বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

তারকা

বোম্বে হাইকোর্টের কড়া বার্তার পর দিয়া মির্জার জবাব: জনস্বার্থের প্রচারে কখনও টাকা নিইনি

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৮ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
দিয়া মির্জা ও বোম্বে হাইকোর্টের পারিশ্রমিক বিতর্ক নিয়ে বিনোদন ঝলকের গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

জনসচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নিতে তারকারা মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দাবি করছেন, বোম্বে হাইকোর্টের এমন মন্তব্যের পর মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। তার দাবি স্পষ্ট, জনস্বার্থে পরিচালিত কোনো প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি কখনও পারিশ্রমিক নেননি। ২৮ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া তার সাক্ষাৎকারের সূত্রে এই প্রতিক্রিয়ার কথা জানানো হয়েছে। দিয়া আরও জানিয়েছেন, কে কত মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক পেয়েছেন, সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

এই বিতর্কের শুরুটা মুম্বাইয়ের বায়ুদূষণ আর নবরাত্রির সময় বাজি পোড়ানো নিয়ে সোমবারের শুনানিতে। শুনানির সময় বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি মন্তব্য করেন, তারকারা যদি বিনা পারিশ্রমিকে এগিয়ে আসতে রাজি না হন, তাহলে তাদের কাছে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আদালতের বক্তব্য, জনসচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নেওয়ার জন্য তারকাদের সরকারি অর্থ থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত নয়। বিচারপতিদের মতে, তারকারা যদি পারিশ্রমিক দাবি করেন, তাহলে তা সম্পূর্ণ ভুল পদ্ধতি। তারা এই শহরে বসবাস করেছেন এবং শহরটির কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছেন। শহরটির প্রতি যদি তাদের আপনত্বের অনুভূতি থাকে, তাহলে শহরকে কিছু ফিরিয়ে দিতে তাদের এগিয়ে আসা উচিত। এ কাজে সরকারি অর্থ অপচয় করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।

দিয়ার প্রতিক্রিয়া এই প্রেক্ষাপটেই এসেছে। তিনি বলেছেন, দূষণের মতো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এ বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হলে তারকারা নাগরিক সমাজ ও সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে বাজি পোড়ানোর বিরুদ্ধে কথা বললেই তিনি আক্রমণের শিকার হন বলেও অভিযোগ করেছেন দিয়া। তার এই অবস্থান নতুন নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বায়ুদূষণ কমানোর পক্ষে কাজ করছেন তিনি। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্ট্যাটাসে প্রতিদিনের বায়ুর গুণমান সূচক, অর্থাৎ একিউআই সংক্রান্ত আপডেট দেখা যায় বলেও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

দিয়া মির্জার পরিবেশ নিয়ে কাজের পরিধি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে সীমাবদ্ধ নয়। বায়ুদূষণ মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগকে একত্রিত করা ও সহায়তা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি, ইউএনইপি কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে, আর তিনিও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে সমস্যার গোড়ায় যে সমন্বয়ের অভাব, সেটাও চিহ্নিত করেছেন দিয়া। তার মতে, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে এবং তারা একসঙ্গে কাজ করে না। অর্থাৎ, তারকাদের পারিশ্রমিক নিয়ে বিতর্কের বাইরেও তিনি দূষণ মোকাবিলার কাঠামোগত দুর্বলতার দিকে আঙুল তুলেছেন।

আদালতের বেঞ্চ প্রয়োজনে মারাঠি অভিনেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দিয়েছে। বিচারপতিদের মতে, মারাঠি অভিনেতারা পারিশ্রমিক ছাড়াই এ ধরনের প্রচারাভিযানে অংশ নিতে সম্মত হন। এই পরামর্শের মধ্য দিয়ে আদালত একটা বিকল্প পথও দেখিয়ে দিয়েছে, তারকাদের ওপর নির্ভর না করে যারা বিনা পারিশ্রমিকে এগিয়ে আসতে রাজি, তাদের দিয়েই সচেতনতার কাজ করানো যায়। এখানেই প্রশ্নটা আরও বড় হয়ে ওঠে। জনস্বার্থের প্রচারে তারকার মুখ কতটা জরুরি, আর তার জন্য সরকারি অর্থ খরচ কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে আদালতের বার্তা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

দিয়ার বক্তব্য এই আলোচনায় একটা ব্যক্তিগত উদাহরণ যোগ করেছে। একজন তারকা যখন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, জনস্বার্থের প্রচারে তিনি কখনও টাকা নেননি, তখন বিতর্কটা শুধু আদালতের মন্তব্যে আটকে থাকে না। এটা তারকাদের ভূমিকা, সরকারের দায়িত্ব আর নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা, এই তিনের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলে। মুম্বাইয়ে বায়ুদূষণ আর বাজি পোড়ানো নিয়ে শুনানি চলতে থাকায় এই বিতর্ক সহজে থামবে বলে মনে হয় না। দর্শক আর নাগরিকদের জন্য এখন দেখার বিষয়, আদালতের বার্তার পর সচেতনতা প্রচারের ধরনে কোনো বদল আসে কি না, আর তারকারা এই বিষয়ে আরও কে কী বলেন।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন