বিনোদন ঝলক
ভ্রমণ

সাজেকের তৃতীয় দিনেও থমথমে: আজ আধাবেলা সড়ক-নৌপথ অবরোধের ডাক, কবে খুলবে

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৪ অক্টোবর ২০২৬2 মিনিটে পড়ুন
সাজেক ভ্যালির শান্ত প্রাকৃতিক দৃশ্য
সাজেক ভ্যালির প্রাকৃতিক দৃশ্য। (ছবি: G.B. G.Son, CC BY-SA 4.0)

বৃহস্পতিবারের গোলাগুলির পর আজ শনিবার, তৃতীয় দিনেও সাজেকের চিত্র বদলায়নি। যুগান্তরের আজকের প্রথম পাতার প্রতিবেদন অনুযায়ী, থমথমে সাজেক এখনো পর্যটকশূন্য; জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটন-ভ্রমণের ওপর বন্ধ-ঘোষণা বহাল রয়েছে। আর আজ রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।

গতকাল শুক্রবারও বাঘাইহাট-সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছেন অবরোধকারীরা। অর্থাৎ সাজেক সড়কে যান চলাচল এখনো পুরোপুরি বন্ধ, থমথমে পরিস্থিতি কাটেনি।

এদিকে সাজেক খুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল বিকালে খাগড়াছড়ি শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পর্যটন-ব্যবসায়ীরা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাজেক খুলে দেওয়ার দাবিতে সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি; পর্যটন বন্ধ হলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ইটাব) সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা বড় আন্দোলনে যাবেন।

সময়টাও এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। অক্টোবরের শেষ দিক থেকে সাজেকে শীত-মৌসুমের পর্যটন-পিক শুরু হয়; বছরের এই সময়টাতেই রিসোর্টগুলোর বেশিরভাগ বুকিং আসে। ব্যবসায়ীদের ভাষায়, পর্যটন এখানকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, আর সেই চালিকাশক্তি এখন পুরোপুরি থমকে। রিসোর্ট-মালিক থেকে যানবাহন-চালক, খাবারের হোটেল থেকে ট্যুর গাইড, হাজারো পরিবারের রুটি-রুজি নির্ভর করে এই মৌসুমের ওপর।

মনে রাখা দরকার, এই সংকটের সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। সেদিন অবরোধে আটকা পড়েন প্রায় ৩ হাজার পর্যটক; নিরাপত্তা বাহিনী তাদের নিরাপদে পৌঁছে দিতে গেলে অবরোধকারীদের একাংশ হামলা ও গুলি চালায়, পরে পাল্টা গুলিতে পর্যটকদের খাগড়াছড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই সাজেক কার্যত পর্যটকশূন্য।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: সাজেক কবে খুলবে? সৎ উত্তর হলো, এখনো কোনো তারিখ ঘোষণা হয়নি। জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় সবাই। যাদের বুকিং আছে, তাদের জন্য পরামর্শ: সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট বা ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে রিশিডিউল বা রিফান্ডের বিষয়টি লিখিতভাবে নিশ্চিত করে রাখুন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক-মুখী ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

যারা ইতিমধ্যে বুকিং দিয়েছেন বা সাজেক-ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য আপাতত একটাই পরামর্শ: অপেক্ষা করুন। জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সাজেক-মুখী যাত্রা নিরাপদ নয়। বুকিংয়ের টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট বা ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে লিখিত যোগাযোগ রাখুন, আর বিকল্প গন্তব্য হিসেবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল এলাকাগুলো বিবেচনা করতে পারেন। আমরা পরিস্থিতির প্রতিটি আপডেট জানিয়ে যাব।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার