বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ভ্রমণ

সাজেক অবরোধ অষ্টম দিনেও চলছে: ৪ দাবিতে সমঝোতা হলেও প্রধান দাবিতে আটকে, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে বাসিন্দারা, এখন কি যাওয়া যাবে

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৯ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
সাজেক অবরোধ আপডেটের জন্য তৈরি গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

সাজেকে সড়ক অবরোধের অষ্টম দিনেও কাটেনি অচলাবস্থা। বৃহস্পতিবার সকালে সাজেক সড়কের কয়েকটি জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেওয়া হয়েছে, আর সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। পাঁচ দফা দাবিতে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের এই অবরোধ পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।

এই অবরোধের আলোচনায় নতুন মোড় এসেছে গত সোমবারের বৈঠক থেকে। ২৬ অক্টোবর বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতাদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে পাঁচ দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

কিন্তু সমঝোতা সত্ত্বেও অবরোধ ওঠেনি, আর তার কারণ প্রধান একটি দাবি। সাজেক এলাকা থেকে জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা অংশের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের পথও তৈরি হয়নি। অর্থাৎ চারটি দাবিতে এগোনো গেলেও সবচেয়ে স্পর্শকাতর দাবিটিতেই আটকে আছে আলোচনা, আর সেই আটকে থাকার মূল্য দিতে হচ্ছে সাজেকের সাধারণ মানুষকে।

অবরোধের প্রভাব এখন শুধু পর্যটনেই সীমাবদ্ধ নেই। সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ। বন্ধ হয়ে গেছে পর্যটননির্ভর অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আয় রোজগার। একদিকে ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতি, অন্যদিকে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

সাজেক রাঙামাটি জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও পর্যটনকেন্দ্রটির পরিবহন, আবাসন, খাবার ও বিপণন ব্যবসার সঙ্গে খাগড়াছড়ির বহু মানুষ যুক্ত। ফলে সাজেকের অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে দুই জেলার ব্যবসায়ী, গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিকদের ওপর। দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আজকের পরিস্থিতির আরেকটি দিক হলো সড়কে প্রতিবন্ধকতার ধরন। আজ সকালে সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালান অবরোধকারীরা। সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাজেকের মাচালং এলাকাসহ বাঘাইহাটের ১০ নম্বর ও মাচালং ১৪ কিলো এলাকায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। অবরোধ চলাকালে এখনো পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে, তবে সড়ক বন্ধ থাকায় সাজেকের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

পর্যটকদের জন্য এই মুহূর্তের বার্তাটি পরিষ্কার: সাজেকের সড়ক এখনো বন্ধ, তাই এই মুহূর্তে সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ঝুঁকিপূর্ণ। যাঁরা আগে থেকে বুকিং করে রেখেছেন, তাঁদের উচিত যাত্রার আগে সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া এবং হোটেল বা পরিবহন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের পরবর্তী বৈঠক বা ঘোষণার দিকেই এখন সবার নজর, কারণ প্রধান দাবিটিতে সমঝোতা হলেই কেবল অবরোধ ওঠার পথ খুলবে। যতক্ষণ না সেই ঘোষণা আসছে, সাজেকের মানুষের অপেক্ষা আর সংকট দুটোই চলতে থাকবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন