বিনোদন ঝলক
ভ্রমণ

সাজেক থমথমে: যানবাহন চলছে না, দোকানপাট বন্ধ, কবে খুলবে পর্যটনকেন্দ্র

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৩ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
সাজেক ভ্যালির ভোরের দৃশ্য
সাজেক ভ্যালি। ছবি: Rocky Masum, Wikimedia Commons (ছবি: Rocky Masum, CC BY-SA 4.0)

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে গোলাগুলির ঘটনার পরদিনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুটি সংগঠনের ডাকা অবরোধে আজ শুক্রবারও সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে, বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। একসময়ের মুখর পর্যটনকেন্দ্রটি এখন কার্যত পর্যটকশূন্য।

আজ বেলা ১১টার দিকে বাঘাইহাট বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়কে কোনো যানবাহন চলছে না। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ; কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও সেখানে কোনো ক্রেতা দেখা যায়নি। স্বাভাবিক সময়ে ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর থাকা বাজারটি আজ প্রায় লোকশূন্য। সড়কে মানুষের যাতায়াতও কম; যাঁরা বের হয়েছেন, তাঁদের হেঁটেই গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।

বাঘাইহাট স্টেশনের লাইনম্যান মো. জসিম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করছেন, যার কারণে সাজেক সড়কে স্থানীয় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা প্রথম আলোকে বলেন, সাজেক বর্তমানে একেবারেই পর্যটকশূন্য। আগের সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। সাজেকে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না।

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, সাজেকে সড়ক অবরোধ এখনো চলমান রয়েছে। সাজেকের ১০ নম্বর ও ১৪ কিলোমিটার এলাকায় পিকেটিং চলছে বলে জানান তিনি। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামের দুটি সংগঠনের ডাকে এই অবরোধ চলছে।

পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে কথা বলে তিনি জেনেছেন, সাজেকে গতকাল যে রকম ঘটনা ঘটেছিল, আজ সে রকম পরিস্থিতি নেই। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সংগঠন দুটির তৃতীয় দফায় ডাকা অবরোধের প্রথম দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গতকাল সকাল থেকেই সাজেকের উজো বাজার এলাকায় অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী গাড়িবহর চলাচলে বাধা দেন; পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সরিয়ে দিলে গাড়িবহর এগিয়ে যায়। এরপর বেলা ১১টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন; তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউপিডিএফ।

ওই উত্তেজনার মধ্যেই গতকাল বেলা ১টার দিকে সাজেকে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ পর্যটককে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। ফেরার পথে অবরোধ ও গোলাগুলির ঘটনায় তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। আজ সকালেও এসকর্টে শেষ পর্যটকদের বের করে আনার কাজ চলে।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য রিসোর্ট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। শীত মৌসুমের পর্যটন মৌসুমের ঠিক মুখে এই সংকট স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে; আগাম বুকিং বাতিলের ঢল নেমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপাতত সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন; নতুন নির্দেশনা এলেই পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে পাহাড়ের এই জনপ্রিয় গন্তব্য।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার