জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা বাবার জন্মদিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ইদানীং পৃথিবীর কোনো কিছুই আগের মতো ভালো লাগে না। বাবাকে হারানোর ১৭ বছর পরও সেই শূন্যতা তাঁর মনে একইভাবে জেগে আছে। একজন সন্তানের কাছে বাবার জন্মদিন শুধু একটি তারিখ নয়, সেটা স্মৃতি, ভালোবাসা আর না থাকার কষ্ট, এই তিনটি অনুভূতির একসঙ্গে ফিরে আসা। কনকচাঁপার পোস্ট সেই অনুভূতিরই প্রকাশ।
কনকচাঁপার বাবা আজিজুল হক মোরশেদ এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৩৩ সালে। বেঁচে থাকলে এই বছর তাঁর বয়স হতো ৯৩ বছর। জন্মদিনের দিনে বাবার বয়সের হিসাব করাটা কনকচাঁপার জন্য শুধু সংখ্যা নয়, বরং বাবা কতটা সময় তাঁর জীবনে থাকতে পারতেন, সেই ভাবনারই অংশ। বাবার জন্মদিনে সন্তানের এই হিসাব সাধারণত আনন্দের হয়, কিন্তু বাবা না থাকলে সেই হিসাবের সঙ্গে মিশে যায় এক ধরনের নীরব বেদনা।
পোস্টে কনকচাঁপা লিখেছেন, আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর বাবা এখন আল্লাহর কাছে আছেন। তিনি আরও লিখেছেন, বাবাকে হারানোর পর আফসোস করতে তাঁকে শেখানো হয়নি। কিন্তু বাবা হারানোর পর সন্তানের একাকিত্ব যে থেকেই যায়, সেটাও তিনি স্পষ্ট করেছেন। এই দুটি বক্তব্য একসঙ্গে পড়লে বোঝা যায়, বিশ্বাস আর শোক, দুটিই একই সঙ্গে তাঁর মনে কাজ করছে। বিশ্বাস তাঁকে শান্তি দিচ্ছে, আর শোক তাঁকে মনে করিয়ে দিচ্ছে বাবার অনুপস্থিতির কথা।
পোস্টের শেষে তিনি বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন সবার কাছে। তিনি প্রার্থনা করেছেন, আল্লাহ যেন তাঁর বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত পোস্ট যখন এভাবে সবার সামনে আসে, তখন সেটা আর শুধু ব্যক্তিগত থাকে না। অনেক ভক্তই সেখানে নিজের বাবা হারানোর স্মৃতি খুঁজে পান। কনকচাঁপার পোস্ট তাই শুধু একটি জন্মদিনের বার্তা নয়, বাবা হারানো সন্তানদের একটি যৌথ অনুভূতির প্রকাশ হয়ে উঠেছে।
কনকচাঁপা বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ। তাঁর গান বহু শ্রোতার কাছে প্রিয়। কিন্তু এই পোস্টে তিনি শিল্পী হিসেবে নয়, একজন মেয়ে হিসেবে কথা বলেছেন। বাবার জন্মদিনে তাঁর এই আবেগঘন লেখা মনে করিয়ে দেয়, যত বছরই কেটে যাক, বাবার শূন্যতা পুরোপুরি পূরণ হয় না। জন্মদিনের দিনে সেই শূন্যতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর সেই দিনে সন্তানের সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে একটাই, বাবার জন্য দোয়া।
