দুর্গাপূজায় অংশ নিয়ে নাচের কারণে কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন টালিউড অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। তাঁকে মুসলিম জাতির কলঙ্ক বলেও আক্রমণ করেছেন কেউ কেউ। শুরুতে নীরব থাকলেও এবার সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, উৎসব সবার, আর ধর্মীয় উৎসব পালন করা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। এই জবাবের পর সামাজিক মাধ্যমে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে, কেউ তাঁর পাশে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ আবার সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত দুর্গাপূজার দশমীতে। সেদিন লাল পাড় সাদা শাড়ি পরে পূজামণ্ডপে যান নুসরাত। তাঁর সিঁথিতে ছিল সিঁদুর, হাতে শাঁখা। অভিনেত্রীর স্বামী যশ দাশগুপ্ত তাঁর ছবি তোলেন। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেই শুরু হয় নানা আলোচনা ও কটাক্ষ। নুসরাত জাহান আগেও পূজা ও অন্যান্য উৎসবে অংশ নেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তবে এবারের আক্রমণের ভাষা ছিল বিশেষভাবে কঠোর, ধর্মীয় পরিচয় টেনে তাঁকে কলঙ্ক বলা হয়েছে।
এবার সমালোচনার জবাবে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুসরাত লিখেছেন, উৎসব তো সকলের, তিনি চিরকাল সব উৎসব পালন করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, যারা অন্য ধর্মের হয়েও নিষ্ঠা ও বিশ্বাসের সঙ্গে মায়ের আরাধনা করেন, সিঁদুর খেলেন, তাঁদেরও জবাবদিহি করা উচিত নয়, কারণ এটা ব্যক্তিগত পছন্দ। অর্থাৎ তিনি তাঁর অবস্থানকে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার বাইরে রেখে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও উৎসবের সর্বজনীনতার জায়গা থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।
সমালোচকদের উদ্দেশে অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যের ঘরেও অনেকে নানা কথা লিখছেন। যারা নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে সব জানেন বলে মনে করেন, তাঁদের উদ্দেশেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। এই জবাবের ধরনটা লক্ষণীয়, তিনি পাল্টা গালাগালি বা ব্যক্তিগত আক্রমণে যাননি, বরং উৎসব পালনকে ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এ কারণেই তাঁর সমর্থকরা এই জবাবকে সংযত ও স্পষ্ট বলে মনে করছেন।
নুসরাত জাহানের এই বিতর্ক নতুন নয়, বরং একটি পুরোনো বিতর্কের নতুন অধ্যায়। টালিউডের এই অভিনেত্রী একসময় সাংসদও ছিলেন, আর তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক, উৎসব পালন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা প্রায়ই হয়। সিঁদুর ও শাঁখা নিয়ে প্রশ্ন আগেও উঠেছে, পূজামণ্ডপে যাওয়া নিয়েও কটাক্ষ হয়েছে। প্রতিবারই মূল প্রশ্ন একই জায়গায় এসে দাঁড়ায়, একজন মুসলিম নারী হিন্দু উৎসবে অংশ নিতে পারবেন কি না, আর সিঁদুর-শাঁখা পরা তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না। নুসরাতের এবারের জবাব সেই প্রশ্নেরই সরাসরি উত্তর, তাঁর কাছে উৎসব কোনো ধর্মীয় সীমানায় আটকে নেই।
এই ঘটনা শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জবাব নয়, বরং সামাজিক মাধ্যমে ধর্ম, উৎসব ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কেরই প্রতিফলন। এক পক্ষ মনে করেন, ধর্মীয় পরিচয় মেনে চলাই উচিত, আরেক পক্ষ মনে করেন, উৎসব পালন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। নুসরাত দ্বিতীয় পক্ষের অবস্থানই নিয়েছেন। আগামী দিনে এই বিতর্ক থামবে কি না, তা বলা কঠিন, কারণ প্রতিবার উৎসব এলেই একই প্রশ্ন নতুন করে ওঠে। তবে আপাতত নুসরাতের জবাবটি স্পষ্ট, তিনি সব উৎসব পালন করে এসেছেন, আর ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানেই থাকবেন বলেই বোঝা যাচ্ছে।
