বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ভ্রমণ

সেন্টমার্টিন আজ খুলল, কিন্তু জাহাজ চলছে না: ১ নভেম্বর যাওয়া যাবে কি, জাহাজ কবে চলবে?

বিনোদন ঝলক ডেস্ক১ নভেম্বর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ নিয়ে তথ্যভিত্তিক গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধ থাকার পর আজ রোববার ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য আবারও উন্মুক্ত হয়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। কিন্তু দ্বীপ খুললেও কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে আজ থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হয়নি। ফলে যাঁরা ১ নভেম্বরকেই যাত্রার দিন ধরে রেখেছিলেন, তাঁদের আপাতত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ থেকে ৬ নভেম্বরের মধ্যে এই রুটে জাহাজ চলাচল শুরু করার চেষ্টা চলছে। তবে এটা এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা নয়, বরং সংশ্লিষ্টদের আশা আর প্রস্তুতির কথা।

জাহাজ কেন চলছে না, তার কারণ একটাই নয়, কয়েকটি অনুমোদন আর প্রক্রিয়া একসঙ্গে আটকে আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেয়েছে তিনটি জাহাজ। কিন্তু এখনো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ভয়েজ লাইসেন্স, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের রুট পারমিট আর জাহাজ চলাচলের সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। এর সঙ্গে পর্যটকদের টিকিট বিক্রির জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যারও এখনো চালু করা যায়নি। এসব প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আপাতত কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে আছে।

জাহাজ চলাচলের তারিখ নিয়ে দুটি ভিন্ন আশার কথা শোনা যাচ্ছে, আর এই পার্থক্যটা পাঠকের জানা দরকার। জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৫ বা ৬ নভেম্বর জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। অন্যদিকে দ্বীপের স্থানীয়দের কেউ কেউ ৫ থেকে ৭ নভেম্বর, আবার কেউ ১৫ নভেম্বরের কথাও বলছেন। তাই কোনো এক তারিখকে নিশ্চিত ধরে টিকিট বা হোটেল বুকিং চূড়ান্ত করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। চূড়ান্ত তারিখ জানা যাবে অনুমোদন আর সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর।

এবারের মৌসুমের নিয়মটা পরিষ্কার করে রাখা ভালো। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যটকদের বরণ করে নিতে দ্বীপের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট আর রেস্তোরাঁগুলো নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ আর রেস্তোরাঁ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দ্বীপের কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা এই মৌসুমের ওপর নির্ভর করে, তাই খোলার ঘোষণায় তাঁদের মধ্যে উচ্ছ্বাসও ছিল।

এই মৌসুমের নিয়ম নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কিছু বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছিল। ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের শর্তগুলো বহাল রাখা হয়, তাতে নভেম্বরে দিনে গিয়ে একই দিনে ফেরার নিয়ম আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে পর্যটক, হোটেল মালিক আর জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, তাতে ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণ আর রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়।

যাত্রার পথটাও মনে রাখা দরকার। কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল করে। নুনিয়ারছড়া থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার, আর পুরো পথই বঙ্গোপসাগর দিয়ে পাড়ি দিতে হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীরদ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে নৌযানে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ নেই। একমাত্র সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমেই পর্যটকরা সেখানে যেতে পারবেন। গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, তাই এবার জাহাজগুলোর ফিটনেস আর নিরাপত্তা যাচাই করেই অনুমতি দেওয়ার কথা বলেছে প্রশাসন।

তাহলে ১ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে যাঁরা সেন্টমার্টিন যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরা কী করবেন। প্রথম কথা, আজই জাহাজে যাওয়া যাবে ধরে নিয়ে রওনা না দেওয়াই ভালো। দ্বিতীয় কথা, জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত তারিখ, সময়সূচি আর টিকিট বিক্রির সফটওয়্যার চালু হওয়ার খবর না দেখে অগ্রিম টাকা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। তৃতীয় কথা, অনুমোদিত জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো নৌযানে দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়, কারণ প্রশাসন বলেছে সে সুযোগ নেই। কক্সবাজার শহর আর আশপাশের সৈকত ঘুরে আসা এই কয়দিনের নিরাপদ বিকল্প হতে পারে, আর জাহাজ চালু হলে নিবন্ধন করে, নিয়ম মেনে, পরিবেশের ক্ষতি না করে দ্বীপে যাওয়াই হবে ঠিক সিদ্ধান্ত।

সব মিলিয়ে আজকের ছবিটা এমন: দ্বীপ খুলেছে, প্রস্তুতি আছে, কিন্তু জাহাজ নেই। ৫ থেকে ৬ নভেম্বরের আশা আছে, কিন্তু চূড়ান্ত ঘোষণা নেই। অনুমোদন, রুট পারমিট, সময়সূচি আর সফটওয়্যার, এই চারটি জট খুললেই যাত্রা শুরু হবে। চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা হলে সেই খবর সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে পাঠক বিভ্রান্তি ছাড়াই পরিকল্পনা করতে পারেন।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন