একসময় টিভি নাটক, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করতেন সমু চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে তিনি অভিনয় থেকে দূরে আছেন। সম্প্রতি তাঁর অসংলগ্ন অবস্থার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এবার সেই উদ্বেগের জবাবে এগিয়ে এল অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানিয়েছে, সমু চৌধুরীর চিকিৎসার দায়িত্ব তারা নিচ্ছে, আর চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করবে সংঘ নিজেই।
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, সমু চৌধুরীর পরিবারের সম্মতি পাওয়ার পর চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁর ভাষায়, সমু চৌধুরীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে আমরা প্রস্তুত। এই একটি বাক্যের মধ্যে আসলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান লুকিয়ে আছে। কারণ সংঘ অনেক আগে থেকেই চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে চেয়েছিল, কিন্তু পরিবারের সম্মতি ছাড়া সেই পথে এগোনো যাচ্ছিল না। গতকাল, অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর পরিবারের অনুমতি মেলার পরই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সমু চৌধুরীর মা জয়নব চৌধুরী সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, কয়েক বছর ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন তাঁর ছেলে। আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই তথ্যটাই পুরো ঘটনার মানবিক দিকটি স্পষ্ট করে দেয়। একজন একসময়ের পরিচিত অভিনেতা, যাঁর কাজ দর্শক মনে রেখেছে, তাঁর চিকিৎসা আটকে ছিল শুধু অর্থের অভাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, আর সেই আলোচনা থেকেই পাশে দাঁড়ানোর দাবি জোরালো হয়।
অভিনয়শিল্পী সংঘ জানিয়েছে, সমু চৌধুরীর অসুস্থতার বিষয়টি তারা আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিল। প্রায় তিন বছর আগে তাঁর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরও শিল্পীরা তাঁর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, গফরগাঁওয়ে তাঁকে অসংলগ্ন অবস্থায় পাওয়া গেলে সংঘের পক্ষ থেকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তখনই চিকিৎসার উদ্যোগ নিতে চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরিবার রাজি হয়নি। এবার পরিবারের সম্মতি মেলায় সেই পুরোনো উদ্যোগই নতুন করে এগোচ্ছে, এবার পুরো চিকিৎসা সংঘের তত্ত্বাবধানে হবে।
এই খবরটি শুধু একজন অভিনেতার চিকিৎসার খবর নয়, শিল্পীসমাজের ভেতরের দায়বদ্ধতারও খবর। এর আগে সহকর্মীরা সমু চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানিয়েছিলেন, আর চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠেছিল। এখন সংঘের ঘোষণায় সেই আকুতি একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হলো: চিকিৎসা সংঘের তত্ত্বাবধানে হবে, আর সব খরচ সংঘ বহন করবে। পরিবারের সম্মতি পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী ও পরিবারের মতামত ছাড়া কোনো উদ্যোগ টেকসই হয় না।
এরপর কী হবে, তা এখন চিকিৎসা প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। সংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। চিকিৎসা কোন পর্যায়ে আছে, কতদিন লাগবে, এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি, আর সে বিষয়ে অনুমান করে কিছু লেখা ঠিক হবে না। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার: অর্থের অভাবে চিকিৎসা আটকে থাকার যে বাধাটি ছিল, সংঘের ঘোষণায় অন্তত সেই বাধাটি সরে গেল। সহকর্মী ও ভক্তদের এখন একটাই প্রত্যাশা, সমু চৌধুরী যেন সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন, আর তাঁর চিকিৎসা যেন ধারাবাহিকভাবে চলে, একবারের ঘোষণায় থেমে না যায়।
