ছোটবেলা থেকেই গানের সঙ্গে মেহেদী সরকারের সখ্য। সংগীত বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। নিয়মিত গাইছেন টেলিভিশন ও বেতারে। এবার হলো তাঁর প্লেব্যাকে অভিষেক। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া মুনতাসির আকিবের সিনেমা চিরকুটে মেহেদী গেয়েছেন রঙিলা আসমান। গানটিতে মেহেদীর সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন রাকিবা ঐশী। গানটি প্রকাশের পর থেকে মিলছে প্রশংসাও।
প্রথম প্লেব্যাক করে মেহেদী উচ্ছ্বসিত, সেই সঙ্গে মায়ের জন্যও বিষণ্ণ মন। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল কণ্ঠশিল্পী হওয়ার। সেই স্বপ্নের পথেই হেঁটে চলেছেন তিনি। এ পথচলায় সব সময়ই পাশে ছিল তাঁর পরিবার। কিন্তু প্রথম প্লেব্যাক তাঁর মা শুনে যেতে পারলেন না। আজ মা বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই অনেক খুশি হতেন। আনন্দ আর না পাওয়ার এই মিশেল অনুভূতিই মেহেদীর প্রথম প্লেব্যাকের গল্পকে আলাদা করে তুলেছে।
গানটির কারিগরি দিকটাও মেহেদীর নিজের হাতে গড়া। কিঙ্কর আহসানের কথায় এ গানের সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন মেহেদী সরকার নিজেই। কোরাসে কণ্ঠ দিয়েছেন নাহিয়া কলি, এলিন উল্কা, হাবিবুর রহমান, রিয়াজ উদ্দিন শাহেদ ও তূর্য নন্দী। মিউজিক প্রোগ্রামিংয়ে ছিলেন কৌশিক আহমেদ অন্তর এবং সাউন্ড ডিজাইনে জেএইচ মুন্না। অর্থাৎ শুধু গায়ক হিসেবে নয়, সংগীত পরিচালক হিসেবেও এই গানে নিজের ছাপ রেখেছেন মেহেদী।
মেহেদীর প্রস্তুতিটা হঠাৎ করে আসেনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে পড়ছেন স্নাতকোত্তরে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নিয়মিত গান করছেন। এ ছাড়া নিজের স্টুডিওতে গান নিয়েও তাঁর ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। টেলিভিশন ও বেতারের নিয়মিত গায়ক থেকে সিনেমার প্লেব্যাকে আসা, এই ধাপটি তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য বড় মোড়।
চিরকুট সিনেমাটির প্রেক্ষাপটও এই গানের সঙ্গে মিলে যায়। সিনেমায় অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, আজিজুন মিম, সুমন পাটোয়ারি, কাজী নওশাবা আহমেদ, সিয়াম নাসির, আব্দুল্লাহ আল সেন্টু প্রমুখ। নব্বইয়ের দশকের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি এই ছবির গান হিসেবে রঙিলা আসমান তাই শুধু একটি প্লেব্যাক অভিষেক নয়, নতুন প্রজন্মের একজন গায়কের সিনেমায় পা রাখার চিহ্নও বটে।
এরপর কী, তা নির্ভর করছে দর্শক ও শ্রোতার প্রতিক্রিয়ার ওপর। প্রথম গানেই প্রশংসা মিলেছে, এটা মেহেদীর জন্য বড় উৎসাহ। তবে একটি গানের সাফল্য দিয়ে ক্যারিয়ার মাপা যায় না। সামনে আরও প্লেব্যাকের সুযোগ আসে কি না, এবং সেখানে তিনি নিজের সুর ও কণ্ঠের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটাই ঠিক করবে এই অভিষেক কতদূর যাবে।
