মগবাজারে নিজের গাড়িতে গুলির ঘটনায় এবার নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। শনিবার, ২৪ অক্টোবর রাতে হাতিরঝিল থানায় তিনি এই মামলা দায়ের করেন। রোববার, ২৫ অক্টোবর দুপুরে প্রকাশিত যুগান্তরের প্রতিবেদনে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান। এজাহারে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি, অজ্ঞাতনামা আসামি করেই মামলাটি করা হয়েছে। অর্থাৎ ঘটনার দুই দিনের মাথায় বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার পর্যায়ে গেল, তদন্তের আইনি ভিত্তিটাও এখন আরও স্পষ্ট।
মামলার পর তদন্তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যা জানিয়েছেন, তা থেকে বোঝা যায়, রহস্য এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাঁর ভাষ্য, পুলিশ এখনো মামলার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, ঘটনার সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিষয়টি দেখছে। ফলে মামলা হলেও আসামি শনাক্ত, উদ্দেশ্য উদ্ঘাটন এবং গ্রেপ্তার, এই ধাপগুলো এখনো বাকি। ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, গুলি কে চালাল এবং কেন।
ঘটনাটা মনে করিয়ে দেওয়া যাক। শনিবার, ২৪ অক্টোবর ভোর পৌনে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে মগবাজারের বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি করা হয়। গুলির সময় আসিফ গাড়িতে ছিলেন না, তিনি তখন বিশাল সেন্টারে অবস্থিত তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়, অর্থাৎ স্টুডিওতে ছিলেন। গাড়িতেও কেউ ছিলেন না, তাই কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে গাড়ির পেছনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে এসে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে, এরপর আবার অটোরিকশায় করেই মালিবাগের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ঘটনার পর আসিফ নিজেও মুখ খুলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি তাদের টার্গেটে ছিলেন, কিন্তু তারা সফল হয়নি। এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, বিষয়টিকে তিনি নিছক দুর্ঘটনা বা ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছেন না, বরং পরিকল্পিত হামলার চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। তাঁর স্ত্রী সালমা আসিফও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আল্লাহর হেফাজতের কথা লিখেছিলেন। অভিনেতা ওমর সানী ঘটনাটিকে অশনি সংকেত বলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ শোবিজ অঙ্গনেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ ও তদন্তের দাবি জোরালো ছিল।
তদন্তের দিক থেকে পুলিশ এরই মধ্যে কয়েকটি সূত্র ধরে এগোচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য ও জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আজকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিসিটিভিতে শুধু পায়ের ছবি ধরা পড়ার মতো সীমাবদ্ধতাও তদন্তে রয়েছে বলে আগে জানা গিয়েছিল। মামলা হওয়ার পর এখন তদন্তকারীরা আইনগতভাবে আরও বিস্তৃতভাবে এগোতে পারবেন, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে শুরু করে প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই পর্যন্ত। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের খবর আসেনি।
এই মামলার পর এখন যা যা দেখার বিষয়, তা পরিষ্কার। প্রথমত, পুলিশ অজ্ঞাতনামা আসামির পরিচয় বের করতে পারে কি না। দ্বিতীয়ত, গুলির উদ্দেশ্য কী ছিল, ব্যক্তিগত শত্রুতা, ভয় দেখানো, নাকি অন্য কোনো কারণ। তৃতীয়ত, সিসিটিভি ও কার্তুজের ফরেনসিক পরীক্ষা থেকে কোনো নতুন সূত্র মেলে কি না। আসিফের ভক্তদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর একটাই, তিনি অক্ষত আছেন এবং ঘটনার সময় গাড়িতে কেউ ছিলেন না। কিন্তু যতক্ষণ না হামলাকারী ধরা পড়ছে, ততক্ষণ এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকবেই। মামলার অগ্রগতি নিয়ে নতুন কোনো তথ্য এলেই তা জানানো হবে।
