বিনোদন ঝলক
ভ্রমণ

রাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে অবরোধ চলছে: ঢাকার বাস পুলিশি পাহারায়, সাজেকে কী অবস্থা

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৪ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
সাজেক ভ্যালির দৃশ্য, রাঙামাটি
সাজেক ভ্যালি, রাঙামাটি। ছবি: Anica Tabassum, CC BY-SA 4.0 (ছবি: Anica Tabassum, CC BY-SA 4.0)

শনিবার ভোর থেকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ইউপিডিএফ-সমর্থিত ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ। সাজেক সড়কে অবরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষ, হামলা, লাঠিপেটা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। ভোর থেকে শুরু হওয়া অবরোধ দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।

তবে দুই জেলায় অবরোধের চিত্র এক রকম নয়। খাগড়াছড়িতে দূরপাল্লার বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও রাঙামাটি শহর ও চট্টগ্রাম রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। রাঙামাটির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ আছে। আর নৌপথে অবরোধের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী ব্রিজ, স্বনির্ভর এলাকা, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কৃষি গবেষণা এলাকা এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের গুইমারা জোড়াব্রিজ এলাকায় সকালে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের সাপমারা এলাকায় গাছ কেটে সড়ক অবরোধ করা হয়। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রধান সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার ও খড়কুটায় আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করা হয়। দীঘিনালা-সাজেক সড়কের মাচালংসহ বিভিন্ন স্থানেও বিক্ষোভ করতে দেখা যায় অবরোধকারীদের।

অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ি থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। শহরের ভেতরে কয়েকটি অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে ঢাকা থেকে আসা রাতের বাসগুলো পুলিশি পাহারায় খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছে। খাগড়াছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কায় কিসলু জানান, দেরি হওয়ায় ঢাকা থেকে আসা কয়েকটি বাস রামগড়ে অবস্থান করছে। সেগুলোকে দুপুর ১২টার পর খাগড়াছড়িতে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শহরের কয়েকটি স্থানে পিকেটাররা টায়ার জ্বালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের ধাওয়া দেয় বলে জানান ওসি। তাঁর ভাষ্য, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

রাঙামাটি জেলা শহরের বনরূপা ও কল্যাণপুর বাজারসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। শনিবার হাটের দিন হওয়ায় শহরের বিভিন্ন সড়কে স্বাভাবিক ব্যস্ততা দেখা গেছে। রাঙামাটি-চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কেও যানবাহন চলেছে। তবে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের সাপছড়ি খামারপাড়া ও কুতুকছড়ি ধর্মঘর এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করায় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। কুতুকছড়ি হাফ বাজার থেকে ধর্মঘর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিলও করেন অবরোধকারীরা।

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুপ জানান, চট্টগ্রাম রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও অবরোধের কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আর রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির লাইনম্যান বিশ্বজিৎ দে জানান, নৌপথে অবরোধের কোনো প্রভাব পড়েনি। রাঙামাটি থেকে বাঘাইছড়ি, মাইনী, জুরাছড়ি ও বরকলসহ বিভিন্ন রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালনের চেষ্টার কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, কাউখালীর বেতবুনিয়া এলাকায় পিকেটিংয়ের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের কর্মীদের বাধা দিয়েছে। তবে কাউখালী-ঘাগড়া হয়ে রাঙামাটি সড়কে অবরোধ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন ও কাউখালী থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী জানান, অবরোধকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, সাজেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সেখানে পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া যায়নি, তবে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।

পটভূমি: বৃহস্পতিবার বিকেলে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মল চাকমার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবারের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে বুধবার তিন দফা দাবিতে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয়। তাদের অন্যতম দাবি ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস।

নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার মধ্যে পর্যটকদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পর্যটকেরা ফেরার পথে উজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়েন, আর তাঁদের নিরাপদে বের করে নিতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই দিন ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।

আজকের অবরোধ দুপুর ১২টায় শেষ হওয়ার কথা। তবে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র এখনো বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেক যাওয়ার সুযোগ নেই। কবে খুলবে, তা নির্ভর করছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার