রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর, পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল গত ২২ অক্টোবর, আর তারপর থেকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই পর্যটনকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রাইজিংবিডির রাঙামাটি প্রতিনিধির খবরে আজ সকাল ১০টা ২৪ মিনিটে এই পঞ্চম দিনের চিত্র উঠে এসেছে।
আজকের দিনের একটি লক্ষণীয় দিক হলো, অবরোধের সমর্থনে সড়কের কোথাও পিকেটারদের দেখা না গেলেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল রয়েছে। অর্থাৎ রাস্তায় সরাসরি বাধার ছবি না থাকলেও সাজেকমুখী যানচলাচল স্বাভাবিক হয়নি, আর পর্যটনকেন্দ্রটি এখনো বন্ধই রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের তিনটি দাবি রয়েছে। প্রথমটি হলো, সাজেক এলাকা থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্যদের অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া। দ্বিতীয়টি স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আর তৃতীয়টি হলো, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। এই তিন দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে অপসারণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আন্দোলনের মূল দাবি। দাবি পূরণ না হলে কর্মসূচি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা বলা হয়েছে। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সমস্যা সমাধানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একদিকে অনড় অবস্থান, অন্যদিকে আলোচনার চেষ্টা, এই দুইয়ের মাঝখানেই আটকে আছে সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি।
গতকাল পর্যন্ত সাজেকের অবরোধ চতুর্থ দিনে পৌঁছেছিল, আর আজ তা পঞ্চম দিনে গড়াল। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নটাও বড় হচ্ছে, কবে আবার সাজেকের রাস্তা খুলবে, কবে পর্যটকরা আবার সেখানে যেতে পারবেন। এই প্রশ্নের উত্তর এখনো নির্দিষ্ট করে কেউ দিতে পারেননি, কারণ তা নির্ভর করছে দাবি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
পর্যটকদের জন্য এই মুহূর্তের বার্তাটি পরিষ্কার। সাজেকমুখী যাত্রার পরিকল্পনা থাকলে তা আপাতত স্থগিত রাখাই নিরাপদ। ইতিমধ্যে বুকিং করা থাকলে হোটেল বা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগেভাগে যোগাযোগ করে বুকিংয়ের অবস্থা জেনে নেওয়া ভালো। স্থানীয় প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সাজেকের রাস্তায় যাত্রা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সাজেকের এই অচলাবস্থা শুধু পর্যটকদের যাত্রা আটকে দেয়নি, স্থানীয় জীবনযাত্রার ওপরও চাপ তৈরি করেছে। পর্যটননির্ভর এই এলাকায় দোকান, পরিবহন আর আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের আয় সরাসরি পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে। পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকলে সেই আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যায়, আর তাই স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়টি শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, জীবিকার প্রশ্নও বটে।
এরপর কী হবে, তা নির্ভর করছে আলোচনার ওপর। পুলিশের পক্ষ থেকে আলোচনার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, আর আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণের শর্তে অনড় রয়েছেন। আলোচনা এগোলে অবরোধ ওঠার পথ খুলতে পারে, আবার আলোচনা ভেঙে গেলে অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হতে পারে। দুই পক্ষের পরবর্তী বক্তব্য আর প্রশাসনের নতুন নির্দেশনার দিকেই এখন সবার নজর।
সাজেকের সর্বশেষ অবস্থা বদলালে তা জানানো হবে। আপাতত যাঁরা সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের উচিত যাত্রার আগে সর্বশেষ খবর যাচাই করে নেওয়া এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা।
