রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে সশস্ত্র দলের সদস্যদের অপসারণের দাবিতে সাজেক সড়কে ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের চতুর্থ দিন চলছে আজ, রোববার। রাইজিংবিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে গত বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় এই অবরোধ শুরু হয়। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি চলছে।
আজকের চিত্রটা আগের দিনগুলোর চেয়ে কিছুটা আলাদা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবরোধের সমর্থনে সড়কের কোথাও পিকেটারদের দেখা যায়নি। তবে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল রয়েছে। অর্থাৎ সড়ক কার্যত ফাঁকা, কিন্তু নিরাপত্তা উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
আন্দোলনকারীদের অবস্থান এখনো অনড়। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবু ধন চাকমা জানিয়েছেন, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত এলাকা থেকে অপসারণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল দাবি। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের ভাষ্য অবশ্য ভিন্ন সুরের। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, সাজেক এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং দুষ্কৃতকারী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় টহল ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অবরোধের সবচেয়ে সরাসরি ধাক্কাটা লেগেছে পর্যটনে। অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে সাজেক এখনো কার্যত পর্যটকশূন্য, আর যাঁরা সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখতে হচ্ছে।
এই অচলাবস্থার পেছনে রয়েছে গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক ঘটনা। ২২ অক্টোবর তৃতীয় দফায় অবরোধ শুরুর পর সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ২৪ অক্টোবর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ডাকা আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ দুপুর ১২টায় শেষ হয়, দুই জেলায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু সাজেক সড়কের অবরোধ তাতে শেষ হয়নি, সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধই থেকে গেছে।
পর্যটকদের জন্য এই মুহূর্তের বার্তাটা পরিষ্কার। সাজেক কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নতুন ঘোষণা আসেনি। তাই সাজেকের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ। আগের প্রতিবেদনগুলোতে সাজেকের বুকিং বাতিলের কথাও জানানো হয়েছিল, ফলে যাঁদের বুকিং ছিল, তাঁদের সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট বা এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে রাখা উচিত।
এরপর কী হবে, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের অবস্থানের ওপর। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে এবং টহল ও অভিযান চলবে। এই দুই অবস্থানের মাঝখানে আটকে আছে সাজেকের পর্যটন। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা এলেই তা জানানো হবে, তার আগে সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
