বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ভ্রমণ

সাজেক ভ্রমণ গাইড ২০২৬: কীভাবে যাবেন, খরচ কত, এখন যাওয়া যাবে কি (২ নভেম্বর আপডেট)

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২ নভেম্বর ২০২৬13 মিনিটে পড়ুন
সাজেক ভ্রমণ গাইডের থাম্বনেইল
ছবি: বিনোদন ঝলক

সরাসরি উত্তর দিয়ে শুরু করা যাক: আজ, ২ নভেম্বর ২০২৬, সাজেক যাওয়া যাবে না। সোমবার সকাল থেকে সাজেক সড়কে চতুর্থ দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ আবার শুরু হয়েছে, বড় যানবাহন চলছে না, আর পর্যটকদের প্রবেশে জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও আগেই জারি আছে। তাই এই মুহূর্তে সাজেকের টিকিট কাটা, গাড়ি বুক করা বা রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই গাইডে আজকের অবস্থার যাচাই করা তথ্যের পাশাপাশি সাজেকের রুট, থাকা, খাওয়া, খরচের ধারণা আর সেরা সময়ের পুরো ছবি দেওয়া হলো, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আপনি এক লেখা থেকেই পুরো পরিকল্পনা সাজাতে পারেন।

আজকের অবস্থা সম্পর্কে সমকাল ২ নভেম্বর বেলা ১১টা ৪২ মিনিটে জানিয়েছে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে চতুর্থ দফায় সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে সাজেক সড়কে শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকাল থেকে সড়কে বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করেছেন। তবে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে এ সড়কে বড় যানবাহন চলছে না, মাঝেমধ্যে কয়েকটি অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলছে।

চ্যানেল আই অনলাইন ২ নভেম্বর দুপুর ১২টা ৫৪ মিনিটের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রোববার ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও সোমবার সকাল থেকে সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন অবরোধকারীরা। টানা অবরোধে সাজেকে তীব্র খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দিনে সাজেকের কলাবুনিয়া ও দূরদুরিছড়ায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে তিন দফা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে, আর স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেননি সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কারণ এলাকাটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল। এই অংশটি পড়ার সময় মনে রাখা জরুরি: গুলির রাউন্ডের সংখ্যাটি স্থানীয় সূত্রের দাবি, আর হতাহতের কোনো নিশ্চিত সংখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

অবরোধ কেন চলছে, সেটা না বুঝলে সাজেক কবে খুলবে তা আন্দাজ করা কঠিন। সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে এই অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে, সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ সমর্থিত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। সমস্যা সমাধানে গত ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়। সমকাল জানিয়েছে, পরবর্তী আলোচনার জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অর্থাৎ একটি দাবিতে আটকে থাকা আলোচনাই এখন সাজেক খোলার পথে বড় বাধা।

পুরো ঘটনার ধারাবাহিকতা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক। গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে টানা ১০ দিন সড়ক অবরোধ চলে। ওই দিনের গোলাগুলির পর প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার খবরও তখন এসেছিল। এরপর সাজেকে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল আনা নেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের মৌলিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রোববার, ১ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল করে সংগঠন দুটি। কিন্তু একই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামে আরেকটি সংগঠন খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা, সাজেক ও বাঘাইছড়ি সড়কে পাল্টা অবরোধ ডাকায় সেদিন সাজেক সড়কে কোনো পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। শিথিলের সময় শেষ হওয়ার পর সোমবার সকাল থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমার বরাতে বলা হয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

পর্যটকদের জন্য এর মানে খুব স্পষ্ট। প্রথমত, সাজেক সড়কে এখন বড় গাড়ি যাচ্ছে না, তাই খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, জেলা প্রশাসন আগেই সাজেক পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, যা চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনেও উল্লেখ আছে। তৃতীয়ত, টানা অবরোধে সাজেকে খাদ্য ও ওষুধের সংকট তৈরি হয়েছে, রিসোর্ট ও কটেজের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় কেউ যদি সাজেক যাওয়ার চেষ্টা করেন, তিনি পথে আটকে যাওয়া, ফিরে আসতে না পারা বা জরুরি প্রয়োজনে সাহায্য না পাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। তাই আজকের পরামর্শ একটাই: যাত্রা স্থগিত রাখুন, আর বুকিং থাকলে রিসোর্ট বা অপারেটরের সঙ্গে কথা বলে তারিখ পেছানো বা টাকা ফেরতের বিষয়টি লিখিতভাবে নিশ্চিত করুন।

এবার সাজেকের মূল গাইডে আসা যাক, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই লেখাটাই আপনার কাজে লাগে। সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত। কাসালং পর্বতশ্রেণির পাহাড়ের মধ্যে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে এই উপত্যকা। কাগজে কলমে এটি রাঙামাটির অংশ হলেও সাজেকে যাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত ও সুবিধাজনক পথ খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে। সাজেককে অনেকে বলেন মেঘের রাজ্য, কারণ ভোরবেলা উপত্যকা সাদা মেঘের সমুদ্রে ঢেকে যায়, আর পাহাড়ের চূড়াগুলো দ্বীপের মতো ভেসে থাকে। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের সময় এই দৃশ্য সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর হয়।

সাজেকে দেখার জায়গা বলতে মূলত তিনটি নাম সবার আগে আসে। প্রথমটি রুইলুই পাড়া, সাজেকের শুরুর দিকের গ্রাম, যেখানে বেশিরভাগ রিসোর্ট ও কটেজ। এখানকার উচ্চতা প্রায় ১৭২০ ফুট। দ্বিতীয়টি কংলাক পাহাড় ও কংলাক পাড়া, সাজেকের সবচেয়ে উঁচু দিকের গ্রাম, প্রায় ১৮০০ ফুট উঁচুতে। কংলাক থেকে পুরো উপত্যকা আর দূরের পাহাড়ের সারি এক নজরে দেখা যায়। তৃতীয়টি হেলিপ্যাড এলাকা, যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা পর্যটকদের প্রিয় অভ্যাস। এছাড়া ট্রেকিং পছন্দ করলে কমলক ঝরনা, যা সিকাম তৈসা নামেও পরিচিত, সেদিকে যাওয়া যায়। তবে ট্রেকিংয়ের আগে স্থানীয় গাইডের সঙ্গে কথা বলে পথ, সময় আর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে বর্ষায় বা অস্থির পরিস্থিতিতে।

সাজেক যাওয়ার সেরা সময় নিয়ে সাধারণ ধারণাটি এরকম: মেঘের ভেলা দেখতে চাইলে বর্ষা ও বর্ষা পরবর্তী সময়, অর্থাৎ জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে যাওয়া ভালো। আর শীতকালে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আকাশ পরিষ্কার থাকে, দূরের পাহাড় স্পষ্ট দেখা যায়, আবহাওয়া ঠান্ডা ও আরামদায়ক হয়।তবে মনে রাখবেন, মেঘ দেখা পুরোপুরি আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে।

এবার ধাপে ধাপে যাওয়ার পথ। প্রথম ধাপ: ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়িগামী বাসে রাতের যাত্রা সবচেয়ে প্রচলিত, যাতে সকালে খাগড়াছড়ি পৌঁছানো যায়। বাসের ধরন ও অপারেটর অনুযায়ী ভাড়া বদলায়, তাই যাত্রার আগে কাউন্টার থেকে বর্তমান ভাড়া জেনে নিন। দ্বিতীয় ধাপ: খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা হয়ে বাঘাইহাট। খাগড়াছড়ি শহর থেকে চাঁদের গাড়ি, অর্থাৎ খোলা জিপ, মাইক্রোবাস বা সিএনজিচালিত গাড়িতে দীঘিনালা পৌঁছাতে হয়। দল বড় হলে গাড়ি রিজার্ভ করা সুবিধাজনক, ছোট দল হলে শেয়ারে যাওয়া যায়। খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার, আর দীঘিনালা থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৪৯ কিলোমিটার।

তৃতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ: বাঘাইহাট থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর এসকর্ট। সাজেক যাওয়ার পথে বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্পে ভ্রমণকারীদের তথ্য দিতে হয়, সেখান থেকে অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় গাড়িবহর সাজেকের দিকে রওনা হয়। দিনে সাধারণত দুটি এসকর্টের ব্যবস্থা থাকে, একটি সকালে, একটি দুপুরে। এসকর্টের সময় মৌসুম ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতে পারে, তাই যাত্রার দিন সকালে বাঘাইহাট ক্যাম্প বা আপনার গাড়িচালকের কাছ থেকে সেদিনের সঠিক সময় জেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক। এসকর্ট মিস করলে সেদিন আর সাজেকে ঢোকার অনুমতি মেলে না, তাই খাগড়াছড়ি থেকে হাতে যথেষ্ট সময় নিয়ে বের হোন। ফেরার পথেও একই নিয়ম: নির্ধারিত এসকর্টে সাজেক ছাড়তে হয়, তাই ফেরার দিন সকালেই গাড়ি ও এসকর্টের সময় চূড়ান্ত করে রাখুন।

সাজেকে থাকার ব্যবস্থা মূলত রুইলুই পাড়া ও আশপাশের কটেজ আর রিসোর্ট ঘিরে। সাধারণ বাজেট কটেজ থেকে শুরু করে ভালো মানের রিসোর্ট পর্যন্ত নানা ধরনের থাকার জায়গা আছে। ভিউ ভালো এমন কটেজের চাহিদা বেশি থাকে, বিশেষ করে ছুটির দিনে, তাই আগে থেকে বুকিং করা ভালো। বুকিংয়ের সময় জেনে নিন: রুম থেকে উপত্যকার ভিউ কেমন, গরম পানি আর বিদ্যুতের ব্যবস্থা কী, খাবার রিসোর্টেই পাওয়া যাবে কি না, আর বাতিল বা তারিখ পেছানোর নীতি কী। অস্থির পরিস্থিতিতে বুকিংয়ের আগে এই শেষ প্রশ্নটি সবচেয়ে জরুরি, কারণ আজকের মতো অবরোধের সময় তারিখ পেছানো বা টাকা ফেরতের নীতি না জানলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

সাজেকের খাবারের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম ব্যাম্বু চিকেন, বাঁশের ভেতরে রান্না করা মুরগির পদ। এছাড়া পাহাড়ি সবজি, ডাল, ভাত, দেশি মুরগি আর স্থানীয় ধাঁচের রান্না বিভিন্ন রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায়। খাবারের দাম রিসোর্টভেদে বদলায়, আর অবরোধ বা সরবরাহ সংকটের সময় দাম ও প্রাপ্যতা দুটোই বদলে যেতে পারে।

খরচের ধারণা দেওয়ার সময় একটি সতর্কবাক্য আগেই দিয়ে রাখা দরকার: নিচের অঙ্কগুলো আনুমানিক রেঞ্জ, মৌসুম, ছুটির দিন আর দরদামের ওপর নির্ভর করে এগুলো বদলায়। যাত্রার আগে বর্তমান দাম যাচাই না করে শুধু এই রেঞ্জের ওপর ভরসা করবেন না। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি বাস ভাড়া সাধারণত নন এসিতে কয়েক শ টাকা থেকে শুরু হয়ে এসিতে এক হাজারের বেশি হতে পারে। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পর্যন্ত চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ করলে পুরো গাড়ির ভাড়া কয়েক হাজার টাকা পড়ে, যা দলের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করলে জনপ্রতি খরচ কমে আসে। থাকার খরচ রুমপ্রতি রাতে সাধারণ বাজেট কটেজে এক হাজার টাকার আশপাশ থেকে শুরু হয়ে ভালো রিসোর্টে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। খাবার প্রতি বেলায় জনপ্রতি এক থেকে আড়াই শ টাকার মতো ধরা যায়। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের দলে দুই দিনের সাজেক ভ্রমণে জনপ্রতি কয়েক হাজার টাকার বাজেট সাধারণত ধরা হয়, তবে দল ছোট হলে বা রিসোর্ট ভালো হলে এই অঙ্ক বাড়বে।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দুই দিনের একটি সহজ পরিকল্পনা এরকম হতে পারে। প্রথম দিন সকালে এসকর্টে সাজেক পৌঁছে রুমে উঠে দুপুরে বিশ্রাম নিন, বিকেলে হেলিপ্যাড থেকে সূর্যাস্ত দেখুন, সন্ধ্যায় রুইলুই পাড়া ঘুরে স্থানীয় খাবার খান। দ্বিতীয় দিন ভোরে উঠে সূর্যোদয় আর মেঘের সমুদ্র দেখুন, সকালে কংলাক পাহাড় ঘুরে আসুন, দুপুরের এসকর্টে খাগড়াছড়ি ফিরে আসুন।তবে মনে রাখবেন, এই পরিকল্পনা শুধু স্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য। অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞা থাকলে এই পরিকল্পনা বাতিল করে যাত্রা পেছানোই একমাত্র নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

যাত্রার আগে যা যা সঙ্গে নেবেন, তার একটি ছোট তালিকা করে নিন। জাতীয় পরিচয়পত্র বা ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন, কারণ বাঘাইহাট ক্যাম্পে তথ্য দিতে হয়। নগদ টাকা সঙ্গে রাখুন, কারণ সাজেকে কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং সব সময় কাজ নাও করতে পারে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সব জায়গায় সমান পাওয়া যায় না, তাই পরিবারকে আগেই জানিয়ে রাখুন যে পাহাড়ে কিছু সময় যোগাযোগ কম হতে পারে। শীতের সময় গরম কাপড়, বর্ষায় রেইনকোট বা ছাতা, আরামদায়ক হাঁটার জুতা, সানস্ক্রিন, প্রয়োজনীয় ওষুধ আর পানির বোতল সঙ্গে নিন। প্লাস্টিক বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলবেন না, নিজের আবর্জনা সঙ্গে করে ফিরিয়ে আনার অভ্যাস করুন।

সাজেকের গ্রামগুলোতে লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা, চাকমা, মারমাসহ নানা জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। এগুলো জীবন্ত গ্রাম, শুধু দেখার জায়গা নয়। তাই স্থানীয় মানুষের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, গ্রামের নিয়ম মেনে চলুন, আর স্থানীয় দোকান থেকে সরাসরি কেনাকাটা করে স্থানীয় অর্থনীতিকে সাহায্য করুন। পাহাড়ি পথে গাড়ি চালানোর সময় চালকের নির্দেশ মেনে চলুন, চলন্ত গাড়ি থেকে শরীর বাইরে বের করবেন না, আর শিশুদের সব সময় চোখে চোখে রাখুন।

বুকিং আর টাকা ফেরত নিয়ে কয়েকটি বাস্তব পরামর্শ। অগ্রিম টাকা দেওয়ার আগে রিসোর্ট বা অপারেটরের বাতিল নীতি লিখিতভাবে, যেমন মেসেজ বা ইমেইলে, নিশ্চিত করুন। অবরোধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে তারিখ পেছানো যায় কি না, আর পেছানো গেলে কতদিনের মধ্যে, তা আগেই জেনে নিন। কোনো অপারেটর যদি বর্তমান পরিস্থিতিতেও সাজেক যাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে সতর্ক হোন, কারণ জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা আর সড়ক অবরোধ থাকলে কোনো অপারেটরের পক্ষে নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। যাত্রা পেছালে নতুন তারিখ ঠিক করার আগে প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশ আর অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দেখে নিন।

সাজেকের পরিকল্পনা পেছাতে হলে মন খারাপ করার কিছু নেই, বিকল্পও আছে। খাগড়াছড়ি শহর আর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তবে সেখানকার সড়ক পরিস্থিতিও যাত্রার আগে যাচাই করে নিন, কারণ অবরোধের প্রভাব আশপাশের উপজেলার সড়কেও পড়েছে। অথবা সাজেকের পরিবর্তে বান্দরবান, রাঙামাটি শহর বা কক্সবাজারের মতো গন্তব্য বিবেচনা করা যায়, সেগুলোরও বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করে।

এবার পাঠকদের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর। প্রশ্ন: এখন সাজেক যাওয়া যাবে কি। উত্তর: না, ২ নভেম্বর থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে, বড় যানবাহন চলছে না, আর পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে। প্রশ্ন: সাজেক কবে খুলবে। উত্তর: এখনো নিশ্চিত তারিখ নেই, কারণ পাঁচ দফা দাবির একটি নিয়ে আলোচনা অমীমাংসিত আছে, আর পরবর্তী আলোচনার উদ্যোগও এখনো দেখা যায়নি। প্রশ্ন: অবরোধ উঠলে কীভাবে যাবেন। উত্তর: ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি বাসে, সেখান থেকে চাঁদের গাড়িতে দীঘিনালা হয়ে বাঘাইহাট, তারপর নির্ধারিত এসকর্টে সাজেক। প্রশ্ন: সাজেকে রাতে থাকা যাবে কি। উত্তর: স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে হ্যাঁ, রুইলুই পাড়া ও আশপাশে অনেক কটেজ আর রিসোর্ট আছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যাওয়া যাচ্ছেই না। প্রশ্ন: এক দিনে সাজেক ঘুরে আসা যাবে কি। উত্তর: কার্যত না, কারণ এসকর্টের সময় আর পাহাড়ি পথের দূরত্ব মিলিয়ে অন্তত এক রাত থাকা ছাড়া সাজেক উপভোগ করা কঠিন।

এরপর কী হবে, সেদিকে নজর রাখার বিষয়গুলো হলো: আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের পরবর্তী বৈঠক হয় কি না, পাঁচ দফা দাবির শেষ দাবিটি নিয়ে সমঝোতা হয় কি না, জেলা প্রশাসন পর্যটক প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা তোলে কি না, আর সাজেক সড়কে বড় যানবাহন চলাচল আবার শুরু হয় কি না। এই চারটির কোনো একটি বদলালেই সাজেকের পরিস্থিতি বদলাতে পারে, কিন্তু চারটির একটিও না বদলালে অবরোধ চলতেই থাকবে। তাই এই গাইডের তথ্য যাত্রার আগে আবার যাচাই করে নিন, বিশেষ করে যাত্রার দিন সকালে অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদন দেখুন। এই লেখাটি ২ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে লেখা, পরিস্থিতি বদলালে গাইডের শুরুর সতর্কবার্তাটাই সবার আগে আপডেট করা হবে।

শেষ কথা: সাজেক বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর পাহাড়ি গন্তব্য, কিন্তু সুন্দর জায়গায় যাওয়ার চেয়ে নিরাপদে যাওয়া বড় কথা। আজকের সাজেক যাওয়ার মতো অবস্থায় নেই, এটা মেনে নিয়ে পরিকল্পনা পেছানোই এই মুহূর্তের সঠিক সিদ্ধান্ত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এই গাইডের রুট, থাকা, খাওয়া আর খরচের ধারণা কাজে লাগিয়ে ধীরেসুস্থে পরিকল্পনা সাজান, আর যাত্রার আগে অবশ্যই সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে নিন।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন