বিনোদন ঝলক
সিনেমা

আর কমেডি করবেন না 'দ্য ডিক্টেটর' খ্যাত সাচা ব্যারন কোহেন: 'এটাই শেষ'

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৫ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
সাচা ব্যারন কোহেনের বিদায়ী কমেডি ঘোষণা নিয়ে নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

বিশ্বজুড়ে কমেডি চরিত্র দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ব্রিটিশ অভিনেতা সাচা ব্যারন কোহেন জানিয়ে দিলেন, কমেডি ঘরানায় এটাই তাঁর শেষ কাজ। গত শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত নতুন কমেডি সিনেমা 'আলি জি: হু ইজ আই?'। এই সিনেমা নিয়েই সম্প্রতি দ্য হলিউড রিপোর্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৫৫ বছর বয়সী অভিনেতা বলেছেন, এটাই হতে যাচ্ছে তাঁর কমেডি ঘরানার শেষ সিনেমা। তাঁর ভাষায়, এইমাত্র যে সিনেমাটি তিনি করেছেন, সেটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সিনেমা, কিন্তু এ ধরনের কাজ তিনি আর করবেন না।

এর আগেও একবার এ ধরনের কমেডি থেকে সরে আসার কথা বলেছিলেন কোহেন। তারপরও আবার একই ঘরানায় ফিরলেন কেন, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি সমাজের গতিপথ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে তিনি আতঙ্কিত। সিনেমার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক মতাদর্শের দুই প্রান্তের চরমপন্থা এবং ভালো কাজের নামে চালানো সহিংসতার বিপদ তুলে ধরতে চেয়েছেন। এই উদ্বেগ থেকেই নতুন সিনেমাটি করা, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্র আর মিথ্যায় ভরা পৃথিবী নিয়েও নিজের ভয় লুকাননি কোহেন। তাঁর মতে, মানুষের মধ্যে অভিন্ন সত্য না থাকলে গণতন্ত্র ভেঙে পড়বে, আর সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, মানুষকে হাসানোও এক ধরনের থেরাপি। অর্থাৎ হাসির মধ্য দিয়ে কঠিন সত্যকে সামনে আনার চেষ্টাটাই তাঁর এই সিনেমার প্রেরণা।

এ ধরনের সিনেমা বানানো যে কতটা কঠিন, সেটাও খোলাখুলি বলেছেন অভিনেতা। তাঁর ভাষায়, এই সিনেমাগুলো বানানো সত্যিই খুব কঠিন। শুধু কঠিনই নয়, ঝুঁকিপূর্ণ এবং শারীরিকভাবেও বেশ কষ্টসাধ্য। নতুন সিনেমার শেষ দৃশ্যটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা দিয়ে বিষয়টি বুঝিয়েছেন তিনি। শেষ দৃশ্যটি ১২টি লোকেশনে টানা আট ঘণ্টা ধরে ধারণ করা হয়েছে। দৃশ্যটিতে ছিল গুলির শব্দ, চিকিৎসার একটি প্রক্রিয়া, ড্রোন ও বিস্ফোরণের মতো নানা উপাদান। শুটিংয়ের সময় ঝুঁকি কমিয়ে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন তিনি ও তাঁর দল।

কোহেনের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে বোঝা যায়, কেন এই ঘোষণা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০০০ সালে 'ডা আলি জি শো' দিয়ে পরিচিতি পান তিনি। পরে ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া 'বোরাট' তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। এরপর 'ব্রুনো', 'দ্য ডিক্টেটর' ও 'হু ইজ আমেরিকা'র মতো কাজেও দেখা গেছে তাঁকে। বিশেষ করে 'দ্য ডিক্টেটর' সিনেমায় স্বৈরশাসকের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান এই অভিনেতা। ছদ্মবেশী সাক্ষাৎকার আর বিতর্কিত চরিত্রের মধ্য দিয়ে সমাজের কুসংস্কার আর ভণ্ডামিকে ব্যঙ্গ করাই ছিল তাঁর স্বাক্ষর।

এখন সেই স্বাক্ষর ঘরানা থেকেই সরে আসতে চাইছেন কোহেন। তাঁর মতে, এই কমেডি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগেও একবার সরে আসার কথা বলেও ফিরেছিলেন, তবে এবার ঘোষণাটা এসেছে নতুন সিনেমার মুক্তির সঙ্গেই, ফলে একে নিছক কথার কথা ভাবার সুযোগ কম। এরপর তিনি ঠিক কোন ধরনের কাজে মন দেবেন, সাক্ষাৎকারে তা বিস্তারিত জানাননি। তবে এটা পরিষ্কার, কমেডির বাইরে অন্য ধরনের কাজেই এখন তাঁর আগ্রহ।

এরপর কোন ধরনের কাজে তাঁকে দেখা যাবে, তার একটা আভাস অবশ্য মঞ্চ থেকে মিলেছে। কোয়েন্টিন টারান্টিনোর প্রথম মঞ্চনাটক 'দ্য পপিঞ্জয় ক্যাভালিয়ার'-এ অভিনয় করছেন কোহেন, লন্ডনের ফিনিক্স থিয়েটারে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চলবে নাটকটি। অর্থাৎ ক্যামেরার কমেডি চরিত্র থেকে সরে এসে সরাসরি মঞ্চের অভিনয়ে মন দেওয়ার দিকেই এগোচ্ছেন তিনি, যেখানে কাটছাঁটের সুযোগ নেই, পুরোটাই সরাসরি দর্শকের সামনে।

কোহেনের এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত মোড় বদলেই সীমাবদ্ধ নয়। গত দুই দশকে তাঁর চরিত্রগুলো দর্শককে হাসিয়েছে, আবার বিতর্কও তৈরি করেছে। সমর্থকদের চোখে তাঁর কাজ সমাজের আয়না, সমালোচকদের চোখে কখনো কখনো সীমা ছাড়ানো রসিকতা। নতুন সিনেমা 'আলি জি: হু ইজ আই?' তাই একই সঙ্গে একটি মুক্তি আর একটি বিদায়। কমেডি ছাড়া কোহেনকে দর্শক কীভাবে গ্রহণ করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার