মুম্বাইয়ে গান পরিবেশনের সময় মাঝপথেই মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয় গায়িকা শিল্পা রাওয়ের। দর্শকদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সুযোগও পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানান শিল্পা। পরে আয়োজকরা ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জরুরি অবস্থা জারির কারণে পরিবেশনা অসমাপ্ত রেখেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়েছিল। এই ঘটনা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে জাস্টিস ফর শিল্পা রাও হ্যাশট্যাগও ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ অক্টোবর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সময় স্বল্পতার অজুহাতে গানের মাঝপথে তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিল্পা রাও। মঞ্চে গাইতে গাইতেই হঠাৎ গান থেমে যাওয়ায় তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। শুধু গান থামাই নয়, দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নেওয়ার সুযোগটুকুও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। একজন প্রতিষ্ঠিত গায়িকার সঙ্গে এমন আচরণকে আয়োজকদের অপেশাদারত্ব বলে সমালোচনা করছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক ও নেটিজেনদের অনেকে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা লেখেন শিল্পা। তিনি লেখেন, মুম্বাই, আজ রাতে তাঁর হৃদয়ের একটা ছোট্ট অংশ ভেঙে গেছে, এত সুন্দর একটা মুহূর্ত এভাবে কেড়ে নেওয়া খুবই কষ্টের। তবে দর্শকদের ভালোবাসায় মুগ্ধ শিল্পা। তাঁদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, গান থেমে গেলেও দর্শকরা থামেননি, তাঁরা বারবার তাঁর নাম ধরে ডাকছিলেন, তাঁদের কথায় যে ভালোবাসা ছিল, তা তিনি ভুলবেন না। আজ রাতের গল্পটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেল, তবে কথা দিচ্ছেন, তিনি আবার ফিরবেন। এই বার্তাটি দর্শকদের মধ্যে আরও সহানুভূতি তৈরি করেছে।
এই ঘটনা একা নয়, এর ঠিক আগেই আরেকটি মঞ্চ-বিতর্ক আলোচনায় এসেছিল। কয়েক দিন আগে ভারতের উত্তরাখণ্ডে গান পরিবেশনের সময় পাঞ্জাবি সংগীতশিল্পী দালের মেহেন্দিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার সঙ্গে শিল্পা রাওয়ের ঘটনা মিলিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মঞ্চে শিল্পীদের সঙ্গে আয়োজকদের আচরণ কি দিন দিন আরও অপেশাদার হয়ে উঠছে, নাকি সময় ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধের চাপে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন আয়োজকরা। দুটি ঘটনাই দেখিয়ে দিচ্ছে, মঞ্চের সময়সূচি ও প্রশাসনিক নির্দেশনা নিয়ে শিল্পী ও আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে তার মূল্য দিতে হয় শিল্পীকেই।
সমালোচনার মুখে আয়োজকরা ক্ষমা চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা জানান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জরুরি অবস্থা জারির কারণে শিল্পার পরিবেশনা অসমাপ্ত রেখেই অনুষ্ঠান শেষ করতে হয়েছিল। অর্থাৎ আয়োজকদের ভাষ্য, এটি ইচ্ছাকৃত অসম্মান নয়, বরং প্রশাসনিক নির্দেশ মানতে গিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত। তবে দর্শকদের অনেকেই এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন, তাঁদের প্রশ্ন, জরুরি অবস্থা থাকলে তা আগে থেকে শিল্পীকে জানানো এবং অন্তত বিদায় নেওয়ার এক মিনিট সময় দেওয়া কি সম্ভব ছিল না। এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি।
শিল্পা রাও বলিউডের পরিচিত কণ্ঠ, তাঁর গাওয়া বহু গান দর্শকের মুখে মুখে ফেরে। তাই মুম্বাইয়ের মঞ্চে তাঁর সঙ্গে এমন ঘটনা আলোচনায় আসাটা স্বাভাবিক। আয়োজকদের ক্ষমা চাওয়া ও শিল্পীর ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আপাতত ঘটনার একটি সমাপ্তি টানা গেছে, কিন্তু মঞ্চ-ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক থামেনি। ভবিষ্যতে কোনো অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজকদের সময়সূচি, প্রশাসনিক নির্দেশনা ও শিল্পীর সঙ্গে সমন্বয় আরও স্বচ্ছ করতে হবে, এটাই এখন দর্শকদের মূল দাবি।
