বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

সিনেমা

অপলক সম্পূর্ণ গাইড: নিশো মেহজাবীনের নতুন সিনেমা কবে আসবে, কাস্ট, গল্প আর পুলসিরাতের সঙ্গে পার্থক্য

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৪ নভেম্বর ২০২৬16 মিনিটে পড়ুন
অপলক সিনেমা নিয়ে অরিজিনাল গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

আদনান আল রাজীবের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নাম অপলক, আর এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকছেন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। ৪ নভেম্বর নির্মাতা নিজের ফেসবুক পোস্টে এই ঘোষণা দিয়েছেন, আর একই দিনে নিশো ও মেহজাবীনের সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে বলে কালের কণ্ঠ জানিয়েছে। একই খবর একই দিনে প্রকাশ করেছে এনটিভি, সময় নিউজ ও ঢাকা পোস্ট। ফলে অপলক এখন আর শুধু একটি ঘোষণার নাম নয়, এটি এখন কাস্টসহ একটি নিশ্চিত প্রজেক্ট, যদিও মুক্তির তারিখ, শুটিংয়ের নির্দিষ্ট দিন আর বাকি কাস্টের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এই গাইডে শুধু যাচাই করা তথ্যই থাকবে, আর যা এখনো জানা যায়নি তা আলাদা করে স্পষ্ট করে দেওয়া হবে, যাতে পাঠক গুঞ্জন আর নিশ্চিত খবর গুলিয়ে না ফেলেন।

অপলক কী, এই প্রশ্নের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো সংক্ষিপ্ত। এটি আদনান আল রাজীবের ক্যারিয়ারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, আর নির্মাতার নিজের ভাষায় এটি একটি ভালোবাসার গল্প। এনটিভি জানিয়েছে, গত এক বছর ধরে এই গল্প নিয়ে কাজ করছেন আদনান, আর লেখার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে, বারবার পরিবর্তন ও পরিমার্জনের পর কয়েক মাস আগে নিজের ভাবনা ও নির্মাণের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মেলে এমন একটি চিত্রনাট্য দাঁড় করাতে পেরেছেন তিনি। অর্থাৎ অপলক হঠাৎ করে ঘোষণা করা কোনো প্রজেক্ট নয়, এর পেছনে অন্তত এক বছরের লেখালেখি ও ভাবনার কাজ আছে। তবে গল্পের চরিত্রদের নাম, গল্পের মোড়, সময়কাল বা স্থান সম্পর্কে এখনো কিছু প্রকাশ করা হয়নি, তাই এই গাইডে গল্পের ভেতরের কোনো বিবরণ বানিয়ে লেখা হয়নি।

৪ নভেম্বরের ঘোষণার ধরনটাও বোঝা দরকার, কারণ এখান থেকেই খবরের নির্ভরযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। নির্মাতা নিজেই ফেসবুক পোস্টে সিনেমার নাম প্রকাশ করেছেন এবং নিশো ও মেহজাবীনের যুক্ত হওয়ার খবর জানিয়েছেন। ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, চুক্তিস্বাক্ষরের ছবি পোস্ট করে আদনান লিখেছেন, এটি তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো টিমের অনেকখানি স্বপ্ন আর ভালোবাসা। একই পোস্টে মেহজাবীনও নিজের ফেসবুক পেজে ছবিগুলো শেয়ার করেছেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। এই কারণে অপলকের কাস্ট নিয়ে এখন আর কোনো জল্পনার জায়গা নেই, অন্তত কেন্দ্রীয় দুটি চরিত্রের ক্ষেত্রে। নির্মাতার নিজের পোস্ট আর চারটি অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট একই তথ্য দিচ্ছে, এটাই এই খবরের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।

নির্মাতা কী ধরনের সিনেমা বানাতে চান, সে বিষয়ে তাঁর নিজের কথাগুলোই সবচেয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা দেয়। ঢাকা পোস্টের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, আদনান লিখেছেন যে তাঁরা একটি সৎ, সরল আর মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক ফিল্ম বানাতে চান, যেখানে মানুষ ভালোবাসার পাশাপাশি নিজেদেরও খুঁজে পাবেন। এই বাক্যটি থেকে দুটি বিষয় বোঝা যায়। প্রথমত, অপলককে নির্মাতা নিজে রোমান্টিক ফিল্ম হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন, কোনো অ্যাকশন বা থ্রিলার হিসেবে নয়। দ্বিতীয়ত, তিনি গল্পের সুর হিসেবে সততা আর সরলতার কথা বলছেন, অর্থাৎ জটিল কৌশলের চেয়ে অনুভূতির সত্যতাকেই তিনি সামনে রাখতে চান। এর বাইরে গল্পের কোনো চমক বা মোড় সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি, এবং এই গাইডও সেখানে কোনো অনুমান যোগ করছে না।

মেহজাবীন চৌধুরীর প্রতিক্রিয়াও এই ঘোষণার অংশ হয়ে গেছে। ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, তিনি নিজের পেজে ছবি পোস্ট করে লিখেছেন যে তাঁদের সিনেমা অপলক অবশেষে হচ্ছে, আর এই সিনেমার জন্য তিনি উদগ্রীব হয়ে আছেন। এই প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, অপলক শুধু নির্মাতার একার প্রজেক্ট নয়, প্রধান অভিনয়শিল্পীরাও এটিকে নিজেদের প্রজেক্ট হিসেবে সামনে আনছেন। দর্শকের জন্য এর তাৎপর্য হলো, ঘোষণার পর প্রজেক্টটি থেমে যাওয়ার আশঙ্কা এখানে কম, কারণ নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পী দুই পক্ষই প্রকাশ্যে এর সঙ্গে নিজেদের নাম যুক্ত করেছেন। তবে উচ্ছ্বাসের এই প্রকাশকে মুক্তির তারিখ বা শুটিং শুরুর তারিখ হিসেবে পড়া যাবে না, কারণ সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।

অপলকের টাইমলাইন বুঝলে পুরো প্রজেক্টের গতি পরিষ্কার হয়। প্রথম ধাপটি ছিল ১২ জুন, যেদিন আদনান নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এনটিভি জানিয়েছে, সেদিন তিনি বলেছিলেন এটি হবে প্রেমের গল্প, আর দীর্ঘদিন ধরেই নিজের মতো করে একটি প্রেমের সিনেমা নির্মাণের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। সেদিন সিনেমার নাম বা অভিনয়শিল্পীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। দ্বিতীয় ধাপটি এলো প্রায় পাঁচ মাস পর, ৪ নভেম্বর, যেদিন নাম প্রকাশ পেল অপলক, আর কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিশো ও মেহজাবীনের নাম এলো, সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার খবর। এই দুই ধাপের মাঝের সময়টায় গল্পের লেখা চলেছে, চিত্রনাট্য পরিমার্জন হয়েছে, আর একটি দল তৈরি হয়েছে। এনটিভির ভাষায়, চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে একই রকম ভাবনা ও স্বপ্ন রয়েছে এমন কয়েকজনকে শুরুতে পাশে পেয়েছিলেন আদনান, আর সময়ের সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আরও অনেকে।

আদনান আল রাজীব কে, এই প্রশ্নের উত্তর ছাড়া অপলকের গুরুত্ব বোঝা যাবে না। তিনি বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবে পরিচিত, আর ছোট পর্দায়ও বেশ কিছু আলোচিত কাজ করেছেন। এনটিভি ও কালের কণ্ঠ দুটি মাধ্যমই তাঁর তিনটি নাটকের নাম উল্লেখ করেছে: কাছে আসার গল্প, বিকেল বেলার পাখি ও মিডল ক্লাস সেন্টিমেন্ট। এই কাজগুলো দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে বলে দুটি রিপোর্টেই বলা হয়েছে। এর বাইরে তাঁর স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, আলী দিয়ে তিনি কান উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছিলেন এবং স্পেশাল মেনশন জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন। এনটিভিও একইভাবে জানিয়েছে, আলীর জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। অর্থাৎ পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় আসার আগে আদনানের ঝুলিতে বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন নাটক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা, তিনটি মাধ্যমের অভিজ্ঞতাই আছে।

প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা কেন একটি নির্মাতার জন্য আলাদা পরীক্ষা, সেটা অপলকের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রযোজ্য। স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমায় একটি ভাবনা সংক্ষেপে বলা যায়, আর বিজ্ঞাপনে একটি মুহূর্তকে তীক্ষ্ণভাবে ধরা যায়, কিন্তু পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় একটি গল্পকে দীর্ঘ সময় ধরে ধরে রাখতে হয়, চরিত্রদের বদল দেখাতে হয়, আর দর্শককে শেষ পর্যন্ত সঙ্গে রাখতে হয়। আদনান নিজেও এই চ্যালেঞ্জের কথা আড়ালে রাখেননি। এনটিভি জানিয়েছে, তিনি বলেছেন এখন তাঁর লক্ষ্য পুরো মনোযোগ দিয়ে কাজটি শেষ করা এবং নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়া। এই বাক্য থেকে বোঝা যায়, তিনি অপলককে শুধু একটি ঘোষণা হিসেবে দেখছেন না, বরং একটি দীর্ঘ কাজের শুরু হিসেবে দেখছেন। দর্শকের জন্য এর মানে হলো, শুটিং শুরুর ঘোষণা এলেও মুক্তি পর্যন্ত আরও অনেকগুলো ধাপ বাকি থাকবে, আর প্রতিটি ধাপে নতুন তথ্য আসবে।

আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরীর জুটি কেন এই ঘোষণাকে এত আলোচিত করেছে, তার কারণ ছোট পর্দার ইতিহাসে লুকিয়ে আছে। ঢাকা পোস্টের ভাষায়, নিশো মেহজাবীন নাটকের সফলতম জুটি, আর একসঙ্গে তাঁরা বহু নাটক করেছেন। এনটিভিও একইভাবে জানিয়েছে, একসঙ্গে তাঁদের বেশ কয়েকটি নাটক ও ওয়েব কনটেন্ট দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। অর্থাৎ এই জুটি দর্শকের কাছে নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পরিচিত ও পরীক্ষিত একটি জুটি। ছোট পর্দায় তাঁদের রসায়ন দর্শক আগেই দেখেছেন, আর এখন প্রশ্ন হলো বড় পর্দার দীর্ঘ গল্পে, বড় ক্যানভাসে সেই রসায়ন কেমন দেখাবে। এই কৌতূহলই অপলক নিয়ে সার্চ আর আলোচনার মূল কারণ, আর এই গাইডের শিরোনামে কবে আসবে প্রশ্নটি থাকার কারণও এটাই।

এই জুটির আরেকটি দিক হলো, আদনান ও মেহজাবীন স্বামী স্ত্রী। ঢাকা পোস্টের শুরুতেই এই তথ্যটি দেওয়া হয়েছে, আর বলা হয়েছে শোবিজে দুজনের পথচলা দীর্ঘদিনের। একজন নির্মাতা যখন নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় নিজের স্ত্রীকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নেন, তখন দর্শকের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, এই সিদ্ধান্ত কি ব্যক্তিগত আস্থার, নাকি চরিত্রের সঙ্গে অভিনয়শিল্পীর মিলের। এই গাইড সে প্রশ্নের কোনো অনুমানমূলক উত্তর দিচ্ছে না, কারণ নির্মাতা নিজে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি। যাচাই করা তথ্য শুধু এটুকুই: আদনান নিজের প্রথম সিনেমাতেই স্ত্রী মেহজাবীনকে অভিনয়ের জন্য বেছে নিয়েছেন, আর এই সিদ্ধান্ত তিনি প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন। বাকিটা দর্শক সিনেমা দেখার পর বিচার করবেন, আর নির্মাতার পরের সাক্ষাৎকারগুলোতে হয়তো এর পেছনের ভাবনা আরও পরিষ্কার হবে।

অপলক নিয়ে একটি পুরোনো গুঞ্জনও এই গাইডে পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার, কারণ সার্চে এখনো সেই গুঞ্জন ঘুরতে পারে। ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, এর মধ্যে গুঞ্জন উঠেছিল যে আদনানের প্রথম সিনেমার নায়ক হবেন সিয়াম আহমেদ, তবে সে গুঞ্জন টেকেনি। আজকের ঘোষণার পর সেই গুঞ্জন আনুষ্ঠানিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে, কারণ কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিশোর নাম নিশ্চিত হয়েছে। তাই অপলকের কাস্ট হিসেবে সিয়াম আহমেদের নাম লেখা এখন ভুল হবে। এই পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক পাঠক পুরোনো জল্পনার লেখা পড়ে নতুন ঘোষণার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে পারেন। এই গাইডে স্পষ্ট করে দেওয়া হলো: অপলকের নিশ্চিত কেন্দ্রীয় কাস্ট শুধু আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী, আর সিয়াম প্রসঙ্গটি এখন শুধু একটি অতীত গুঞ্জন হিসেবেই থাকবে।

অপলক আর পুলসিরাত, এই দুটি সিনেমাকে গুলিয়ে ফেলা এখন সবচেয়ে বড় ভুলের জায়গা, কারণ দুটিতেই একই জুটি আছে। ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, ভিকি জাহেদের নির্মাণে পুলসিরাত সিনেমায়ও একসঙ্গে অভিনয় করছেন নিশো ও মেহজাবীন। আমাদের সাইটেও পুলসিরাত নিয়ে আলাদা লেখা আছে, যেখানে বলা হয়েছে এটি ভিকি জাহেদের সিনেমা। অপলক সেই সিনেমা নয়। অপলকের নির্মাতা আদনান আল রাজীব, আর পুলসিরাতের নির্মাতা ভিকি জাহেদ। দুটি আলাদা গল্প, আলাদা টিম, আলাদা প্রজেক্ট। শুধু অভিনয়শিল্পী জুটি এক, আর দুটি সিনেমাই এখনো মুক্তি পায়নি। তাই কোন সিনেমায় এই জুটিকে দর্শক আগে বড় পর্দায় দেখবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অপলককে পুলসিরাতের নতুন নাম বলা যেমন ভুল হবে, তেমনি পুলসিরাতের খবরকে অপলকের খবর হিসেবে চালানোও ভুল হবে।

পুলসিরাতের সঙ্গে তুলনা করলে অপলকের নিজস্ব পরিচয় আরও পরিষ্কার হয়। পুলসিরাত নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আছে ভিকি জাহেদের নির্মাণশৈলী আর সেই সিনেমার গল্পের ধরন, আর অপলক নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আছে আদনান আল রাজীবের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে এর যাত্রা, আর তাঁর বলা সৎ ও সরল প্রেমের গল্পের প্রতিশ্রুতি। দুটি সিনেমার ঘোষণার ধরনও আলাদা। অপলকের ক্ষেত্রে নির্মাতা নিজে ধাপে ধাপে তথ্য দিচ্ছেন: প্রথমে সিনেমা বানানোর ঘোষণা, তারপর নাম ও কাস্ট। এই ধাপে ধাপে তথ্য দেওয়ার ধরন থেকে বোঝা যায়, আদনান দর্শককে একসঙ্গে সবকিছু না দিয়ে ধীরে ধীরে প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত রাখতে চান। পাঠকের জন্য এর মানে হলো, অপলক নিয়ে পরের ঘোষণাগুলোতেও একই ধরনের ধাপ দেখা যেতে পারে: প্রথমে বাকি কাস্ট, তারপর শুটিংয়ের খবর, তারপর হয়তো ফার্স্ট লুক বা টিজার। তবে এই ক্রমটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তাই এটিকে নিশ্চিত পরিকল্পনা হিসেবে পড়া যাবে না, শুধু একটি সম্ভাব্য ধারা হিসেবে বোঝা যায়।

অপলকের গল্পের ধরন নিয়ে এখন যা জানা যায়, তা নির্মাতার নিজের শব্দেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তিনি বলেছেন এটি একটি ভালোবাসার গল্প, আর তিনি একটি সৎ, সরল ও মন ছুঁয়ে যাওয়া রোমান্টিক ফিল্ম বানাতে চান। এর বাইরে গল্পটি পারিবারিক কি না, শহুরে কি না, এতে কোনো সামাজিক প্রসঙ্গ আছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। এই সীমাবদ্ধতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অনেক সিনেমাই ঘোষণার সময় গল্পের বিস্তারিত গোপন রাখে, যাতে দর্শকের কৌতূহল থাকে আর গল্পের মোড় আগেই ফাঁস না হয়। অপলকের ক্ষেত্রেও নির্মাতা স্পষ্ট করে বলেছেন, সিনেমাটি নিয়ে এখনই বিস্তারিত জানাতে চান না তিনি। তাই গল্প নিয়ে যেকোনো বিস্তারিত দাবি, যেমন চরিত্রের পেশা, গল্পের সমাপ্তি বা কোনো বিশেষ দৃশ্যের বর্ণনা, এখনো যাচাই করা তথ্য নয়, আর এই গাইডে সেগুলো নেই।

বাকি কাস্ট নিয়েও একই সতর্কতা প্রযোজ্য। এনটিভি জানিয়েছে, আরও কয়েকজন অভিনয়শিল্পী এই যাত্রায় যুক্ত হয়েছেন, আর সময়মতো তাঁদের সঙ্গেও দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ বাকি কাস্ট ইতিমধ্যে যুক্ত হয়েছেন বলে নির্মাতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিন্তু তাঁদের নাম এখনো প্রকাশ করেননি। তাই অপলকের কাস্ট তালিকা হিসেবে এখন শুধু দুটি নামই নিশ্চিত: আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। বাকি নামগুলো নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেকোনো তালিকা এখনো গুঞ্জন হিসেবেই ধরতে হবে, যতক্ষণ না নির্মাতা নিজে বা কোনো অনুমোদিত সংবাদমাধ্যম সেই নাম নিশ্চিত করে। এই গাইড প্রকাশের পর বাকি কাস্টের নাম এলে গাইডটি আপডেট করার মতো করে লেখা হয়েছে, কারণ কাস্টের তালিকা এখনো অসম্পূর্ণ, আর সেটা গোপন করা হয়নি।

শুটিং কবে শুরু হবে, এই প্রশ্নের উত্তর এখনো একটি দিকনির্দেশনা মাত্র, কোনো তারিখ নয়। এনটিভি জানিয়েছে, আদনান বলেছেন খুব শিগগিরই অপলকের শুটিং শুরু হবে। কালের কণ্ঠও একই তথ্য দিয়েছে। কিন্তু খুব শিগগিরই বলতে ঠিক কোন মাস বা কোন তারিখ বোঝানো হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। শুটিং কোথায় হবে, কতদিন চলবে, কোনো বিদেশি লোকেশন আছে কি না, সেসবও এখনো অজানা। দর্শকের জন্য এর মানে হলো, শুটিং শুরুর খবর এলে সেটিই হবে অপলকের পরের বড় আপডেট, আর তার আগে শুটিং শুরু হয়ে গেছে বলে কোনো দাবি যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা উচিত নয়। একইভাবে প্রযোজনা সংস্থার নামও এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তাই এই গাইডে কোনো প্রযোজনা সংস্থার নাম লেখা হয়নি।

মুক্তি কবে আসবে, এটাই পাঠকের সবচেয়ে বেশি সার্চ করা প্রশ্ন, আর এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। এখন পর্যন্ত অপলকের মুক্তির কোনো তারিখ, কোনো সাল, কোনো উৎসব বা ছুটির মৌসুম ঘোষণা করা হয়নি। এনটিভি জানিয়েছে, সিনেমা ও মুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেছেন নির্মাতা। অর্থাৎ মুক্তির তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, অথবা নির্ধারণ করা হলেও প্রকাশ করা হয়নি, দুটি ক্ষেত্রেই পাঠকের জন্য ফল একই: এখন কোনো তারিখকে নিশ্চিত বলা যাবে না। এই গাইডের শিরোনামে কবে আসবে প্রশ্নটি আছে, কারণ মানুষ ঠিক এই প্রশ্নই সার্চ করছে, কিন্তু গাইডের ভেতরে সৎ উত্তর দেওয়া হয়েছে: তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি, আর ঘোষণা এলে সেটাই হবে পরের বড় খবর। কোনো তারিখ বানিয়ে লিখে পাঠককে আকৃষ্ট করা এই গাইডের উদ্দেশ্য নয়।

কোথায় দেখবেন, এই প্রশ্নের উত্তরও এখনো একইভাবে অসম্পূর্ণ। সিনেমাটি প্রথমে হলে মুক্তি পাবে, নাকি সরাসরি কোনো ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বাংলাদেশের সিনেমার সাধারণ ধারা হিসেবে প্রথমে হল মুক্তির কথাই ভাবা যায়, কিন্তু অপলকের ক্ষেত্রে সেটিও এখনো নির্মাতার মুখে ঘোষণা করা হয়নি, তাই এই গাইডে সেটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে লেখা হয়নি। একইভাবে কোনো টিকিটের দাম, কোনো হলের তালিকা বা কোনো ওটিটি চুক্তির খবর এখনো নেই। পাঠক যারা অপলক কোথায় দেখবেন বলে সার্চ করছেন, তাঁদের জন্য আপাতত সৎ উত্তর হলো: দেখার মাধ্যম এখনো ঘোষণা হয়নি, আর হল বা ওটিটি যেকোনো মাধ্যমের খবর এলে তা যাচাই করা সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট দিয়েই জানানো হবে।

এখনো যা জানা যায়নি, তার একটি পরিষ্কার তালিকা এই গাইডের সবচেয়ে কাজের অংশ, কারণ এতে পাঠক বুঝতে পারবেন কোন খবর এলে তা সত্যিই নতুন হবে। এখনো জানা যায়নি: মুক্তির তারিখ, শুটিং শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান, প্রযোজনা সংস্থার নাম, বাকি কাস্টের নাম, চরিত্রদের নাম ও গল্পের বিস্তারিত, সংগীত পরিচালক বা গানের তথ্য, ফার্স্ট লুক বা টিজারের তারিখ, আর হল বা ওটিটি মুক্তির মাধ্যম। এই তালিকার কোনো একটি তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলে প্রথমে যাচাই করতে হবে সেটি নির্মাতার নিজের পোস্ট থেকে এসেছে কি না, অথবা কোনো অনুমোদিত সংবাদমাধ্যম তা নিশ্চিত করেছে কি না। শুধু একটি ফ্যান পেজের পোস্ট বা একটি পোস্টার দেখেই সেই তথ্যকে নিশ্চিত ধরা যাবে না, কারণ অপলকের এখনো কোনো অফিশিয়াল পোস্টার প্রকাশ করা হয়নি।

সাধারণ প্রশ্নের উত্তর অংশে পাঠকের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়া হলো, যাতে গাইডটি দীর্ঘদিন কাজে লাগে। অপলক কী: আদনান আল রাজীবের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা, একটি প্রেমের গল্প। পরিচালক কে: আদনান আল রাজীব, বিজ্ঞাপন ও নাটক নির্মাতা, আলী স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার নির্মাতা। নায়ক নায়িকা কে: আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় চরিত্রে। কবে আসবে: এখনো ঘোষণা হয়নি। কোথায় দেখবেন: মাধ্যম এখনো ঘোষণা হয়নি। এটি কি পুলসিরাতের নতুন নাম: না, পুলসিরাত ভিকি জাহেদের আলাদা সিনেমা, সেখানেও একই জুটি আছেন। সিয়াম আহমেদ কি অপলকে আছেন: না, সিয়াম প্রসঙ্গটি ছিল পুরোনো গুঞ্জন, যা টেকেনি। শুটিং কবে: খুব শিগগিরই শুরু হবে বলে নির্মাতা জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট তারিখ এখনো আসেনি। এই উত্তরগুলো এখনকার যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে লেখা, আর নতুন ঘোষণা এলে উত্তরগুলো বদলাবে।

ভুয়া খবর থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে অপলক নিয়ে কয়েকটি সতর্কতা মনে রাখা দরকার। প্রথমত, অপলকের নামে কোনো মুক্তির তারিখ, পোস্টার বা ট্রেলার দেখলে সেটিকে অফিশিয়াল ধরার আগে দেখতে হবে সেটি নির্মাতার নিজের পেজ থেকে এসেছে কি না। দ্বিতীয়ত, পুলসিরাতের ছবি বা খবরকে অপলকের ছবি হিসেবে চালানো হতে পারে, কারণ দুটিতেই একই জুটি আছেন, তাই ছবির ক্যাপশন ও নির্মাতার নাম মিলিয়ে দেখতে হবে। তৃতীয়ত, বাকি কাস্ট নিয়ে যেকোনো তালিকা নির্মাতার ঘোষণা ছাড়া গুঞ্জন হিসেবেই ধরতে হবে। এই সতর্কতাগুলো শুধু অপলকের জন্য নয়, যেকোনো নতুন সিনেমার ঘোষণার ক্ষেত্রেই কাজে লাগে, আর এই গাইডের উদ্দেশ্য হলো পাঠক যাতে গুঞ্জনকে খবর ভেবে ভুল তথ্য না ছড়ান।

অপলক কেন দর্শকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তার উত্তর শুধু কাস্টের নামে নয়, তিনটি কারণের সমন্বয়ে তৈরি। প্রথম কারণ, একজন স্বীকৃত বিজ্ঞাপন ও নাটক নির্মাতার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা সবসময়ই আলাদা কৌতূহল তৈরি করে, কারণ দর্শক দেখতে চান ছোট ফরম্যাটের নির্মাতা বড় ফরম্যাটে কেমন গল্প বলেন। দ্বিতীয় কারণ, নিশো মেহজাবীন জুটির বড় পর্দায় আসা নিয়ে দীর্ঘদিনের আগ্রহ আছে, আর অপলক সেই আগ্রহের একটি নিশ্চিত ঠিকানা হয়ে উঠেছে, পুলসিরাতের পাশাপাশি। তৃতীয় কারণ, নির্মাতা নিজে গল্পের সুর হিসেবে সততা ও সরলতার কথা বলেছেন, যা বর্তমান সময়ের অনেক বড় বাজেটের সিনেমার বিপরীতে একটি আলাদা প্রতিশ্রুতি হিসেবে শোনায়। এই তিনটি কারণ মিলেই অপলককে শুধু একটি ঘোষণা থেকে একটি অপেক্ষার প্রজেক্টে পরিণত করেছে।

এরপর কী হবে, সেই ধারাবাহিকতাও এখন থেকে অনুসরণ করা যাবে। পরের ধাপে আসতে পারে বাকি কাস্টের নাম, তারপর শুটিং শুরুর খবর, তারপর শুটিং চলাকালীন আপডেট, তারপর ফার্স্ট লুক বা টিজার, তারপর মুক্তির তারিখ ও মাধ্যমের ঘোষণা। এই ধাপগুলোর কোনোটিরই তারিখ এখনো জানা যায়নি, তাই এই গাইডে কোনো ধাপের জন্য সময়সীমা বানিয়ে লেখা হয়নি। তবে পাঠক একটি বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন: যেকোনো নতুন ঘোষণা নির্মাতার নিজের পোস্ট বা অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট দিয়ে যাচাই করা হবে, আর গাইডটি সেই নতুন তথ্য দিয়ে আপডেট করা হবে। আপাতত অপলক সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এটুকুই, আর এটুকুই যথেষ্ট এই সিনেমাটিকে অনুসরণ করার জন্য: নাম অপলক, নির্মাতা আদনান আল রাজীব, কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিশো ও মেহজাবীন, গল্পটি একটি প্রেমের গল্প, শুটিং খুব শিগগিরই শুরু হবে, আর বাকি সব তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন