আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা হিরো আলমের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে। তার সাবেক স্ত্রী সাথী খাতুনের বিরুদ্ধে বিষ পান করিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা, ১৫ লাখ টাকা দাবি এবং আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন হিরো আলম। এসব অভিযোগে স্ত্রীসহ আরও দুজনের নামে মামলারও আবেদন করেছেন তিনি।
হিরো আলমের দাবি, তার সাবেক স্ত্রী সাথী খাতুন তাকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, 'আমার সাবেক স্ত্রী সাথী খাতুন ব্যাগে করে বিষের বোতল নিয়ে এসেছিলেন আমার অফিসে, আমাকে মারতে। যাতে আমার মৃত্যুর পর সব কিছু নিজেদের হয়ে যায়। সেটি দেখে ফেলায় আমি বিষয়টি বুঝতে পারি। তাই আমি একটু গোপনেই চলে গিয়েছিলাম। পরে থানায় জিডি করেছি।'
হিরো আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল সাথী খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। তবে বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। একপর্যায়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সাবেক স্ত্রীকে ঘিরে সাম্প্রতিক এসব অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন হিরো আলম। তার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৭ আগস্ট সাথীকে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ওই অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার কথা তিনি সামাজিক মাধ্যমে স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হিরো আলম আরও অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার পর সাথী খাতুন মিউজিক ভিডিওর শুটিং ও সাজসজ্জার খরচ বাবদ আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে তালাক দেওয়ার পর তিনজন মিলে তার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও এনেছেন হিরো আলম। তার দাবি, গত ১২ অক্টোবর অভিযুক্তরা সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারে এসে তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বিষপান এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেন।
দাম্পত্য কলহের সূত্রপাত নিয়েও নিজের বক্তব্য দিয়েছেন হিরো আলম। তার দাবি, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার কর্মচারী আহসান হাবিব সেলিমের সঙ্গে সাথী খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রভাব ফেলে বলে দাবি করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সাথী খাতুন ও সেলিম বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন হিরো আলম।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ হিরো আলমের তোলা অভিযোগগুলো এখন তদন্তাধীন, আর চূড়ান্ত সত্য বেরিয়ে আসবে তদন্ত শেষেই।
উল্লেখ্য, হিরো আলমের ব্যক্তিগত জীবন এর আগেও একাধিকবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। বিয়ে, বিচ্ছেদ আর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের এই ধারাবাহিকতায় এবারের ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা চলছে, কেউ হিরো আলমের পক্ষে, কেউ আবার পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
