বিনোদন ঝলক
ভাইরাল

'খালেদা জিয়ার মতো সাজতে চেষ্টা করিনি': ভাইরাল সাজ নিয়ে ফেসবুকে মেঘনা আলমের ব্যাখ্যা

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২১ অক্টোবর ২০২৬3 মিনিটে পড়ুন
'খালেদা জিয়ার মতো সাজতে চেষ্টা করিনি': ভাইরাল সাজ নিয়ে ফেসবুকে মেঘনা আলমের ব্যাখ্যা

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে আবেদন করতে গিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন মডেল ও রাজনৈতিক প্রশিক্ষক মেঘনা আলম। সাদা শাড়ি, সাদা ওড়না আর খোঁপার সাজে তাকে দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেন, তাকে অবিকল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো দেখাচ্ছে। এই ভাইরাল আলোচনার জবাব দিলেন মেঘনা নিজেই।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে মেঘনা আলম স্পষ্ট করে জানান, তিনি খালেদা জিয়ার মতো সাজতে চেষ্টা করেননি। তার ভাষায়, 'আমি আসলে বেগম খালেদা জিয়ার মতো সাজতে চেষ্টা করিনি। এই একই সাদা শাড়ি ও সাদা ওড়না আমি দুই দিন আগেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরেছি, আপনারা দেখেছেন।'

কেন এমন সাজে গিয়েছিলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। মেঘনা জানান, তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রী ও মনোনয়ন কমিটির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মার্জিতভাবে যেতে চেয়েছিলেন। আর চুলে খোঁপা করার পেছনে ছিল একেবারেই ব্যবহারিক কারণ: এত মানুষের ভিড়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে ভেবেই খোঁপা করেছিলেন, যেন গরমে কিছুটা স্বস্তি পান। গতবার এত প্রার্থীর ভিড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে গিয়ে চুল খোলা থাকায় ঘেমে তার অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

সাজগোজ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন মেঘনা। তিনি লিখেছেন, তিনি একদমই মেকআপ করতে পারেন না, বেশিরভাগ সময় সবাই তার স্বাভাবিক চেহারাই দেখতে অভ্যস্ত। তবে ইন্টারভিউয়ের জন্য একটু ফর্মাল লুক চেয়ে পরিচিত এক ছোট বোনকে সাজিয়ে দিতে বলেছিলেন। সাজ কেমন হবে বোঝাতে নিজের গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই লুক হিসেবে পাকিস্তানের মরিয়ম নওয়াজ ও ক্রিকেটার ইরফান পাঠানের স্ত্রীর ছবি দেখিয়েছিলেন। ভ্রু ঐশ্বরিয়ার মতো স্বাভাবিক রাখতে বলেছিলেন, আর চুল বেঁধে দিতে বলেছিলেন এয়ার হোস্টেসদের মতো পরিপাটি করে।

তবে শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে, তা তিনি নিজেও আগে বোঝেননি। মেঘনার ভাষায়, 'সবকিছু মিলিয়ে যে আমাকে অবিকল বেগম খালেদা জিয়ার মতো দেখাবে, তা অন্যদের প্রতিক্রিয়া দেখার আগে সত্যিই বুঝতে পারিনি!' কিন্তু এই প্রতিক্রিয়ায় তিনি খুশিই হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, জনগণের এমন প্রতিক্রিয়ায় তিনি ভীষণ সম্মানিত ও আবেগাপ্লুত, কারণ বাংলাদেশের মানুষের কাছে বেগম খালেদা জিয়া কতটা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নাম, তা তিনি জানেন।

পোস্টে খালেদা জিয়ার সঙ্গে নিজের একমাত্র সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন মেঘনা। তার বড় ফুপি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তখন সেখানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার একবার দেখা হয়েছিল। আজ ফুপিও আর নেই, তিনিও পরপারে চলে গেছেন। আরেকবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর দেখা হয়নি, আর ছোটবেলায় সেই সুযোগ না পাওয়ার কষ্টে তিনি খুব কেঁদেছিলেন বলেও জানান।

মেঘনা আলমের এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেউ তার ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কেউ আবার মজা করে বলছেন, না চাইতেও খালেদা জিয়ার সঙ্গে তুলনা পাওয়াটাই তার জন্য বড় সম্মান। যেভাবেই হোক, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার একটি আনুষ্ঠানিকতা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে, আর মেঘনা নিজেই সেই আলোচনার জবাব দিয়ে বিতর্কের আগুনে পানি ঢালার চেষ্টা করলেন।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার