রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ শেষ হয়েছে। শনিবার ভোর ৫টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে কর্মসূচি। অবরোধ শেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে যান চলাচল। তবে পর্যটন মৌসুমেও পর্যটকশূন্য সাজেক, সেখানে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা।
সাজেক সড়কে অবরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা, লাঠিপেটা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে এই অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। অবরোধ চলাকালে দুই জেলাতেই সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি। অবরোধের কারণে বন্ধ ছিল দূরপাল্লার যান চলাচল, শহরেও গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।
শনিবার সকালে খাগড়াছড়িতে চিত্রটা ছিল বেশ কঠিন। চেঙ্গী ব্রিজ, স্বনির্ভর এলাকা, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কৃষি গবেষণা এলাকা এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের গুইমারা জোড়াব্রিজ এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের সাপমারা এলাকায় গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করা হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রধান সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার ও খড়কুটায় আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করা হয়।
এর মধ্যেও ঢাকা থেকে আসা রাতের বাসগুলো পুলিশি পাহারায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছে। খাগড়াছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেরি হওয়ায় ঢাকা থেকে আসা কয়েকটি বাস রামগড়ে অবস্থান করছিল, সেগুলোকে দুপুর ১২টার পর খাগড়াছড়িতে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়। রাঙামাটি শহর ও চট্টগ্রাম রুটে যান চলাচল সকাল থেকেই স্বাভাবিক ছিল, তবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। নৌপথে অবরোধের তেমন প্রভাব পড়েনি, রাঙামাটি থেকে বাঘাইছড়ি, মাইনী, জুরাছড়ি ও বরকলসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
কিন্তু সাজেকের চিত্র এখনো বদলায়নি। সাজেক থানার ওসি জানিয়েছেন, সাজেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে, সেখানে পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি, তবে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এখনো বহাল। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, আর পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পর্যটকদের জন্য এর মানে পরিষ্কার। আধাবেলা অবরোধ শেষ হলেও সাজেক যাওয়ার রাস্তা এখনো খোলেনি, আর কবে খুলবে তার কোনো ঘোষণাও এখনো আসেনি। তাই সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়াই নিরাপদ। বুকিংয়ের টাকা ও তারিখ নিয়ে রিসোর্টের সঙ্গে আগেভাগে কথা বলে রাখলে পরে ঝামেলা কম হবে।
