নব্বই দশকের বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাভিনা ট্যান্ডন। সেই জনপ্রিয়তা এখনও ধরে রেখেছেন তিনি। কিন্তু নায়িকা হওয়ার আগে অভিনয়ে আসার কথা তিনি কখনও ভাবেননি বলেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। ২৮ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার শুরুর দিনগুলোর এমন এক গল্প উঠে এসেছে, যা অনেকের কাছে চমক লাগতে পারে। চলচ্চিত্র পরিচালকের মেয়ে হয়েও ক্যামেরার সামনে আসার কোনো পরিকল্পনা তার ছিল না।
রাভিনার বাবা রবি ট্যান্ডন ছিলেন পরিচিত চলচ্চিত্র পরিচালক। ফলে বলিউডের পরিবেশ তার কাছে একেবারে অচেনা ছিল না। কিন্তু চলচ্চিত্র পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও অভিনয়ের জগতে প্রবেশের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা পেয়েছিলেন, এমনটা দাবি করেননি অভিনেত্রী। বরং নিজের চেষ্টাতেই ধীরে ধীরে পথ তৈরি করেছেন তিনি। এই কথাটাই তার গল্পের কেন্দ্রে। তারকা পরিবারের সন্তান মানেই সহজ পথ, এই ধারণার উল্টো দিকটা দেখা যায় তার জীবনে।
দশম শ্রেণি পাস করার পর বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রহ্লাদ কক্করের সঙ্গে কাজ শুরু করেন রাভিনা। সেখানে ইন্টার্ন হিসেবে নানা ধরনের দায়িত্ব সামলাতে হতো তাকে। বিজ্ঞাপনের সেটে কাজ করা, স্টুডিওর মেঝে পরিষ্কার করা, এমনকি শৌচাগারের মেঝে থেকে বমি পরিষ্কার করার মতো কাজও করতে হয়েছে তাকে। এই কাজগুলো শুনতে সাধারণ মনে হলেও, এর মধ্য দিয়েই তিনি শুটিংয়ের ভেতরের জগতটা কাছ থেকে দেখেছেন। ক্যামেরার পেছনের শ্রম, সেটের শৃঙ্খলা আর প্রতিদিনের কাজের ধরন, সবই তার চোখের সামনে ঘটেছে তখন।
তখনও অভিনেত্রী হওয়ার কথা ভাবেননি রাভিনা। পর্দার পেছনে কাজ করতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন তিনি। কিন্তু একটা অপ্রত্যাশিত ঘটনা তার পথ বদলে দেয়। বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে কোনো মডেল সময়মতো পৌঁছতে না পারলে প্রহ্লাদ তাকেই সাজগোজ করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে বলতেন। এভাবেই মডেলিংয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। প্রথমে এটা ছিল প্রয়োজনের মুহূর্তে সামনে আসা, কিন্তু ধীরে ধীরে সেটাই তার নতুন পরিচয় হয়ে ওঠে।
এরপর বারবার বিনা পারিশ্রমিকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর বদলে কাজটিকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবেন রাভিনা। নিজের পকেট খরচের জন্য উপার্জনের ভাবনা থেকেই শুরু হয় মডেলিং। আর সেখান থেকেই আসে অভিনয়ের প্রস্তাব। অর্থাৎ, যে মেয়েটা ক্যামেরার সামনে আসার পরিকল্পনাই করেননি, তিনি মডেলিং দিয়ে শুরু করে অভিনয়ে পৌঁছান। ১৯৯১ সালে পাথর কে ফুল দিয়ে অভিনয়ে অভিষেকের পর নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা হয়ে ওঠেন তিনি। দিলওয়ালে, মোহরা, খিলাড়িয়োঁ কা খিলাড়ি আর জিদ্দির মতো ছবি তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার আর পদ্মশ্রীও পেয়েছেন রাভিনা।
রাভিনার এই গল্প কেন এখনও প্রাসঙ্গিক, তার কারণ সহজ। আজকের দর্শক তারকাদের শুধু পর্দার ঝলমলে দিকটাই দেখেন। কিন্তু তার শুরুর গল্প মনে করিয়ে দেয়, পর্দার পেছনের সাধারণ কাজ, ধৈর্য আর আকস্মিক সুযোগ মিলেই একটা ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে। স্টুডিওর মেঝে পরিষ্কার করা থেকে মডেলিং, আর মডেলিং থেকে অভিনয়, এই যাত্রায় কোনো ধাপই ছোট ছিল না। নায়িকা হওয়ার আগে তার এই অভিজ্ঞতা এখনকার নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্যও একটা বার্তা। স্বপ্নের পথ সবসময় সোজা হয় না, কখনও কখনও তা শুরু হয় সবচেয়ে সাধারণ কাজ দিয়েই।
