বলিউডের পরিচিত খলনায়ক মুকেশ ঋষি এবার বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করছেন, আর এই খবরটি ৪ নভেম্বর একসঙ্গে একাধিক প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সিনেমার নাম নসিব, পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল, আর খবরটি পরিচালক নিজেই সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ফলে এটি কোনো গুঞ্জন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুমান নয়, সরাসরি পরিচালকের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত একটি নিশ্চিত কাস্টিং খবর। এই গাইডে নসিব নিয়ে এখন পর্যন্ত যাচাই করা সব তথ্য এক জায়গায় সাজানো হয়েছে, যাতে পাঠককে আলাদা আলাদা খবর ঘেঁটে দেখতে না হয়।
নসিব একটি নির্মাণাধীন ঢাকাই সিনেমা, যার পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির গল্প ভাবনা আরশাদ আদনানের। সিনেমাটি আগামী ঈদুল ফিতরে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার, আগামী ঈদুল ফিতর একটি লক্ষ্য, কোনো ঘোষিত মুক্তির তারিখ নয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে সিনেমার নির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ দেওয়া হয়নি, তাই কোনো নির্দিষ্ট তারিখকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
নসিব নিয়ে মানুষ ঠিক কী খুঁজছেন, সেটা বোঝা খুব সহজ। সার্চে ঘুরছে নসিব সিনেমা কবে আসবে, নসিব সিনেমায় মুকেশ ঋষি কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন, নসিবের নায়ক নায়িকা কারা, আর নসিব কোথায় দেখা যাবে, এই প্রশ্নগুলো। এই গাইডের প্রতিটি অংশ সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য সাজানো হয়েছে। যেখানে উত্তর জানা আছে, সেখানে সূত্রসহ উত্তর দেওয়া হয়েছে, আর যেখানে উত্তর এখনো প্রকাশিত হয়নি, সেখানে সেটাও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যাতে পাঠক ভুল তথ্য নিয়ে না ফেরেন।
কাস্টিংয়ের মূল খবরটি হলো, মুকেশ ঋষি নসিবে প্রধান খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করছেন। জাগো নিউজ, কালের কণ্ঠ, সমকাল ও চ্যানেল আই অনলাইন, চারটি মাধ্যমেই এই বিষয়টি একইভাবে এসেছে। পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে মুকেশ ঋষি এই সিনেমায় খলচরিত্রে থাকছেন। আরও জানানো হয়েছে, সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিংয়ে অংশ নেবেন এই অভিনেতা। অর্থাৎ তার চরিত্রটি শুধু নামমাত্র উপস্থিতি নয়, গল্পের সংঘাত আর অ্যাকশন অংশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে বলেই প্রতিবেদনগুলো থেকে বোঝা যায়।
পরিচালকের বক্তব্য এই খবরের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি। মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, আমার নতুন সিনেমা নসিবে খলচরিত্রে অভিনয় করবেন মুকেশ ঋষি। এ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে চলতি মাসেই বাংলাদেশে আসবেন। এই বক্তব্য থেকেই দুটি বিষয় নিশ্চিত হয়, প্রথমত, কাস্টিং চূড়ান্ত, দ্বিতীয়ত, তার বাংলাদেশে আসা ও শুটিংয়ে অংশ নেওয়া চলতি মাসের, অর্থাৎ নভেম্বর মাসের পরিকল্পনার অংশ। তবে তার বাংলাদেশে আসার নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দেওয়া হয়নি, তাই কোনো নির্দিষ্ট দিনকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে লেখা যাবে না।
শুটিংয়ের টাইমলাইন এখন পর্যন্ত এভাবে জানা গেছে। নসিবের প্রথম লটের শুটিং ইতিমধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকেশনে শেষ হয়েছে। এবার শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় লটের কাজ। পরিচালক জানিয়েছেন, টিম এখন দ্বিতীয় লটের শুটিংয়ের জন্য বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছে, আর সেখানে ৯ তারিখ থেকে মূল শুটিংয়ের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি মাসে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন লোকেশনে শুটিংয়ে অংশ নেবেন মুকেশ ঋষি। সব মিলিয়ে ছবিটি এখন শুটিং পর্যায়ে আছে, মুক্তির আগে এখনো শুটিং ও পরবর্তী কাজের ধাপ বাকি, এটাই বর্তমান অবস্থা।
এবার প্রশ্ন, মুকেশ ঋষি আসলে কে, আর কেন তার নাম এত পরিচিত। প্রতিবেদনগুলোতে তাকে বর্ণনা করা হয়েছে শক্তিশালী শারীরিক গঠন, গম্ভীর কণ্ঠস্বর আর পর্দায় ভয়ংকর উপস্থিতির অভিনেতা হিসেবে। নব্বইয়ের দশক থেকে তিনি হিন্দি সিনেমাপ্রেমীদের কাছে পরিচিত মুখ। জাগো নিউজের ভাষায়, তিন দশকের বেশি সময় ধরে গম্ভীর কণ্ঠস্বর, সুঠাম শারীরিক গঠন আর ভয়ংকর সব খলচরিত্রে তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। একজন খলনায়কের ক্ষেত্রে এই তিনটি গুণ, চেহারা, কণ্ঠ আর পর্দায় উপস্থিতি, একসঙ্গে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ, আর মুকেশ ঋষির ক্ষেত্রে ঠিক এই কারণেই দর্শক তাকে মনে রাখেন।
মুকেশ ঋষির অভিনয়জীবন শুধু হিন্দি সিনেমায় সীমাবদ্ধ নয়, এটিও প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। বলিউডের পাশাপাশি তিনি তেলুগু, তামিল, কন্নড়, মালয়ালম ও পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন। ১৯৯০ এর দশক থেকে বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে তিনি নিয়মিত কাজ করে আসছেন। এই বহুভাষিক অভিজ্ঞতা নসিবের ক্ষেত্রে একটি বাড়তি দিক, কারণ একজন অভিনেতা যখন একাধিক ভাষার সিনেমায় কাজ করেন, তখন তার অভিনয়ের ধরন শুধু একটি ইন্ডাস্ট্রির ছকে আটকে থাকে না। বাংলাদেশের দর্শকের কাছে তিনি মূলত হিন্দি সিনেমার খলনায়ক হিসেবে পরিচিত, কিন্তু তার কাজের পরিধি তার চেয়ে অনেক বড়।
অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে মুকেশ ঋষির কাজের তালিকাটি তার পরিচিতির একটি বড় কারণ। প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ আছে, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তিনি সূর্যবংশম, লাল বাদশাহ ও কোহরাম সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এই তিনটি ছবিতেই তিনি অমিতাভ বচ্চনের প্রতিপক্ষ হিসেবে পর্দায় এসেছেন, আর একজন অভিনেতার জন্য বলিউডের সবচেয়ে বড় তারকার বিপরীতে বারবার খলনায়কের চরিত্র পাওয়া নিজেই একটি স্বীকৃতি। দর্শক যখন নসিবের খলনায়ক হিসেবে তার নাম শোনেন, তখন তাদের মনে এই ছবিগুলোর স্মৃতিই প্রথমে ভেসে ওঠে।
সালমান খানের সঙ্গেও তার উল্লেখযোগ্য কাজ আছে। প্রতিবেদনগুলোতে সালমান খানের সঙ্গে তার সিনেমা হিসেবে জুড়ওয়া, বন্ধন ও গর্ব প্রাইড অ্যান্ড অনার এর নাম এসেছে। এই তালিকা থেকে বোঝা যায়, মুকেশ ঋষি শুধু একজন তারকার বিপরীতেই নয়, বলিউডের একাধিক প্রজন্মের বড় তারকার বিপরীতে খলনায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। একজন খলনায়কের ক্যারিয়ারে এই ধারাবাহিকতা খুব কম অভিনেতারই থাকে। কখনো তিনি অমিতাভ বচ্চনের প্রতিপক্ষ, কখনো সালমান খানের, আর প্রতিবারই তার চরিত্রটি গল্পের সংঘাতের কেন্দ্রে থেকেছে।
আমির খানের সারফারোশ সিনেমায় তার চরিত্রটি আবার একটু আলাদা ধরনের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, সারফারোশে ইন্সপেক্টর সেলিম চরিত্রে অভিনয় করে তিনি প্রশংসা পান। অর্থাৎ তিনি শুধু গতানুগতিক খলনায়কই নন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরিত্রেও দর্শক তাকে গ্রহণ করেছেন। আর গুন্ডা সিনেমায় বুল্লা চরিত্রটি তাকে দর্শকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত করে তোলে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ আছে। এই দুটি চরিত্র একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, কেন নির্মাতারা তাকে শুধু ভয়ের মুখ হিসেবে নয়, মনে রাখার মতো চরিত্র হিসেবে বেছে নেন।
নসিবের ক্ষেত্রে এই কাস্টিং কেন আলোচিত, তার প্রথম কারণটি সবচেয়ে সরল, এটি তার প্রথম বাংলাদেশি সিনেমা। প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি, আর প্রথমবারের মতো ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন এই বলিউড অভিনেতা। তিন দশকের বেশি সময় ধরে বলিউডে কাজ করা একজন অভিনেতার প্রথম বাংলাদেশি সিনেমায় আসা নিজেই একটি ঘটনা। দর্শকের কাছে এটি নতুন, নির্মাতাদের কাছে এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ, আর সিনেমার প্রচারের দিক থেকে এটি একটি স্পষ্ট আকর্ষণ।
দ্বিতীয় কারণ, তিনি প্রধান খলনায়কের চরিত্রে আসছেন, আর সঙ্গে থাকছে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্য। একটি বাণিজ্যিক সিনেমায়, বিশেষ করে ঈদে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি সিনেমায়, নায়কের বিপরীতে একজন শক্তিশালী খলনায়ক থাকা গল্পের উত্তেজনা ধরে রাখার জন্য খুব জরুরি। প্রতিবেদনগুলোতে যেহেতু তার অংশে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যের কথা বলা হয়েছে, তাই বোঝা যায় নির্মাতারা তার চরিত্রটিকে গল্পের সংঘাতের কেন্দ্রে রাখছেন। দর্শক যখন ঈদের সিনেমায় অ্যাকশন আর সংঘাত আশা করেন, তখন একজন পরিচিত মুখের খলনায়ক সেই প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয় কারণ, এই কাস্টিং বাংলাদেশের দর্শকের চেনা জগতের সঙ্গে নতুন একটি সংযোগ তৈরি করছে। মুকেশ ঋষিকে বাংলাদেশের দর্শক হিন্দি সিনেমার পর্দায় দেখে এসেছেন, এখন সেই একই অভিনেতাকে বাংলাদেশের গল্পে, বাংলাদেশের লোকেশনে, বাংলাদেশের সিনেমায় দেখা যাবে। কক্সবাজারের লোকেশন আর বগুড়ার আসন্ন শুটিং এই সংযোগকে আরও বাস্তব করে তুলছে। এটি শুধু একটি নামের খবর নয়, এটি দুটি সিনেমা জগতের দর্শকের মধ্যে একটি পরিচিত সেতু।
পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে যা আছে, তা এখানে সেভাবেই রাখা হয়েছে, এর বেশি কিছু যোগ করা হয়নি। প্রতিবেদনগুলোতে তিনি নসিবের পরিচালক হিসেবে পরিচিত, আর কাস্টিং ও শুটিং নিয়ে তার বক্তব্যই খবরের মূল ভিত্তি। তার আগের কাজ বা অন্যান্য সিনেমা নিয়ে এই প্রতিবেদনগুলোতে আলোচনা নেই, তাই এই গাইডে সেসব নিয়ে অনুমান করা হয়নি। একজন পাঠকের জন্য এটা জানা জরুরি যে কোন তথ্য যাচাই করা সূত্রে আছে আর কোন তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
গল্প নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে, তা খুব সীমিত, আর সেটা স্বীকার করাই এই গাইডের সততা। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেমাটির গল্প ভাবনা আরশাদ আদনানের। এর বাইরে গল্পের বিস্তারিত কাহিনি, চরিত্রগুলোর নাম, বা প্লটের মোড় নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে কিছু বলা হয়নি। তাই নসিবের গল্প কেমন হবে, তা নিয়ে এখন কোনো সারাংশ দেওয়া সম্ভব নয়, আর দেওয়া উচিতও নয়। গল্পের বিস্তারিত তথ্য যখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে, তখনই সেটা এই গাইডের আপডেটে যোগ করা যাবে।
যা এখনো জানা যায়নি, তার একটি স্পষ্ট তালিকা এখানে দেওয়া হলো, কারণ একটি ভালো গাইড শুধু জানা তথ্য নয়, না জানা তথ্যও পরিষ্কার করে। প্রথমত, নসিবের নায়ক ও নায়িকার নাম প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নেই। দ্বিতীয়ত, মুকেশ ঋষির চরিত্রের নাম দেওয়া হয়নি, শুধু প্রধান খলনায়ক হিসেবে তার অবস্থান জানানো হয়েছে। তৃতীয়ত, মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষিত হয়নি, শুধু আগামী ঈদুল ফিতর লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে। চতুর্থত, মুকেশ ঋষির বাংলাদেশে আসার নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হয়নি, শুধু চলতি মাসের কথা বলা হয়েছে। পঞ্চমত, সিনেমার পোস্টার, টিজার বা ট্রেলার নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে কোনো ঘোষণা নেই।
এই না জানা তালিকাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার কারণ হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় অসমর্থিত নাম আর তারিখ ঘুরতে থাকে। নসিবের ক্ষেত্রেও এমন দাবি সামনে এলে সেগুলোকে যাচাই না করে বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। যতক্ষণ না পরিচালক বা প্রযোজনা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করছেন, অথবা কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম সেটি নিজস্ব প্রতিবেদনে নিশ্চিত করছে, ততক্ষণ সেসব দাবি গুঞ্জন হিসেবেই থাকবে। এই গাইডে শুধু সেই তথ্যই রাখা হয়েছে, যা চারটি প্রতিষ্ঠিত মাধ্যমের প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে।
ঈদুল ফিতরকে লক্ষ্য করে নির্মাণের অর্থ কী, সেটা বোঝাও দরকার। ঈদ বাংলাদেশের সিনেমা মুক্তির সবচেয়ে বড় সময়গুলোর একটি, আর একটি সিনেমা যখন ঈদকে লক্ষ্য করে নির্মিত হয়, তখন তার শুটিং, প্রচার আর মুক্তির পরিকল্পনা সেই সময়কে ঘিরেই সাজানো হয়। কিন্তু লক্ষ্য আর ঘোষণা এক নয়। নসিব এখন শুটিং পর্যায়ে আছে, বগুড়ায় দ্বিতীয় লটের শুটিং শুরু হতে যাচ্ছে, তাই মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ এখনই ঘোষণা না হওয়াটাই স্বাভাবিক। শুটিং শেষ হওয়ার পর, পরবর্তী ঘোষণাগুলো থেকেই মুক্তির তারিখ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
নসিব কোথায় দেখা যাবে, এই প্রশ্নের উত্তর এখন দুই ভাগে দিতে হয়। প্রথম ভাগ, সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে, কারণ ঈদে মুক্তির পরিকল্পনা মানেই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি। দ্বিতীয় ভাগ, কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি কবে আসবে, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে কোনো ঘোষণা নেই। তাই ওটিটি নিয়ে এখন কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা তারিখ বলা যাবে না। সিনেমাটি মুক্তির পর বৈধ উপায়েই দেখতে হবে, আর ওটিটি সংক্রান্ত ঘোষণা এলে সেটা আলাদাভাবে জানানো হবে।
এরপর কী হতে যাচ্ছে, সেটা এখন সবচেয়ে আগ্রহের অংশ। সবার আগে আছে বগুড়ায় দ্বিতীয় লটের শুটিং, যা ৯ তারিখ থেকে মূল শুটিং হিসেবে শুরু হওয়ার কথা। এই লটের শুটিং চলাকালীন মুকেশ ঋষির বাংলাদেশে আসা ও তার অংশের শুটিং নিয়েও নতুন খবর আসতে পারে। পরিচালক যেহেতু চলতি মাসেই তার আসার কথা বলেছেন, তাই নভেম্বর মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। পাঠকদের জন্য এই সময়টাই সবচেয়ে বেশি নজর রাখার সময়।
এর পরের ধাপে আসবে কাস্ট সংক্রান্ত আরও ঘোষণা। নায়ক ও নায়িকার নাম এখনো প্রকাশিত হয়নি, তাই এই ঘোষণাটি আসার পর নসিবের ছবিটি অনেক বেশি পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে সিনেমার পোস্টার, টিজার বা ট্রেলার সংক্রান্ত ঘোষণাও দর্শকদের জন্য বড় আকর্ষণ হবে। এখন পর্যন্ত এসব নিয়ে কোনো ঘোষণা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নেই, তাই এসবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। কোনো ফ্যান পোস্টার বা অনুমাননির্ভর পোস্টকে আনুষ্ঠানিক পোস্টার হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
নসিবের শুটিং লোকেশন নিয়েও পাঠকদের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। প্রথম লটের শুটিং হয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকেশনে, আর দ্বিতীয় লটের কাজ হচ্ছে বগুড়ায়। চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন লোকেশনের কথাও এসেছে। এই লোকেশনগুলো থেকে বোঝা যায়, সিনেমাটি শুধু স্টুডিওর ভেতরে নয়, বাংলাদেশের বাস্তব জায়গায় শুটিং করছে। তবে কোন কোন নির্দিষ্ট জায়গায় শুটিং হচ্ছে, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বিস্তারিত তালিকা নেই, তাই এখানে নির্দিষ্ট স্থানের নাম যোগ করা হয়নি।
এবার গাইডের প্রশ্নোত্তর অংশে আসা যাক, যেখানে সার্চে সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন, নসিব সিনেমা কবে আসবে। উত্তর, সিনেমাটি আগামী ঈদুল ফিতরে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে, কিন্তু নির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষিত হয়নি। শুটিং চলমান অবস্থায় আছে, আর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হলে সেটাই হবে চূড়ান্ত তথ্য। এর আগে কোনো তারিখকে নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
প্রশ্ন, নসিব সিনেমায় মুকেশ ঋষি কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন। উত্তর, তিনি প্রধান খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করছেন, আর সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিংয়ে অংশ নেবেন। চরিত্রের নাম এখনো প্রকাশিত হয়নি। প্রশ্ন, মুকেশ ঋষি কি প্রথমবার বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করছেন। উত্তর, হ্যাঁ, প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি।
প্রশ্ন, নসিবের নায়ক নায়িকা কারা। উত্তর, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে নায়ক ও নায়িকার নাম দেওয়া হয়নি, তাই এই মুহূর্তে এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর নেই। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে এই গাইডে সেটা যোগ করা হবে। প্রশ্ন, নসিব কোথায় দেখা যাবে। উত্তর, সিনেমাটি ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে, আর কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।
প্রশ্ন, নসিবের শুটিং কোথায় হচ্ছে। উত্তর, প্রথম লটের শুটিং কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকেশনে শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় লটের মূল শুটিং ৯ তারিখ থেকে বগুড়ায় শুরু হতে যাচ্ছে, আর মুকেশ ঋষি চলতি মাসে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন লোকেশনে শুটিংয়ে অংশ নেবেন। প্রশ্ন, নসিবের গল্প কী নিয়ে। উত্তর, গল্প ভাবনা আরশাদ আদনানের বলে জানানো হয়েছে, কিন্তু গল্পের বিস্তারিত কাহিনি এখনো প্রকাশিত হয়নি।
প্রশ্ন, মুকেশ ঋষিকে আগে কোথায় দেখা গেছে। উত্তর, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে সূর্যবংশম, লাল বাদশাহ ও কোহরাম, সালমান খানের সঙ্গে জুড়ওয়া, বন্ধন ও গর্ব প্রাইড অ্যান্ড অনার, আমির খানের সারফারোশে ইন্সপেক্টর সেলিম, আর গুন্ডায় বুল্লা চরিত্রে। এই তালিকাটি প্রতিবেদনগুলো থেকেই নেওয়া, তাই একজন নতুন দর্শকও বুঝতে পারবেন কেন এই অভিনেতার নাম এত পরিচিত।
সবশেষে একটি সারাংশ দেওয়া যাক। নসিব মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত একটি নির্মাণাধীন ঢাকাই সিনেমা, যার গল্প ভাবনা আরশাদ আদনানের, আর যা আগামী ঈদুল ফিতরে মুক্তির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে। এতে প্রথমবার বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করছেন বলিউডের মুকেশ ঋষি, প্রধান খলনায়কের চরিত্রে, গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্য নিয়ে। প্রথম লটের শুটিং কক্সবাজারে শেষ, দ্বিতীয় লটের মূল শুটিং ৯ তারিখ থেকে বগুড়ায়, আর চলতি মাসেই বাংলাদেশে আসছেন মুকেশ ঋষি। নায়ক নায়িকার নাম, চরিত্রের নাম, নির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ আর পোস্টার ট্রেলার নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা নেই, আর নতুন নিশ্চিত তথ্য এলেই এই গাইড আপডেট হবে।
