টানা সপ্তম দিনের মতো আজ বুধবারও সাজেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলছে। পাঁচ দফা দাবি আদায়ে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা এই কর্মসূচিতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। যমুনা টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর সকালেও অবরোধের চিত্র একই রকম, অর্থাৎ সাজেকের সড়ক এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
অবরোধের প্রভাব পড়ছে সরাসরি সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে সড়ক যোগাযোগে। এই পথ বন্ধ থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহেও ভোগান্তি হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত রিসোর্ট, পরিবহন আর ছোট ব্যবসার চাকা থমকে থাকায় ক্ষতির বোঝা দিন দিন বাড়ছে।
সোমবার প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়। কিন্তু একটি বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। যে বিষয়টি আটকে আছে, তা হলো সাজেক থেকে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা। এই সময়সীমা নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে মতের অমিল রয়ে গেছে, আর আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে যমুনা টিভি।
পটভূমিটা সংক্ষেপে এরকম: পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ২২ অক্টোবর থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি চলছে। গতকাল ষষ্ঠ দিনেও একই অবস্থা ছিল, আর আজ সপ্তম দিনে এসেও সড়ক খোলেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল বাড়িয়েছে।
পর্যটকদের জন্য এই মুহূর্তের বার্তাটা পরিষ্কার। সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে আপাতত যাত্রা স্থগিত রাখাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত। বুকিং থাকলে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট বা ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে আগেভাগে যোগাযোগ করে রাখুন, যাতে বাতিল বা তারিখ বদলের শর্তটা জানা থাকে। প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা বা সমঝোতার খবর না আসা পর্যন্ত দীঘিনালা হয়ে সাজেকের পথে যাত্রা না করাই ভালো।
এরপর কী হবে, তা নির্ভর করছে চলমান আলোচনার ওপর। চার দফায় সমঝোতা হয়ে যাওয়ায় আলোচনার ভিত্তিটা তৈরি আছে, কিন্তু মূল একটি দাবির সময়সীমা নিয়ে সমঝোতা না হলে অবরোধ উঠছে না। নতুন কোনো বৈঠক বা সিদ্ধান্ত এলে সেটাই হবে পরের বড় আপডেট। আপাতত সপ্তম দিনের এই অবস্থাই সাজেকের সর্বশেষ চিত্র।
