বিজয়া দশমীর সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপনী আনুষ্ঠানিকতা। এরপর দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ ও সিঁদুর খেলার আয়োজনে মেতে ওঠেন ভক্তরা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখর সেই উৎসবমুখর পরিবেশেই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা গেল অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওনকে। জাগো নিউজ ২৪ আজ বুধবার দুপুরে (৩:০১) এই খবর জানিয়েছে।
মন্দির প্রাঙ্গণে একে অপরের কপালে সিঁদুর ও আবিরের রং ছড়িয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন অংশগ্রহণকারীরা। ভিড়ের মাঝে শাওনও সিঁদুর খেলায় অংশ নেন, যা উপস্থিতদের নজর কাড়ে। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বন্ধু ঈদের দিন বাসায় আসে। আমাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে। তাই তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করতে এসেছি।
মন্দিরে শাওনের সিঁদুর খেলার মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একটি জাতীয় দৈনিকের ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট করা রিলে আজ বিকেল নাগাদই হাজারখানেক প্রতিক্রিয়া ও কয়েকশ মন্তব্য জমে যায়। অনেকে সম্প্রীতির এই দৃশ্যের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ কেউ শাওনের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিনে বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের আয়োজন শেষ হয়। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা ছিল, আর রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা শোভাযাত্রায় যুক্ত হওয়ার পর ঢাকার ১১টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়ার আয়োজন ছিল।
সিঁদুর খেলা বিজয়া দশমীর অন্যতম আবেগঘন আয়োজন। দেবী দুর্গাকে সিঁদুর পরিয়ে বিদায় জানানোর পর নারীরা একে অপরের কপালে সিঁদুর ছোঁয়ান, মিষ্টিমুখ করান, শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে প্রতিবছরই এই আয়োজনে বড় ভিড় হয়, এবার সেই ভিড়ের মাঝে ছিলেন শাওনও। উৎসবের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি সবার মনে ছিল দেবী দুর্গার বিদায়ের বিষাদ, জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ আছে।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির দেশের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহাসিক পূজামণ্ডপ। বিজয়া দশমীতে সকাল থেকেই সেখানে ভক্তদের ঢল নামে। ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন হওয়ায় মন্দির প্রাঙ্গণে ছিল উৎসব, আবেগ ও বিদায়ের মিশ্র আবহ। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে সেখানেই গিয়েছিলেন শাওন, আর সেখানকার আনন্দঘন মুহূর্তই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
মেহের আফরোজ শাওন বাংলাদেশের বিনোদন জগতের সুপরিচিত মুখ। ১৯৮৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে বিটিভির নাটক স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু। ১৯৯১ সালে হুমায়ূন আহমেদের নাটক জননীতে কাজ করার পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। নক্ষত্রের রাত ও আজ রবিবার ধারাবাহিক, শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্র তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কাজ। ২০১৬ সালে কৃষ্ণপক্ষ ছবির গানের জন্য তিনি সেরা নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও সক্রিয়।
শাওন সবসময়ই সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ও স্পষ্টভাষী। এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ হয়েছিল বলে সমকালের প্রতিবেদনে জানা গেছে। তাই তাঁর যেকোনো প্রকাশ্য উপস্থিতিই নজরদারির মধ্যে থাকে। দুর্গোৎসব বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, আর সেখানে একজন জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতি ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃশ্যমান বার্তা বহন করে।
আজ রাতেই বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবীকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি সিঁদুর খেলার এই মুহূর্তগুলো সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে আরও কিছুদিন, তা অনেকটাই নিশ্চিত।
