বিনোদন ঝলক
ভ্রমণ

সেন্টমার্টিন ১ নভেম্বর কীভাবে যাবেন: জাহাজ, ৩৫০০ ক্যাপ আর ১০০ টাকা ফি, যা জানা জরুরি

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৬ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইডের জন্য তৈরি গ্রাফিক
সেন্টমার্টিন ১ নভেম্বর থেকে খুলছে (ছবি: বিনোদন ঝলক)

১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে আবার পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন। প্রায় দশ মাস বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ ফিরছে, আর এই খবরেই এখন ট্রিপ পরিকল্পনা শুরু করেছেন অনেকে। তবে যাওয়ার আগে কয়েকটি নিয়ম, ফি আর সতর্কতা জেনে নেওয়া জরুরি, কারণ এবারের মৌসুমে দ্বীপে যাওয়া আগের মতো অবাধ নয়, নিয়ন্ত্রিত। এই গাইডে নতুন মৌসুমের নিশ্চিত তথ্য, গত মৌসুমের শিক্ষা আর যাওয়ার আগের চেকলিস্ট একসঙ্গে দেওয়া হলো।

প্রথমে তারিখ আর সীমা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত চলবে। দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ৩৫০০ জন পর্যটক যেতে পারবেন, আর প্রত্যেককে দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি। এই দুটি সংখ্যাই এই মৌসুমের মূল নিয়ম। অর্থাৎ শুধু জাহাজের টিকিট কাটলেই হবে না, দৈনিক সীমা আর ফির বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে।

কোথা থেকে জাহাজ ছাড়বে, সেটাও নির্দেশনায় পরিষ্কার। অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলবে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া জেটি থেকে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন অধিদপ্তর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এই রুটে কোনো জাহাজ চলতে দিতে পারবে না। টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলার বিষয়টি এই নির্দেশনায় নেই, তাই পরিকল্পনা করার সময় কক্সবাজারকেই যাত্রা শুরুর বিন্দু ধরুন। কক্সবাজার শহর থেকে নুনিয়াছড়া জেটি পর্যন্ত যাতায়াতের সময়ও হাতে রাখুন, কারণ জাহাজ ছাড়ার আগে জেটিতে পৌঁছানো জরুরি।

এবার সবচেয়ে জরুরি সতর্কতাটি। দ্বীপ খুলছে বলেই ১ নভেম্বর নির্দিষ্ট কোনো জাহাজ চলবে, এমন নিশ্চয়তা শুধু খোলার ঘোষণা থেকে পাওয়া যায় না। গত মৌসুমের অভিজ্ঞতা এখানে শিক্ষণীয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ১ নভেম্বর দ্বীপ খুললেও ওই মাসে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কোনো পর্যটকই যেতে পারেননি। নভেম্বরে রাত্রিযাপনও নিষিদ্ধ ছিল, আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপনের সুযোগ দিয়ে দৈনিক ২০০০ জনের সীমা ছিল। এবারের মৌসুমের দৈনিক সীমা ৩৫০০ হলেও, নভেম্বরে দিনের ট্রিপ না রাত্রিযাপন, আর কোন জাহাজ কোন তারিখে চলবে, সেটা বুকিংয়ের আগে অপারেটর আর অনুমোদিত পোর্টাল থেকে যাচাই করে নিন। টাকা দেওয়ার আগে জাহাজের তারিখ, ফেরার সময় আর ট্রাভেল পাস বা কিউআর কোডের বিষয়টি লিখিতভাবে নিশ্চিত করুন।

কীভাবে যাবেন, ধাপে ধাপে। প্রথমে ঢাকা বা নিজের শহর থেকে কক্সবাজার যান। বাস, ট্রেন বা বিমান, যেটাই বেছে নিন, আগের দিন কক্সবাজার পৌঁছে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ, কারণ জাহাজ সকালে ছাড়ে। তারপর নুনিয়াছড়া জেটি থেকে অনুমোদিত জাহাজে সেন্টমার্টিন। দ্বীপে পৌঁছে জেটি এলাকা থেকে ভ্যান বা স্থানীয় পরিবহনে যাওয়া যায় দ্বীপের উত্তর অংশে, আর দক্ষিণের ছেঁড়াদ্বীপ দেখতে চাইলে আলাদা সময় রাখতে হবে। ফেরার জাহাজের সময় মাথায় রেখে ঘোরার পরিকল্পনা সাজান, বিশেষ করে যারা একদিনের ট্রিপে যাচ্ছেন।

দ্বীপে কী দেখবেন। সেন্টমার্টিনের মূল আকর্ষণ এর প্রবাল সৈকত, স্বচ্ছ পানি, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। উত্তর দিকের সৈকত সবচেয়ে জমজমাট, আর দক্ষিণের ছেঁড়াদ্বীপ তুলনামূলক নিরিবিলি। প্রবাল আর সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষার জন্যই দ্বীপে এত নিয়ম, তাই সৈকতে প্লাস্টিক ফেলা, প্রবাল ভাঙা বা সামুদ্রিক প্রাণী ধরা থেকে বিরত থাকুন। নিজের পানির বোতল, ব্যাগ আর বর্জ্য নিজের সঙ্গে ফিরিয়ে আনার অভ্যাসটা এই দ্বীপে সবচেয়ে বেশি দরকার।

খরচের ধারণা দেওয়ার সময় একটা সতর্কবাক্য মনে রাখুন। ১০০ টাকা পরিবেশ ফি নিশ্চিত, কিন্তু জাহাজের ভাড়া, থাকা আর খাওয়ার খরচ মৌসুম, জাহাজের শ্রেণি আর ছুটির দিনের ওপর বদলায়। তাই কোনো পুরোনো ভাড়ার অঙ্ককে এবারের মৌসুমের নিশ্চিত ভাড়া ধরে নেবেন না। বুকিংয়ের সময় মোট খরচের ভাঙন জেনে নিন, এর মধ্যে পরিবেশ ফি আছে কিনা, ফেরার টিকিট আছে কিনা, আর বাতিল হলে টাকা ফেরতের নিয়ম কী। বাজেট টিপস হিসেবে বলা যায়, সপ্তাহের মাঝামাঝি দিনে ভিড় কম থাকে, আর ডিসেম্বর জানুয়ারিতে চাহিদা বেশি থাকায় আগে বুকিং করা বুদ্ধিমানের কাজ।

কাদের জন্য কোন সময় ভালো। যারা শুধু দিনের আলোয় দ্বীপ ঘুরে ফিরতে চান, তাদের জন্য নভেম্বর ভাবা যেতে পারে, তবে আগে জাহাজের নিশ্চয়তা যাচাই জরুরি। যারা রাত কাটিয়ে সূর্যোদয় দেখতে চান, তাদের জন্য ডিসেম্বর ও জানুয়ারি বেশি উপযুক্ত, গত মৌসুমের ধারা অনুযায়ী। তবে এবারের মৌসুমের রাত্রিযাপনের বিস্তারিত নিয়ম বুকিংয়ের সময় আবার যাচাই করুন, কারণ দৈনিক সীমা আর নিয়মের চূড়ান্ত প্রয়োগ স্থানীয় প্রশাসন আর অপারেটরের ওপর নির্ভর করে।

সবশেষে চেকলিস্ট। এক, যাওয়ার তারিখ ঠিক করুন আর দৈনিক ৩৫০০ সীমার কথা মাথায় রাখুন। দুই, নুনিয়াছড়া থেকে অনুমোদিত জাহাজের তারিখ আর সময় লিখিতভাবে নিশ্চিত করুন। তিন, ১০০ টাকা পরিবেশ ফিসহ মোট খরচ জেনে নিন। চার, ট্রাভেল পাস বা কিউআর কোডের ব্যবস্থা আছে কিনা জিজ্ঞেস করুন। পাঁচ, ফেরার জাহাজের সময় আর বাতিলের নিয়ম জেনে রাখুন। ছয়, হালকা ব্যাগ, পানির বোতল, সানস্ক্রিন আর প্লাস্টিকমুক্ত অভ্যাস সঙ্গে নিন। এই ছয়টি ধাপ মানলেই সেন্টমার্টিন ট্রিপটা শুধু সুন্দর নয়, নিরাপদ আর ঝামেলামুক্তও হবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার