বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ভ্রমণ

সাজেক অবরোধ সপ্তম দিনে: সকালে সড়কে আগুন, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পুলিশ বলছে সমাধান শিগগিরই

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৮ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
সাজেক সড়ক অবরোধ নিয়ে গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

সাজেক সড়ক অবরোধ আজ বুধবার সপ্তম দিনে গড়িয়েছে, আর এই দিনেই আন্দোলন আরও কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি এলো। বুধবার সকালে সাজেক সড়কের কয়েকটি জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেন অবরোধকারীরা। দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি, সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সড়ক বন্ধ থাকায় সাজেক পর্যটনকেন্দ্র এখনো বন্ধ, আর সড়কে যান চলাচল থমকে আছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেছেন, সাজেকের পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে এবং সহসাই এর সমাধান হবে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত আছেন। তবু সড়ক দিয়ে যান চলাচল এখনো শুরু হয়নি, ফলে সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থাই রয়ে গেছে।

সমঝোতার চেষ্টা যে একেবারে থেমে নেই, সেটা বোঝা যায় সোমবারের বৈঠকের বিবরণ থেকে। গত সোমবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতাদের বৈঠক হয়। খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে পাঁচ দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু মূল দাবি, অর্থাৎ সাজেক এলাকা থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আর সেই একটি বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণেই অবরোধ প্রত্যাহারের পথ তৈরি হয়নি।

সোমবার রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে সংগঠনটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা আলোচনার ভেতরের সময়সীমার হিসাবটাও জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার প্রথমে প্রধান দাবি বাস্তবায়নের জন্য এক মাস সময় চেয়েছিল, আন্দোলনকারীরা তখন তিন দিন সময় দিতে রাজি ছিলেন। পরে সরকার ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলে আন্দোলনকারীরা আরও পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে সম্মত হন। কিন্তু প্রধান দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে নিশ্চিত আশ্বাস না পাওয়ায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকার আবার আলোচনায় বসতে চাইলে তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন। অর্থাৎ আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি, কিন্তু আশ্বাস ছাড়া সড়ক খুলছে না।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজোবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার; হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ; সাজেক থেকে জেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা; আর আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধ করা।

এই আন্দোলনের শুরুটা আরও আগের। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার পর দাবি আদায় না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। ২২ অক্টোবর সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় পর্যটকদের গাড়িবহর সাজেক ছাড়ার পথে উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পথরোধ করেন। রাইজিংবিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবরোধের কারণে সাজেক ভ্যালিতে ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন।

পর্যটকদের জন্য এই মুহূর্তের বার্তাটা আগের মতোই সতর্ক থাকার। সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে আপাতত যাত্রা পিছিয়ে দেওয়াই নিরাপদ। বুকিং দেওয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট বা ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে আগেভাগে কথা বলে বাতিল বা তারিখ বদলের শর্ত জেনে রাখা ভালো। প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা বা সমঝোতার খবর না আসা পর্যন্ত দীঘিনালা হয়ে সাজেকের পথে যাত্রা না করাই ভালো। আর একটা কথা স্পষ্ট করে রাখা দরকার: সাজেক খুলেছে বা অবরোধ শেষ হয়েছে, এমন কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।

এরপর কী হবে, তা এখন দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। একদিকে চার দফায় সমঝোতা হয়ে যাওয়ায় আলোচনার একটা ভিত্তি তৈরি আছে, অন্যদিকে মূল দাবির সময়সীমা নিয়ে নিশ্চিত আশ্বাস না মিললে অবরোধ চলবে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন। ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়ার প্রসঙ্গটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। নতুন কোনো বৈঠক হলে বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন সিদ্ধান্ত এলে সেটাই হবে পরের বড় আপডেট। ততদিন পর্যন্ত সপ্তম দিনের এই অবস্থাই সাজেকের সর্বশেষ চিত্র।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন