বিনোদন ঝলক
তারকা

সিঙ্গাপুরে মঞ্চে কেঁদে ফেললেন আমির খান: ৩০ বছর কাজের পেছনে ছুটে পরিবারকে সময় দিতে পারিনি

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৫ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
সিঙ্গাপুর উৎসবে আমির খানের আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে অরিজিনাল গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না বলিউড অভিনেতা আমির খান। করোনাকালের একটি অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বারবার থামতে হচ্ছিল ৬১ বছর বয়সী এই অভিনেতাকে। নিজেকে সামলে নেওয়ার জন্য কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে দর্শকদের কাছে ক্ষমাও চান তিনি। তখন উপস্থিত দর্শকেরা করতালি দিয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান।

বৃহস্পতিবার উৎসবে নিজের জীবন ও কাজ নিয়ে এক আলোচনায় অংশ নেন আমির। সেখানে তিনি জানান, প্রায় ৩০ বছর কাজ নিয়ে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে পরিবার ও কাছের মানুষদের সময় দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবেননি। করোনার সময় বসে ভাবতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, জীবনের প্রায় ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে। এক বছর, দুই বছর কিংবা পাঁচ বছর নিজের কাজ নিয়ে পাগলের মতো মেতে থাকা যায়। কিন্তু সেটা যদি ৩০ বছর ধরে চলতে থাকে, তাহলে সম্পর্কগুলো হারিয়ে যায়। সন্তানেরা বড় হয়ে যায়, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে। তখন তাঁর ভেতরে গভীর এক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল।

এই উপলব্ধির কথা বলতে গিয়েই আমির জানান, তিনি খুব খুশি যে এই ভাবনা তাঁর ৫৬ বছর বয়সে এসেছে, ৮৬ বছর বয়সে নয়। তখন হয়তো কিছু করার জন্য সত্যিই অনেক দেরি হয়ে যেত। এই একটি বাক্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ এতে ধরা আছে একজন সফল অভিনেতার দেরিতে আসা আত্মসমালোচনা, যেখানে সাফল্যের হিসাবের পাশে পরিবারের হিসাবটাও খোলাখুলি রাখা হয়েছে।

তবে আমিরের উপলব্ধি কেবল অতীতের আফসোসে আটকে নেই। গত চার বছরে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জন্য সচেতনভাবে সময় বের করার চেষ্টা করছেন তিনি। কাজ যেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দখল করে না নেয়, সে বিষয়েও সতর্ক হয়েছেন। অর্থাৎ উপলব্ধি থেকে বদলের চেষ্টা, এই দুটি ধাপই তাঁর কথায় ধরা পড়েছে।

আলোচনায় নিজের ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ের কথাও তুলে ধরেন আমির। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পাওয়া কেয়ামত সে কেয়ামত তক তাঁকে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। ছবিটির সাফল্যের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ছয় মাসে নয়টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হন তিনি। শুরুতে মনে হয়েছিল, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাবেন। কিন্তু একের পর এক ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হতে থাকলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

একটি সফল ছবি দিয়েই পরিচিতি পাওয়া অভিনেতা হিসেবে থেমে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁকে গ্রাস করে। সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে আমির জানান, তৎকালীন স্ত্রী রিনার কাছে ফিরে গিয়ে কাঁদতেন তিনি। একের পর এক ছবি দর্শকের মন জয় করতে না পারায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, সেই সময় মানসিক ও আবেগের দিক থেকে মনে হতো, তিনি যেন চোরাবালিতে আটকে গেছেন। ধীরে ধীরে ডুবে যাচ্ছেন। বেরিয়ে আসার জন্য যত বেশি চেষ্টা করছেন, ততই আরও গভীরে চলে যাচ্ছেন।

এই আলোচনার উপলক্ষটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এবার আমির খানকে দেওয়া হয়েছে স্ক্রিন আইকন পুরস্কার। হংকংয়ের চলচ্চিত্র নির্মাতা পিটার চ্যান হো সান তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন। পরে সিঙ্গাপুরের কৌতুকাভিনেতা ঋষি বুধরানির সঞ্চালনায় নিজের জীবন ও কাজ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন অভিনেতা।

এর আগে ২০১৭ সালে উৎসবে গিয়েছিলেন আমির। সে সময় সেখানে প্রদর্শিত হয়েছিল তাঁর প্রযোজিত ছবি সিক্রেট সুপারস্টার। এবার উৎসবে তাঁর প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশের ছবি লগানের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অর্থাৎ একদিকে সম্মাননা, অন্যদিকে নিজের প্রযোজক জীবনের শুরুর ছবির রজতজয়ন্তী, দুই মিলিয়ে সিঙ্গাপুর সফরটি আমিরের জন্য বিশেষ হয়ে উঠেছে।

কেন এই খবরটা গুরুত্বপূর্ণ, তার কারণ শুধু আবেগের মুহূর্ত নয়। তিন দশক ধরে নিখুঁত অভিনয়, ভালো সিনেমা আর নতুন কিছু করার নেশায় ডুবে থাকা একজন অভিনেতা যখন প্রকাশ্যে বলেন, কাজের পেছনে ছুটতে গিয়ে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় হারিয়ে ফেলেছেন, তখন তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি থাকে না। সাফল্য আর পরিবারের ভারসাম্য নিয়ে সবার ভাবনার খোরাকও হয়ে ওঠে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার