বিনোদন ঝলক
তারকা

নেতিবাচক চরিত্র চান পূর্ণিমা: ২৮ বছর পর রোমান্টিক ইমেজ ভাঙতে চান নায়িকা

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৭ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
পূর্ণিমার নেতিবাচক চরিত্রের ইচ্ছা নিয়ে তৈরি গ্রাফিক
নেতিবাচক চরিত্র চান পূর্ণিমা (ছবি: বিনোদন ঝলক)

দর্শকের কাছে রোমান্টিক নায়িকা হিসেবেই পরিচিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। প্রায় ২৮ বছরের অভিনয় জীবনে বিভিন্ন নায়কের বিপরীতে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। এবার সেই পরিচিত গণ্ডি ভেঙে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছার কথা জানালেন অভিনেত্রী। নতুন চরিত্রের খোঁজে আছেন তিনি, আর সেই চরিত্রটি হতে পারে নেতিবাচক।

পূর্ণিমা জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও কখনো নেতিবাচক চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাননি তিনি। গণমাধ্যমে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন কোনো চরিত্র পেলে সিনেমায় কাজ করবেন। তার ভাষায়, এখন অনেক সিনেমা বা ওটিটিতে নায়িকারা নেতিবাচক চরিত্র বা ভিন্ন কিছু নিয়েই দর্শকের সামনে আসছেন। তিনিও সুন্দরী নায়িকা আর পরিপাটি ইমেজের বাইরে কোনো চরিত্র চান।

সবচেয়ে জোরালো কথাটি তিনি বলেছেন নেতিবাচক চরিত্রের প্রভাব নিয়ে। তার ইচ্ছা, তার নেতিবাচক চরিত্র দেখে দর্শকের যেন সেই চরিত্রের প্রতি ঘৃণা হয়। তার মতে, তাকে নিয়ে এ ধরনের চরিত্র কেউ আজ পর্যন্ত চিন্তা করেনি। এই একটি লাইনেই বোঝা যায়, তিনি শুধু ভিন্ন কিছু করতে চান না, দর্শকের মনে দাগ কাটার মতো একটি চরিত্র করতে চান।

কেন এই ইচ্ছা এখন আলোচনায়, তার কারণ বদলে যাওয়া দর্শকরুচি। একসময় নায়িকা মানেই ছিল মিষ্টি, পরিপাটি, রোমান্টিক চরিত্র। এখন সিনেমা ও ওটিটিতে নায়িকারা খল চরিত্র, জটিল চরিত্র, ধূসর চরিত্রে আসছেন, আর দর্শকও সেগুলো গ্রহণ করছেন। পূর্ণিমার কথায় সেই বদলের ছাপ স্পষ্ট। তিনি নিজের পরিচিত ইমেজের বাইরে গিয়ে নিজেকে নতুন করে পরখ করতে চান।

পূর্ণিমার ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে এই ইচ্ছার গুরুত্ব আরও বোঝা যায়। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো মনের মাঝে তুমি, যোদ্ধা, হৃদয়ের কথা, বিয়ের প্রস্তাব, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু, শাস্তি, সুভা, মনের সাথে যুদ্ধ ও সুলতান। এই তালিকাটি দেখলেই বোঝা যায়, রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে তার জায়গা কতটা পোক্ত। আর ঠিক সেই জায়গা থেকেই তিনি ভিন্ন পথে হাঁটতে চাইছেন।

এদিকে পূর্ণিমা অভিনীত গাঙচিল ও জ্যাম শিরোনামের দুটি সিনেমা দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই দুটি সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহও আছে। তবে নতুন করে নেতিবাচক চরিত্রের কথা বলার মানে এই নয় যে, এই দুটি সিনেমাতেই তিনি খল চরিত্রে আছেন। সূত্রে এমন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তার কথাটি ভবিষ্যতের কাজ নিয়ে, একটি ইচ্ছা ও একটি খোঁজের কথা।

এই খোঁজটি নির্মাতাদের জন্যও একটি বার্তা। একজন প্রতিষ্ঠিত নায়িকা যখন প্রকাশ্যে বলেন, তাকে নিয়ে নেতিবাচক চরিত্র কেউ চিন্তা করেনি, তখন সেটি কাস্টিং নিয়ে ভাবনার জায়গাটিও খুলে দেয়। দর্শকের কাছে পূর্ণিমার মুখটি পরিচিত, তার অভিনয়ও পরিচিত। সেই পরিচিত মুখে যদি অপরিচিত একটি চরিত্র আসে, তাহলে তার প্রভাব বেশি হওয়ার কথা। পূর্ণিমা নিজেও সেটাই চাইছেন, চরিত্রটি যেন দর্শকের মনে ঘৃণা তৈরি করে, অর্থাৎ অভিনয়টি যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়।

এরপর কী হবে, তা এখনো ঘোষিত নয়। কোনো নতুন সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে পূর্ণিমার কাজের ঘোষণা এই প্রতিবেদনে আসেনি। গাঙচিল ও জ্যাম মুক্তির অপেক্ষায় থাকা অবস্থায়, ভক্তরা এখন দেখতে চাইবেন, এই ইচ্ছা কোনো নির্মাতার চোখে পড়ে কি না। রোমান্টিক নায়িকা থেকে খল চরিত্রে যাওয়ার পথটি সহজ নয়, কিন্তু পূর্ণিমার কথায় সেই পথে হাঁটার আগ্রহ স্পষ্ট। দর্শকের কাছে প্রশ্ন এখন একটাই, পূর্ণিমাকে নেতিবাচক চরিত্রে দেখতে কেমন লাগবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার