বিনোদন ঝলক
তারকা

আগে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং কীভাবে হতো, জানালেন মাইকেল ডগলাস: বিশ্বাস আর সম্মতিই সবচেয়ে বড়

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৫ অক্টোবর ২০২৬4 মিনিটে পড়ুন
মাইকেল ডগলাস নিয়ে অরিজিনাল গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

হলিউডের ছবিতে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানালেন অস্কারজয়ী অভিনেতা মাইকেল ডগলাস। সম্প্রতি নিউইয়র্কের ৯২এনওয়াইয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি বলেন, এ ধরনের দৃশ্যের শুটিংয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পারস্পরিক বিশ্বাস। তার সঙ্গে দরকার স্পষ্ট যোগাযোগ, সম্মতি আর সহশিল্পীর স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা। ৮২ বছর বয়সী এই অভিনেতার এই বক্তব্য এখন আলোচনায়, কারণ আজকের শুটিং সেটে ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের সমন্বয়ক একটি পরিচিত পদ, কিন্তু ডগলাসের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এই ব্যবস্থা ছিল না।

এই আলোচনার প্রেক্ষাপটটাও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের স্মৃতিকথা ওয়ান হেলুভা রাইড প্রকাশের আগে বইটি নিয়ে প্রচারের অংশ হিসেবেই ডগলাস এই আলোচনায় অংশ নেন। সঞ্চালনায় ছিলেন হ্যাপি স্যাড কনফিউজড পডকাস্টের উপস্থাপক জশ হোরোভিটজ। অর্থাৎ এটি কোনো হঠাৎ মন্তব্য নয়, বরং নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার আর আসন্ন বই নিয়ে সাজানো আলোচনারই অংশ। সেই আলোচনাতেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সমন্বয়ক না থাকলে আগের দিনে এমন দৃশ্য কীভাবে ধারণ করা হতো।

ডগলাসের উত্তর ছিল সরল, কিন্তু তার ভেতরে পুরো একটা কাজের পদ্ধতি লুকিয়ে আছে। তিনি বলেন, ছবিতে অনেক অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকে, আর সেগুলো ধারণ করা সহজ নয়। তবে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বিশ্বাস। বিশ্বাস ছাড়া ক্যামেরার সামনে এতটা কাছাকাছি আসা, শরীরী ভাষায় এতটা নির্ভর করা সম্ভব হতো না। তাঁর কথায়, বিশ্বাসটাই ছিল সেই অদৃশ্য নিরাপত্তা, যা আজকের দিনে অনেকটাই পেশাদার সমন্বয়কের কাজের মধ্যে ঢুকে গেছে।

কীভাবে সেই বিশ্বাস তৈরি হতো, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডগলাস নাচের সঙ্গে তুলনা টানেন। তাঁর মতে, বিষয়টি অনেকটা নাচের মতো। ধীরে ধীরে এগোতে হয়, কথা বলে নিতে হয়, আর কোন আচরণে অপর পক্ষের সম্মতি রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে হয়। কোনো দৃশ্যে সহশিল্পীকে স্পর্শ করার আগে তাঁর অনুমতি চাওয়া এবং কী করা হবে, তা স্পষ্ট করে জানানো জরুরি। তাঁর ভাষায়, প্রক্রিয়াটি অনেকটা মারামারির দৃশ্যের কোরিওগ্রাফি করার মতো। শুরুতে সবকিছু ধীরে ধীরে ঠিক করে নেওয়া হয়, এরপর ক্যামেরার সামনে দৃশ্যটি ধারণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত সেখানেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই পারস্পরিক বিশ্বাস।

কেন ডগলাসের এই কথা শোনার মতো, তা বোঝা যায় তাঁর ছবির তালিকা দেখলে। বেসিক ইনস্টিংক্ট, ফ্যাটাল অ্যাট্রাকশন ও ডিসক্লোজারের মতো ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এই ছবিগুলো একসময় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল, আর সেগুলোর দৃশ্য নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। তাই যখন তিনি বলেন, তখনকার শুটিংয়ে কী ছিল আর কী ছিল না, তখন সেটা শুধু তত্ত্ব থাকে না, একজন অভিনেতার নিজের দেখা কাজের পরিবেশের বয়ান হয়ে ওঠে।

পুরুষপ্রধান চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে নারী সহশিল্পীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিয়েও কথা বলেছেন ডগলাস। তাঁর মতে, বিশেষ করে আগের দিনের শুটিংয়ের পরিবেশে নারী অভিনয়শিল্পীদের চারপাশে বেশির ভাগ সময় পুরুষ কলাকুশলীদের উপস্থিতি থাকত। তাই তাঁরা যেন যতটা সম্ভব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করতেন তিনি। এই অংশটি আজকের আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, কারণ আজকের সেটে সমন্বয়কের কাজের একটা বড় অংশই হলো সবার স্বাচ্ছন্দ্য আর সীমানা স্পষ্ট রাখা। ডগলাসের বয়ান থেকে বোঝা যায়, সেই চিন্তাটা নতুন নয়, শুধু তার পেশাদার কাঠামোটা পরে এসেছে।

স্মৃতিকথায় ব্যক্তিগত জীবনের অজানা অধ্যায়ও তুলে ধরেছেন ডগলাস। ওয়ান হেলুভা রাইডে রয়েছে তাঁর অতীতের প্রেমের সম্পর্ক, মাদক ব্যবহারের সঙ্গে লড়াই এবং হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা কার্ক ডগলাসের ছেলে হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা। জীবনের কঠিন অধ্যায়গুলো বইয়ে তুলে ধরার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, কষ্টের স্মৃতি মানুষ সাধারণত ভুলে যেতে চায়। কিন্তু নাতি-নাতনিরা যেন তাঁর জীবনের পুরো গল্প জানতে পারে, সে কারণেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাগুলো আড়াল করতে চাননি।

নিজের দুর্বলতা ও ব্যক্তিগত জীবনের স্পর্শকাতর বিষয় প্রকাশ করা নিয়ে শুরুতে কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে পাঠকেরা তাঁর এই খোলামেলা অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন বলে মনে করেন অভিনেতা। স্ত্রী ক্যাথরিন জেটা-জোনসের সঙ্গে বয়সের ২৫ বছরের ব্যবধানের কথাও আলোচনায় এসেছে। ডগলাস জানান, স্মৃতিকথার সব ঘটনা তাঁর স্ত্রী আগে থেকেই জানতেন, এমন নয়। বইটি হাতে পাওয়ার সময়ও তখন খুব বেশি দিন হয়নি তাঁর। অতীতের কিছু ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডগলাস সেগুলোকে ক্যাথরিনের সঙ্গে পরিচয়ের আগের সময়ের বলে উল্লেখ করেন।

এই আলোচনা কেন এখন প্রাসঙ্গিক, তার উত্তর লুকিয়ে আছে দুই যুগের তুলনায়। একদিকে পুরোনো দিনের অনানুষ্ঠানিক বোঝাপড়া, যেখানে বিশ্বাস আর ব্যক্তিগত সতর্কতাই ছিল ভরসা। অন্যদিকে আজকের দিনের স্পষ্ট নিয়ম, সমন্বয়ক আর লিখিত সীমানা। ডগলাসের বক্তব্য এই দুইয়ের মাঝখানে একটা সেতু তৈরি করে। তিনি পুরোনো পদ্ধতিকে মহিমান্বিত করছেন না, বরং বলছেন, যে নীতিটা তখন কাজ করত, বিশ্বাস, কথা বলা আর সম্মতি, সেটাই আজকের ব্যবস্থার ভিত্তি। বইটি প্রকাশের পর তাঁর ব্যক্তিগত গল্প আর এই পেশাদার বয়ান একসঙ্গে পাঠকের সামনে আরও পুরো ছবি তুলে ধরবে, এটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার