাতিক সংকট একসঙ্গে কাজ করে, আর দ্য ডিপ্লোম্যাট ঠিক সেই জটিল জায়গাটাতেই দাঁড়িয়ে গল্প বলে।

কাস্টের বাকি অংশটাও সিরিজের শক্তির বড় কারণ। প্রেসিডেন্ট গ্রেসের চরিত্রে আছেন অ্যালিসন জেনি, আর টড পেনের চরিত্রে আছেন ব্র্যাডলি হুইটফোর্ড। মজার বিষয়, দ্য ওয়েস্ট উইংয়ের পর আবারও এক ফ্রেমে এসেছেন এই দুজন, যা পুরোনো দর্শকের কাছে আলাদা নস্টালজিয়া এনে দেয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন অ্যাটো এসান্দো, আলি আন আর নানা মেনসা। সিরিজটি নির্মাণ করেছেন ডেবোরা কান, আর নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে রাসেলের সঙ্গে যুক্ত আছেন জেনিস উইলিয়ামস, অ্যালেক্স গ্রেভস, পিটার নোয়া আর এলি অ্যাটি। এই দলটির হাতেই সিরিজের রাজনৈতিক থ্রিলার আর ব্যক্তিগত নাটকের ভারসাম্য তৈরি হয়েছে, যা দর্শককে চারটি মৌসুম ধরে ধরে রেখেছে।

সিরিজের যাত্রাটা শুরু হয় ২০২৩ সালে। প্রথম মৌসুম মুক্তির প্রথম চার সপ্তাহে নেটফ্লিক্সে ১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার ঘণ্টারও বেশি দেখা হয়, যা একজন নতুন সিরিজের জন্য বিরাট সাফল্য ছিল। দ্বিতীয় মৌসুমটিও টানা চার সপ্তাহ ধরে ছিল বৈশ্বিক শীর্ষ দশের তালিকায়। তৃতীয় মৌসুমে অভিনয়ের সুবাদে স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার পান কেরি রাসেল, আর একই মৌসুমে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর এমি জেতেন অ্যালিসন জেনি। সেরা ড্রামা সিরিজসহ মোট সাতটি ক্যাটাগরিতে এমির মনোনয়নও পায় সিরিজটি। এছাড়া কেরি রাসেল এমি আর গোল্ডেন গ্লোবসহ বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছেন। এই পুরস্কার আর মনোনয়নের তালিকা বোঝায়, দ্য ডিপ্লোম্যাট শুধু জনপ্রিয়ই নয়, সমালোচকদের কাছেও গুরুত্ব পাওয়া একটি সিরিজ।

চতুর্থ মৌসুম আসে ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর। মুক্তির পরপরই তা আবার চার্টে উঠে আসে, দ্বিতীয় সপ্তাহেই বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় তিন নম্বরে উঠে আসে আর ৬৩টি দেশে শীর্ষ দশের মধ্যে স্থান করে নেয়। ট্রেড প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রথম সপ্তাহে সিরিজটি প্রায় ৪৮ লাখ ভিউ পায়, আর দ্বিতীয় সপ্তাহ শেষে তা ১ কোটির বেশি ভিউ ছাড়িয়ে যায়। এই সংখ্যাগুলো ব্যাখ্যা করে কেন নেটফ্লিক্স সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেনি। এর আগেও নেটফ্লিক্স একই কৌশল নিয়েছিল, তৃতীয় মৌসুম মুক্তির আগেই চতুর্থ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল তারা। অর্থাৎ সিরিজের প্রতি প্ল্যাটফর্মের আস্থা নতুন নয়, চতুর্থ মৌসুমের সাফল্য শুধু সেই আস্থাকে আরও মজবুত করেছে।

চতুর্থ মৌসুমের শেষটা নিয়ে বিস্তারিত স্পয়লার না দিয়ে যতটুকু প্রতিবেদনে এসেছে, ততটুকু বলা যাক। বাংলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী চতুর্থ মৌসুমের ইতি টানা হয়েছিল এক চরম নাটকীয় মুহূর্তে, যেখানে দুই দম্পতির ব্যক্তিগত আর রাজনৈতিক টানাপোড়েন চরম রূপ নেয়। আমেরিকা আর যুক্তরাজ্যের ভঙ্গুর কূটনৈতিক পরিস্থিতি আর কেটের টালমাটাল বৈবাহিক জীবন এক বিপর্যয়কর মুহূর্তে ভেঙে পড়ে। সেই সংকট সামাল দিতে কেটের চেষ্টার মধ্যেই রাশিয়ার শক্তিশালী অস্ত্র হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্রে নামেন প্রেসিডেন্ট গ্রেস আর ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যাল, যা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দেয়। ক্ষমতার এই ভারসাম্য রক্ষা করতে তখন বাধ্য হয়ে জোট বাঁধেন কেট আর টড। এই শেষটা থেকেই বোঝা যায়, পঞ্চম মৌসুমে গল্পের সামনে অন্তত দুটি বড় প্রশ্ন থাকবে, যুদ্ধের দ্বারপ্রান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ফিরবে, আর কেট ও টডের এই অসম্ভব জোট কতদিন টিকবে।

পঞ্চম মৌসুমের গল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও ট্রেড প্রতিবেদনে একটি ইঙ্গিত এসেছে, নতুন মৌসুমে দেখা যাবে কেটের জীবন কেমন হয়, যখন তিনি আর রাষ্ট্রদূত থাকেন না। এই ইঙ্গিতটি যদি সত্যি হয়, তাহলে পঞ্চম মৌসুম সিরিজের ধরনটাই কিছুটা বদলে দিতে পারে, কারণ এতদিন কেটের পরিচয় আর ক্ষমতার উৎস ছিল তার রাষ্ট্রদূতের পদ। পদ ছাড়া একজন কূটনীতিকের গল্প কীভাবে বলা হবে, সেটাই হবে নতুন মৌসুমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রশ্ন। তবে আবারও মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, এটি ট্রেড প্রতিবেদনের ইঙ্গিত, নেটফ্লিক্সের আনুষ্ঠানিক গল্প সারাংশ নয়। আনুষ্ঠানিক ট্রেলার বা সারাংশ এলে তবেই গল্পের দিকটি নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

এবার সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন, পঞ্চম মৌসুম কবে আসবে। এর সরাসরি উত্তর হলো, এখনো জানা যায়নি। নেটফ্লিক্স কোনো মুক্তির জানালা ঘোষণা করেনি। তবে সিরিজের নির্মাণ ছন্দ দেখে একটি ধারণা করা যায়। চতুর্থ মৌসুমের শুটিং থেকে মুক্তি পর্যন্ত সময় লেগেছিল প্রায় এক বছর, আর পঞ্চম মৌসুমের শুটিং ২০২৭ সালের আগে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ট্রেড প্রতিবেদনে মনে করা হচ্ছে। সেই হিসেবে ২০২৭ সালের শেষ বা ২০২৮ সালের শুরুর দিকে নতুন মৌসুম আসতে পারে, তবে এটি শুধুই অনুমানভিত্তিক হিসাব, ঘোষণা নয়। যারা খবর পড়ে ২০২৭ সালেই পঞ্চম মৌসুম আসছে বলে ধরে নিচ্ছেন, তাদের জন্য সতর্কবার্তা হলো, নেটফ্লিক্সের তরফে এখনো এমন কোনো তারিখ আসেনি।

পঞ্চম মৌসুমই কি শেষ মৌসুম, এই প্রশ্নের উত্তরও এখনো আসেনি। ট্রেড প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঞ্চম মৌসুমকে শেষ মৌসুম হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। অর্থাৎ গল্পের প্রয়োজনে আরও মৌসুম আসার দরজা খোলা আছে, আবার পঞ্চম মৌসুমেই গল্প শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও পরে আসতে পারে। সিরিজের নির্মাতা ডেবোরা কান আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি জানেন চরিত্রগুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, কিন্তু সেখানে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, তা জানেন না। এই মন্তব্যটি বোঝায়, গল্পের শেষ গন্তব্য হয়তো ঠিক করা আছে, কিন্তু যাত্রার দৈর্ঘ্য নয়। দর্শক হিসেবে তাই পঞ্চম মৌসুমকে শেষ ভেবে দেখা ঠিক হবে না, আবার অনন্তকাল চলবে ভাবাও ঠিক হবে না।

যারা এখনো সিরিজটি দেখেননি বা মাঝপথে থেমে আছেন, তাদের জন্য দেখার পরিকল্পনাটা সহজ। সিরিজের সবগুলো মৌসুম নেটফ্লিক্সে দেখা যাচ্ছে, অর্থাৎ প্রথম থেকে চতুর্থ মৌসুম পর্যন্ত একটানা দেখে নেওয়া যাবে। গল্পের ধারাবাহিকতা বোঝার জন্য মৌসুমের ক্রম মেনে দেখাই ভালো, কারণ প্রতিটি মৌসুমের শেষ পরের মৌসুমের শুরুকে তৈরি করে দেয়। চতুর্থ মৌসুমের শেষের নাটকীয় মোড় বুঝতে হলে আগের মৌসুমগুলোতে কেট, হ্যাল, গ্রেস আর টডের সম্পর্ক কীভাবে বদলেছে, তা জানা দরকার। নতুন দর্শকদের জন্য সুখবর হলো, পঞ্চম মৌসুম আসতে এখনো সময় আছে, তাই তাড়াহুড়ো ছাড়াই চারটি মৌসুম দেখে নেওয়ার সুযোগ আছে।

বাংলাদেশের দর্শকের জন্য দেখার উপায়টাও পরিষ্কার। দ্য ডিপ্লোম্যাট নেটফ্লিক্সের নিজস্ব সিরিজ, তাই বৈধভাবে দেখতে হলে নেটফ্লিক্স সাবস্ক্রিপশন লাগবে। সিরিজটি অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে দেখার বৈধ উপায় নেই, আর পাইরেসি বা অননুমোদিত লিংকের দিকে যাওয়া উচিত নয়। নেটফ্লিক্স অ্যাপে মৌসুম আর পর্বের তালিকা, সাবটাইটেল আর অডিও অপশন দেখে নেওয়া যাবে। পঞ্চম মৌসুম এলে তা একই প্ল্যাটফর্মেই আসবে, আলাদা করে কোথাও খুঁজতে হবে না। যারা সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হলো, পঞ্চম মৌসুমের তারিখ ঘোষণা হওয়ার আগেই আগের মৌসুমগুলো দেখে নিলে অপেক্ষাটা অনেক সহজ হবে।

সবশেষে প্রশ্নোত্তরে পুরো বিষয়টি গুছিয়ে দেওয়া যাক। দ্য ডিপ্লোম্যাট সিজন ৫ কি নিশ্চিত, হ্যাঁ, নেটফ্লিক্স ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পঞ্চম মৌসুম নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। কবে আসবে, এখনো ঘোষণা হয়নি, ট্রেড অনুমান অনুযায়ী ২০২৭ সালের শেষ বা ২০২৮ সালের দিকে আসতে পারে। গল্প কী হবে, আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি, তবে কেটের রাষ্ট্রদূতের পদ ছাড়া জীবন আর কেট টড জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইঙ্গিত আছে। কারা থাকছেন, কেরি রাসেল, রুফাস সিউয়েল, অ্যালিসন জেনি আর ব্র্যাডলি হুইটফোর্ডের ফেরা প্রত্যাশিত, তবে আনুষ্ঠানিক কাস্ট তালিকা এখনো আসেনি। আর এখন কী দেখবেন, নেটফ্লিক্সে প্রথম থেকে চতুর্থ মৌসুম। এই উত্তরগুলোর বাইরে যা কিছু শোনা যাচ্ছে, তা আপাতত গুঞ্জন হিসেবেই ধরতে হবে, আর আনুষ্ঠানিক আপডেট এলে সেই খবরই হবে পরের গাইডের বিষয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন