সেন্টমার্টিন নিয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন একটাই, দ্বীপ খুলেছে তো, কিন্তু যাওয়া যাচ্ছে কি। সংক্ষিপ্ত উত্তরটা একটু সতর্কভাবে দিতে হয়। ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয়েছে। কিন্তু ওই দিন কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। তাই মৌসুম খোলা আর জাহাজে করে দ্বীপে পৌঁছানো, এই দুটো বিষয়কে এক করে ফেললে ভুল হবে। এই গাইডে মৌসুমের সময়সীমা, রাতে থাকার নিয়ম, জাহাজের সর্বশেষ অবস্থা, নিবন্ধন, যাওয়ার পথ, পরিকল্পনার ধাপ আর সতর্কতাগুলো এক জায়গায় সাজানো হয়েছে, যাতে আপনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরো ছবিটা দেখতে পান।
প্রথমে মৌসুমের মূল তথ্যগুলো জেনে নেওয়া যাক। দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধ থাকার পর ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপটি ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটকদের বরণ করে নিতে এরই মধ্যে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে দ্বীপের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট আর রেস্টুরেন্টগুলো। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ আর রেস্টুরেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছিল। অর্থাৎ দ্বীপের দিক থেকে প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু যাতায়াতের দিক থেকে প্রস্তুতি শেষ হয়নি।
রাতে থাকা যাবে কি না, এই প্রশ্নে কিছুদিন ধরে বিভ্রান্তি চলছিল, আর সেটা বোঝা জরুরি। ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়। তাতে নভেম্বরে দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসার নিয়ম এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে পর্যটক, হোটেল আর রেস্তোরাঁর মালিক ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়। তাই এই গাইড লেখার সময় পর্যন্ত সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরো মৌসুমেই রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো পুরোনো খবর বা বিজ্ঞাপন দেখে নভেম্বরে রাতে থাকা যাবে না বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না, আবার নতুন সিদ্ধান্ত বদলালে সেটাও মিলিয়ে নিতে হবে।
এবার জাহাজের অবস্থা, যেটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। ১ নভেম্বর পর্যটকদের ভ্রমণের অনুমতি মিললেও কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী ৫ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে এ রুটে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। তবে এটা আশা, নিশ্চিত তারিখ নয়। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্য অনুযায়ী, কেউ বলছেন ৫ থেকে ৭ নভেম্বর, আবার কেউ বলছেন ১৫ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হবে। অর্থাৎ তারিখ নিয়ে এখনো একমত হওয়া যায়নি। তাই ৫ বা ৬ নভেম্বরকে চূড়ান্ত ধরে হোটেল বা যাতায়াতের টাকা দেওয়ার আগে জাহাজ চলাচলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মিলিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
জাহাজ কেন পেছাল, সেটা জানলে পরিকল্পনা করা সহজ হয়। জাহাজ চলাচল শুরু করতে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের পাশাপাশি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুমোদন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের রুট পারমিট আর কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে তিনটি জাহাজ। কিন্তু এখনো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স, রুট পারমিট আর জাহাজ চলাচলের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া পর্যটকদের টিকিট বিক্রির জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যারও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আপাতত কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে আছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, জাহাজগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেই অনুমতি দেওয়া হবে। গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, তাই এবার ফিটনেস যাচাইয়ে বাড়তি কড়াকড়ি রয়েছে।
যাওয়ার পথটা ঠিকভাবে জানা থাকলে ভুল পরিকল্পনার ঝুঁকি কমে। কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। পুরো পথই বঙ্গোপসাগর দিয়ে পাড়ি দিতে হয়। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করেছেন, কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে নৌযানে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ নেই। একমাত্র সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটকেরা সেখানে যেতে পারবেন। তাই কেউ যদি টেকনাফ থেকে ট্রলার বা স্পিডবোটে যাওয়ার প্রস্তাব দেন, সেটা এই নিয়মের সঙ্গে মেলে না। অনুমোদন ছাড়া বিকল্প নৌযানে ভ্রমণের পরিকল্পনা না করাই নিরাপদ।
নিবন্ধন আর কাগজপত্রের বিষয়টাও আগে থেকে গুছিয়ে রাখতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস আর কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাহাজে ওঠার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন দেখাতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, ১ নভেম্বর পর্যন্ত পর্যটকদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যার পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। তাই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া ঠিক কীভাবে হবে, সেটা জাহাজ চলাচলের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। পরিচয়পত্র ছাড়া ঘাটে গিয়ে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি নেওয়ার কোনো মানে হয় না। দলের সবার পরিচয়পত্রের কপি আর মূল কাগজ, দুটোই সঙ্গে রাখুন।
পরিকল্পনার ধাপগুলো এভাবে সাজালে ভুল কম হবে। প্রথম ধাপ, জাহাজ চলাচলের আনুষ্ঠানিক তারিখ নিশ্চিত করুন। শুধু আশা করা তারিখের ওপর ভরসা করে টাকা দেবেন না। দ্বিতীয় ধাপ, তারিখ নিশ্চিত হলে অনলাইন নিবন্ধন আর টিকিটের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। তৃতীয় ধাপ, জাহাজের তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে হোটেল বুক করুন। যেহেতু দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার পর্যটকের সীমা রয়েছে, তাই ছুটির দিনে আগে থেকে বুকিং করা বুদ্ধিমানের কাজ। চতুর্থ ধাপ, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পৌঁছানোর পরিকল্পনায় অন্তত এক দিনের বাড়তি সময় রাখুন, কারণ সমুদ্রের আবহাওয়া আর জাহাজের সময়সূচি বদলাতে পারে। পঞ্চম ধাপ, ফেরার দিনেও বাড়তি সময় রাখুন, যাতে জাহাজ দেরি হলে পরের যাতায়াতের টিকিট নষ্ট না হয়।
খরচের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ এখানেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন ছড়ায়। জাহাজের ভাড়া, হোটেলের দাম আর খাবারের খরচ মৌসুম, জাহাজের শ্রেণি আর ছুটির দিনের ওপর নির্ভর করে বদলায়। তাই কোনো একটি দামকে স্থায়ী ধরে বাজেট করা ঠিক হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ট্যুর প্যাকেজের বিজ্ঞাপনের দাম আর তারিখকে খবর হিসেবে ধরা যাবে না। সেগুলো বাণিজ্যিক প্রচার, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। বুকিং করার আগে জাহাজ কর্তৃপক্ষ বা হোটেলের কাছ থেকে লিখিতভাবে তারিখ, ভাড়া, বাতিলের নিয়ম আর কী কী সুবিধা অন্তর্ভুক্ত, সেটা জেনে নিন। পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে প্রতিবেদনে ১০০ টাকার উল্লেখ আছে, তবে বাকি খরচের ক্ষেত্রে বুকিংয়ের সময়কার দামই চূড়ান্ত।
দ্বীপে গিয়ে কী দেখবেন, সেটা নিয়েও আগে থেকে ধারণা থাকলে সময় ভালো কাটে। সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। নারকেল জিঞ্জিরা নামেও পরিচিত এই দ্বীপের সমুদ্রসৈকত, প্রবালের সৈকত আর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখাই মূল আকর্ষণ। দ্বীপের কাছেই রয়েছে ছেঁড়া দ্বীপ, যেখানে ভাটার সময় হেঁটে যাওয়া যায় বলে পরিচিত। সকালে সমুদ্রের ধারে হাঁটা, স্থানীয় মাছের খাবার চেখে দেখা আর বিকেলে সৈকত থেকে সূর্যাস্ত দেখা, এই সাধারণ অভিজ্ঞতাগুলোই সেন্টমার্টিনের আসল সৌন্দর্য। যেহেতু এটা প্রবাল দ্বীপ, তাই প্রবাল বা ঝিনুক সংগ্রহ করা, সৈকত নোংরা করা বা পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন আচরণ এড়িয়ে চলা উচিত। দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রা আর পরিবেশের ওপর পর্যটনের চাপের কথা মাথায় রেখে চললে ভ্রমণটা সবার জন্যই ভালো হয়।
নিরাপত্তার বিষয়েও কয়েকটি কথা মনে রাখা ভালো। সমুদ্রপথে যাত্রায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে নিন। জাহাজের লাইফ জ্যাকেট আর নিরাপত্তা নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। শিশু আর বয়স্কদের নিয়ে গেলে বাড়তি যত্ন নিন। দ্বীপে চিকিৎসা সুবিধা সীমিত হতে পারে, তাই প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, জাহাজ চলাচলের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত দ্বীপে যাওয়ার জন্য কোনো অনানুষ্ঠানিক নৌযানের ওপর ভরসা করবেন না। প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, শুধু অনুমোদিত জাহাজেই যাওয়া যাবে। এই নিয়মটা শুধু কাগজের নয়, সমুদ্রে নিরাপত্তার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।
প্রশ্নোত্তর অংশে জমে থাকা প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর দেওয়া যাক। সেন্টমার্টিন কি খুলেছে, উত্তর, হ্যাঁ, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। জাহাজ কি চলছে, উত্তর, ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলছিল না, ৫ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে চালুর আশা করা হচ্ছে, তবে সেটা নিশ্চিত তারিখ নয়। রাতে কি থাকা যাবে, উত্তর, ২৭ অক্টোবরের সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণ ও রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন কতজন যেতে পারবেন, উত্তর, সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার জন। কোথা থেকে জাহাজ ছাড়বে, উত্তর, কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে। নিবন্ধন কি লাগবে, উত্তর, হ্যাঁ, অনলাইন নিবন্ধন, ট্রাভেল পাস আর পরিচয়পত্রের কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ট্রলার বা স্পিডবোটে কি যাওয়া যাবে, উত্তর, না, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী শুধু অনুমোদিত জাহাজেই যাওয়া যাবে।
সবশেষে পরিকল্পনার সারাংশটা এভাবে মনে রাখুন। মৌসুম খুলেছে, রাতে থাকার সুযোগ আছে, দৈনিক সীমা সাড়ে ৩ হাজার, কিন্তু জাহাজ এখনো চালু হয়নি। জাহাজ চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বুকিংয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না। ঘোষণা এলে নিবন্ধন, টিকিট, হোটেল আর যাতায়াতের ধাপগুলো একে একে সম্পন্ন করুন। জাহাজ চলাচল শুরু হলে এই গাইড আপডেট করাই হবে পরের ধাপ, যাতে পাঠক পুরোনো অনিশ্চয়তা নিয়ে না থাকেন। সেন্টমার্টিনের মতো সংবেদনশীল প্রবাল দ্বীপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলা শুধু আইনের প্রশ্ন নয়, দ্বীপটাকে টিকিয়ে রাখার প্রশ্নও বটে।
