বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

তারকা

কেন অভিনয়ে আসেননি নায়করাজ রাজ্জাকের মেজ ছেলে বাপ্পী: কানাডা থেকে পডকাস্টে বাবার কান্নার স্মৃতি

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৮ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
রাজ্জাকের ছেলে বাপ্পীর পডকাস্ট স্মৃতিচারণ নিয়ে তৈরি মূল গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

নায়করাজ রাজ্জাকের তিন ছেলে, বাপ্পারাজ, বাপ্পী ও সম্রাট। বড় ছেলে বাপ্পারাজ ও ছোট ছেলে সম্রাট অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মেজ ছেলে রওশন হোসেন বাপ্পী বরাবরই থেকেছেন আড়ালে। পর্দার সামনে তো বটেই, পর্দার বাইরেও তাকে খুব একটা দেখা যায় না। প্রায় এক দশক ধরে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি। সম্প্রতি সেখান থেকেই একটি পডকাস্টে যুক্ত হয়ে বাবা রাজ্জাককে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন বাপ্পী। জানিয়েছেন, অভিনয়ে না এলেও বাবার সিনেমায় ক্যামেরার পেছনে থেকে কাজ করেছেন তিনি।

অনেকের ধারণা, ছোটবেলা থেকেই দেশের বাইরে ছিলেন বাপ্পী। তবে পডকাস্টে তিনি জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় মা-বাবার সঙ্গেই কেটেছে তার। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার তেজগাঁও শাহীন স্কুল, নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৪ সালে পাড়ি জমান কানাডায়। তবে ছেলের বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্তে প্রথমে রাজি ছিলেন না নায়করাজ। সেই স্মৃতি মনে করে বাপ্পী বলেন, যখন তিনি চলে আসেন, তখন তার বাবা একেবারেই রাজি ছিলেন না। বারবার বলছিলেন, সেখানে গিয়ে তুমি কী করবে। তখন তার মেয়ে কানাডায় পড়ালেখা করছিল। মেয়েকে বোঝানোর পর তিনি রাজি হন।

বাবার কঠোর ভাবমূর্তির আড়ালে সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথাও উঠে এসেছে এই স্মৃতিচারণায়। বাপ্পী জানান, তার বাবা খুব কঠিন মানুষ ছিলেন। নিজের অনুভূতি সবাইকে বুঝতে দিতেন না। তিনি চলে আসার পর মায়ের কাছ থেকে শুনেছেন, রুম বন্ধ করে বাবা অনেক কেঁদেছিলেন। বাবার কান্নার সেই স্মৃতি বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাপ্পী। একসময় যাকে কঠোর মানুষ হিসেবে দেখেছেন, তার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা মনে করে কেঁদে ফেলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই বাবার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত হন বাপ্পী। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কাজ দেখাশোনা করতেন তিনি। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে বাপ্পী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার বাবা বলেছিলেন, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি দেখতে। এরপর পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনে সময় দিতে শুরু করেন তিনি। সৎ ভাই সিনেমা থেকে তিনি প্রযোজনার কাজের সঙ্গে যুক্ত। এরপর চাপাডাঙ্গার বউ দিয়ে বড় ভাই বাপ্পারাজ সিনেমায় নাম লেখায়। আর সম্রাট তখন অনেক ছোট।

একসময় অভিনয়ের প্রতিও আগ্রহ ছিল বাপ্পীর। মার্শাল আর্টও শিখেছিলেন তিনি। কিন্তু পড়াশোনার চাপ এবং পরে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত অভিনয়ে আসা হয়নি তার। এ প্রসঙ্গে বাপ্পী বলেন, অভিনয় করার আগ্রহ ছিল। মার্শাল আর্টও শিখেছিলেন। কারণ সে সময় সোহেল রানা মার্শাল আর্টের সিনেমা শুরু করেছিলেন, যা তার খুব ভালো লেগেছিল। তার বাবাও মার্শাল আর্ট শিখতে উৎসাহ দিয়েছিলেন। কিন্তু পড়াশোনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় আর মনোযোগ দিতে পারেননি। এরপর ব্যবসায় যখন ঢুকে গেলেন, তখন মন ঘুরে যায়। তবে সিনেমার পেছনে অনেক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বিশেষ করে বাবা কেন চাকর সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা থেকে শুরু করে রেকর্ডিং পর্যন্ত বাবার সঙ্গেই ছিলেন।

পর্দায় অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন নায়করাজ রাজ্জাক। তবে পরিবারের কাছে তিনি কেমন ছিলেন, সে কথাও জানিয়েছেন বাপ্পী। তার ভাষায়, সন্তানদের মানুষ করার ক্ষেত্রে যেমন কঠোর ছিলেন রাজ্জাক, তেমনি তাদের প্রতি ছিল গভীর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ। বাবা হিসেবে তিনি ছিলেন অসাধারণ। একজন পারফেক্ট বাবা হিসেবে সন্তানদের যেভাবে মানুষ করতে হয়, ঠিক সেভাবেই তাদের গড়ে তুলেছেন তিনি। সন্তানদের সময় দেওয়া, খোঁজখবর রাখার বিষয়গুলো তিনি খুব খেয়াল রাখতেন। প্রায়ই তাদের নিয়ে ঢাকার বাইরে ঘুরতে যেতেন।

বাবার কঠোর শাসনের পেছনে যে সন্তানদের ভালো রাখার চিন্তা ছিল, তা বড় হওয়ার পর আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন বাপ্পী। সন্ধ্যার পর বা বাড়ির বাইরে না থাকার নিয়ম থেকে শুরু করে সন্তানদের জন্য বাড়িতে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা, সবকিছুই ছিল রাজ্জাকের পরিকল্পনার অংশ। বাপ্পী বলেন, তার বাবার কড়া শাসনটা তাদের খুব কাজে লেগেছে। সে সময় হয়তো মাঝে মাঝে মনে করতেন, তিনি এত কড়া কেন, এত রাগারাগি কেন করেন। এখন বুঝতে পারেন, তাদের ভালোর জন্যই তিনি এমন করতেন। তার বাবার কড়া নিয়ম ছিল, সন্ধ্যার পর তারা ঘরের বাইরে থাকতে পারবে না। এ কারণে বাসার মধ্যেই অনেক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তিনি। খেলার মাঠ থেকে শুরু করে সুইমিংপুল, পশুপাখি, বিড়াল, সবকিছু ছিল তাদের। ছুটির দিনে তাদের বন্ধুরাও বাসায় চলে আসত।

বাপ্পীর এই পডকাস্ট তাই শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বাংলাদেশের সিনেমার এক সোনালি সময়ের ভেতরের ছবিও। যে মানুষটিকে পর্দায় নায়করাজ হিসেবে চেনে সবাই, ঘরে তিনি ছিলেন কঠোর কিন্তু স্নেহশীল এক বাবা। আর যে ছেলে অভিনয়ে আসতে পারতেন, তিনি বেছে নিয়েছিলেন ক্যামেরার পেছনের কাজ আর পরে ব্যবসা। বাপ্পীর ভাষায়, বাবার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আর পরিবারের সেই শাসনই তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে দিয়েছে। কানাডা থেকে দেওয়া এই বিরল সাক্ষাৎকারে তাই রাজ্জাক পরিবারের এক অচেনা দিকই উঠে এল।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন