দশেরার পুণ্যতিথিতে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে প্রার্থনার সময় আবেগে ভেঙে পড়লেন বলিউড অভিনেত্রী সারা আলি খান। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দরবার সাহিবে পবিত্র কাপড় হাতে নিয়ে অঝোরে কাঁদছেন সারা। তাঁর পাশেই দুই হাত জোড় করে প্রার্থনা করছিলেন সহ-অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানা। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
আসলে সারা ও আয়ুষ্মানের এই স্বর্ণমন্দির সফরের পেছনে রয়েছে তাঁদের আসন্ন সিনেমা। আগামী ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে তাঁদের অভিনীত ‘উড়তা তীর’। মুক্তির ঠিক আগের দিন দশেরা উপলক্ষে দুজনেই অমৃতসরে গিয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন, সিনেমাটির সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করেছেন। দুজনকেই দেখা গেছে সাদা পোশাকে, সারার মাথায় ছিল ওড়না। সফরের একটি ছবি সারা নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় ভাগ করে নিয়েছেন, ক্যাপশনে লিখেছেন শুভ দশেরার শুভেচ্ছা।
তবে ছবির চেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ভিডিওটি। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, প্রার্থনার মাঝেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সারা। স্বর্ণমন্দির দর্শনের পর তিনি তাঁর মা অমৃতা সিংকে ভিডিও কলের মাধ্যমে শ্রী হরমন্দির সাহিবের দর্শন করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মন্দির চত্বরে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পরপরই সারা আচমকা কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে।
ভিডিওটি নিয়ে নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া দুই ভাগে বিভক্ত। একদল বলছেন, মায়ের প্রতি মমতা আর আধ্যাত্মিক অনুভূতির মিলনেই এই আবেগ স্বাভাবিক। আরেক দলের মন্তব্য, সিনেমার মুক্তির ঠিক আগে এমন দৃশ্য কেবলই প্রচারণার কৌশল। কেউ কেউ আবার অভিনয় বলে কটাক্ষও করেছেন। কিন্তু সারার ভক্তরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, একজন মানুষের আবেগকে এভাবে বিচার করা ঠিক নয়।
উল্লেখ্য, ‘উড়তা তীর’ নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছে। সিনেমাটিতে আয়ুষ্মান খুরানা অভিনয় করেছেন এক পাকিস্তানি গুপ্তচরের চরিত্রে, যে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলার পর নিজের দেশ সম্পর্কেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। দেশপ্রেমের অনুভূতি থাকলেও সে কোন দেশের হয়ে কাজ করছে, তা ভুলে যায়। এই সূত্র ধরেই গল্পে তৈরি হয়েছে হাস্যরস ও দেশাত্মবোধের মিশেল। করণ জোহর, আদর পুনাওয়ালা, অপূর্ব মেহতা, গুনীত মঙ্গা কাপুর ও আচিন জৈনের প্রযোজনায়, ধর্মা প্রোডাকশনস ও শিখ্যা এন্টারটেনমেন্টের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই সিনেমা ‘পতি পত্নী অউর ওহ দো’-এর পর আয়ুষ্মান-সারা জুটিকে আবার পর্দায় ফেরাচ্ছে।
দশেরা ও সিনেমার মুক্তি একসঙ্গে মিলে যাওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সফর এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ভক্তদের একাংশ বলছেন, মুক্তির আগের দিন এমন আবেগঘন মুহূর্ত সিনেমাটির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে ‘উড়তা তীর’ মুক্তির পর বোঝা যাবে, এই আলোচনা বক্স অফিসে কতটা প্রতিফলিত হয়।
‘উড়তা তীর’ নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। মুক্তির আগেই নেপালে সিনেমাটি নিষিদ্ধ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পাকিস্তানি গুপ্তচর-কেন্দ্রিক গল্প নিয়ে আপত্তির মুখে নেপালের সেন্সর বোর্ড ছবিটিকে ছাড়পত্র দেয়নি বলে জানা গেছে। এই নিষেধাজ্ঞা সিনেমাটিকে নিয়ে আলোচনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের মধ্যে।
মুক্তির সময়সূচি অনুযায়ী আগামীকাল, ২৩ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘উড়তা তীর’। দশেরার ছুটিকে কাজে লাগিয়ে মুক্তির এই তারিখ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ‘পতি পত্নী অউর ওহ দো’-এর পর আয়ুষ্মান-সারা জুটির এই প্রত্যাবর্তন বক্স অফিসে কেমন সাড়া ফেলে, সেদিকেই এখন সবার নজর।
