শিশু-কিশোরদের প্রতিভা খোঁজার রিয়েলিটি শো মার্কস অলরাউন্ডার আবার টেলিভিশনে ফিরেছে, আর এবারের চূড়ান্ত পর্বে বিচারকের আসনে দেখা যাচ্ছে দুই জনপ্রিয় তারকাকে। সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান আর অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী স্টুডিও রাউন্ডে অতিথি বিচারক হিসেবে প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করছেন। ৩০ অক্টোবর থেকে এনটিভিতে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের সম্প্রচার, প্রতি শুক্রবার ও সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় পর্ব প্রচারিত হচ্ছে। প্রায় এক বছর ধরে চলা বাছাই পর্ব পেরিয়ে দেশের প্রায় তিন লাখ শিশু-কিশোরের মধ্য থেকে সেরারা এখন টেলিভিশনের মঞ্চে। এই গাইডে থাকছে শোটি কী, কারা অংশ নিয়েছে, তিনটি গ্রুপে কোন কোন বিষয়ে প্রতিযোগিতা হচ্ছে, পুরস্কার কত, কবে কখন কোথায় দেখবেন, আর বিচারকদের নিয়ে যা জানা গেল।
মার্কস অলরাউন্ডার শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণের রিয়েলিটি শো। এখানে শুধু গান বা নাচ নয়, সাতটি আলাদা বিষয়ে নিজের প্রতিভা দেখানোর সুযোগ থাকে। গান, নাচ, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, গল্প বলা আর উপস্থিত বক্তৃতা, এই সাত বিষয়ের সমন্বয়ে একজন প্রতিযোগীর সার্বিক প্রতিভার মূল্যায়ন হয়। নামের অলরাউন্ডার শব্দটার মানে এখানেই, এক বিষয়ে ভালো হলেই চলবে না, নানা বিষয়ে পারদর্শিতাই এখানে সেরা হওয়ার শর্ত। প্রতিযোগিতার লক্ষ্য তরুণ প্রতিভাকে লালন করা আর সৃজনশীল প্রকাশকে উৎসাহ দেওয়া।
বিচারকের দায়িত্ব নিয়ে মেহজাবীন বলেছেন, “অনেক বছর পর আবারও শুরু হয়েছে মার্কস অলরাউন্ডার রিয়েলিটি শো। এবারের আয়োজনে আমাকে বিচারক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা আমার জন্য সত্যিই অনেক সম্মানের ও আনন্দের।” তাহসান আর মেহজাবীনের একসঙ্গে বিচারকের আসনে বসা এমনিতেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ দুজনেই ছোট পর্দার পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ, আর দুজনের জুটি এর আগেও দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছে। তবে এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁরা স্টুডিও রাউন্ডে অতিথি বিচারক হিসেবে থাকছেন, অর্থাৎ পুরো আসরের স্থায়ী বিচারক প্যানেলের সদস্য হিসেবে নয়, চূড়ান্ত পর্বের স্টুডিও রাউন্ডে প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের দায়িত্বে।
কবে, কখন, কোথায় দেখবেন, এই প্রশ্নের উত্তরটা আগে জেনে নেওয়া যাক। চূড়ান্ত পর্বের সম্প্রচার শুরু হয়েছে ৩০ অক্টোবর থেকে, এনটিভিতে। নতুন পর্ব আসে প্রতি শুক্রবার ও সোমবার, রাত সাড়ে ৯টায়। অর্থাৎ সপ্তাহে দুই দিন নির্দিষ্ট সময়ে পর্ব দেখা যাবে। উদ্বোধনী পর্বের সঞ্চালনায় ছিলেন রাফসান সাবাব ও সুনেরা বিনতে কামাল। টেলিভিশনে এনটিভিতেই মূল সম্প্রচার, তাই পর্ব দেখার জন্য এনটিভির সম্প্রচারসূচিই ভরসা। কোনো পর্ব মিস হলে চ্যানেলের নিজস্ব ডিজিটাল মাধ্যমে খোঁজ নেওয়াই নিরাপদ উপায়, অনানুষ্ঠানিক কপি বা সন্দেহজনক লিংকে ভরসা করা উচিত নয়।
এই আসর এক দিনে তৈরি হয়নি। প্রায় এক বছর ধরে চলেছে বাছাই। দেশের ১০০টি স্থানে হয়েছে আঞ্চলিক পর্ব। সেখান থেকে বিভাগীয় পর্যায়, তারপর জাতীয় পর্যায়ের বাছাই শেষে সেরারা পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্বে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে দেশের প্রায় তিন লাখ শিশু-কিশোর। এত বড় অংশগ্রহণই বলে দেয়, শোটি শুধু একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নয়, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তরুণ প্রতিভার একটা বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
আঞ্চলিক পর্বগুলো হয়েছিল দেশের নানা প্রান্তের স্কুল-কলেজ মাঠে, সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে দিনভর চলত প্রতিযোগিতা। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রংপুরে আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনা জিলা স্কুল, সিলেটে পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয়, নাটোরে নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ, পাবনায় আর এম স্কুল, মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় আর সিরাজগঞ্জে ভিক্টোরিয়া হাইস্কুলের মতো ভেন্যুতে আঞ্চলিক পর্ব হয়েছে। ঢাকার ক্ষেত্রে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, ধানমন্ডি, যাত্রাবাড়ীসহ নানা এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ এলাকার ভেন্যুতে অংশ নিয়েছে, আর গাজীপুরের কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, গাছা, কালিয়াকৈরের মতো এলাকাতেও পর্ব হয়েছে। আঞ্চলিক পর্ব শেষে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বাছাই পেরিয়ে যারা উঠে এসেছে, তারাই এখন টেলিভিশনের চূড়ান্ত পর্বে।
প্রতিযোগীরা বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিযোগিতা করে। প্লে গ্রুপ থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত জুনিয়র স্কুল গ্রুপ, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মিডল স্কুল গ্রুপ, আর নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত হাইস্কুল ও কলেজ গ্রুপ। জুনিয়র গ্রুপের বিষয় ছয়টি: গান, নাচ, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি আর গল্প বলা। মিডল ও হাইস্কুল গ্রুপের বিষয়ও ছয়টি করে, তবে গল্প বলার জায়গায় সেখানে উপস্থিত বক্তৃতা। সব মিলিয়ে সাতটি বিষয়: গান, নাচ, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, গল্প বলা আর উপস্থিত বক্তৃতা। প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন করে সেরা অলরাউন্ডার বেছে নেওয়া হবে, মোট তিনজন।
প্রতিযোগিতার পুরস্কার কাঠামোও বেশ বড়। তিনটি গ্রুপ থেকে সেরা তিন অলরাউন্ডারের প্রত্যেকে পাবেন ১৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি। শুধু সেরারাই নয়, গ্র্যান্ড ফিনালেতে তিনটি গ্রুপের প্রথম রানারআপ পাবেন ৫ লাখ টাকা আর দ্বিতীয় রানারআপ পাবেন ৩ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি। সব মিলিয়ে বৃত্তির মোট অঙ্ক ১ কোটি টাকা, সঙ্গে থাকছে পদক। শিক্ষাবৃত্তি হিসেবে দেওয়া এই পুরস্কার শোটির উদ্দেশ্যের সঙ্গেই মিলে যায়, প্রতিভার স্বীকৃতির পাশাপাশি পড়াশোনার পথেও সহায়তা।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরেছে বাংলাদেশের সব স্কুল-কলেজের প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা, সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরাও। আঞ্চলিক পর্বগুলো হয়েছে দেশের ১০০টি স্থানে, সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে প্রতিযোগিতা চলেছে দিনভর। এবারের আসরে অংশগ্রহণের পর্ব শেষ, কারণ প্রতিযোগিতা এখন চূড়ান্ত পর্বে। তবে শোটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যের জন্য অফিশিয়াল ওয়েবসাইট marksallrounder.com-ই নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসার জন্য ফোন করা যায় ০৯৬১৪৫১৬১৭১ নম্বরে, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।
মেহজাবীনের জন্য বিচারকের আসন নতুন নয়, তবে মার্কস অলরাউন্ডারের প্রসঙ্গটা তাঁর জন্য আলাদা। লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে শোবিজে পা রাখেন তিনি। গত বছর ওই প্রতিযোগিতারই বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, সেই আসর শেষ হয় এ বছরের এপ্রিলে। বছর না ঘুরতেই আবার বিচারকের আসনে তিনি, এবার শিশু-কিশোরদের প্রতিভা খোঁজার মঞ্চে। প্রতিযোগী থেকে বিচারক হওয়ার এই যাত্রাটাই তাঁকে এই আসনের জন্য বিশেষভাবে মানানসই করে তোলে, কারণ তিনি জানেন মঞ্চের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির মনে কী চলে। এদিকে তিনি টেলিভিশন নাটকের কাজ কমিয়ে সিনেমা ও ওটিটি প্রোডাকশনে মন দিয়েছেন, আর তার মধ্যেই এই রিয়েলিটি শোতে তাঁর উপস্থিতি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
তাহসান এখন অভিনয়ের চেয়ে সঞ্চালনায় বেশি মন দিয়েছেন। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার পর তিনি নতুন গান প্রকাশ থেকেও সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ভয়েস অব বাংলাদেশের সঞ্চালনা করেছেন। গায়ক হিসেবে পরিচিত তাহসান অভিনেতা হিসেবেও দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ, আর সঞ্চালক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা এই শোতে কাজে লাগবে, কারণ এখানে শুধু পারফরম্যান্স নয়, শিশু প্রতিযোগীদের সঙ্গে সহজ ও উৎসাহব্যঞ্জক আচরণও সমান জরুরি।
প্রায় তিন লাখ শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণ, দেশের ১০০টি স্থানে আঞ্চলিক পর্ব, তিন ধাপের বাছাই, আর ১ কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি, এই সংখ্যাগুলোই বলে দেয় মার্কস অলরাউন্ডার শুধু বিনোদন নয়। এটা দেশের তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরার একটা বড় উদ্যোগ। সাতটি বিষয়ের সমন্বয় একটা বার্তাও দেয়, প্রতিভা একটিমাত্র বিষয়ে আটকে থাকে না। গান গাইতে পারা শিশুটি হয়তো গল্প বলতেও পারে, আঁকতে পারা কিশোরটি হয়তো আবৃত্তিতেও ভালো। অলরাউন্ডার খোঁজার এই ধারণাই শোটিকে অন্য প্রতিভা-অন্বেষণ অনুষ্ঠান থেকে আলাদা করে। তাহসান আর মেহজাবীনের মতো জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি শোটির দিকে দর্শকের নজর আরও বাড়িয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগীদেরই লাভ, কারণ বড় দর্শক মানে তাদের প্রতিভা বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো।
চূড়ান্ত পর্ব এখন সম্প্রচারিত হচ্ছে, আর স্টুডিও রাউন্ডে তাহসান ও মেহজাবীনের মূল্যায়ন দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে। গ্র্যান্ড ফিনালের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি, তাই ফিনালের দিনক্ষণ নিয়ে কোনো অনুমান করা যাবে না। চূড়ান্ত পর্বের পর্বগুলো দেখতে থাকলে সেরা তিন অলরাউন্ডার কারা হচ্ছেন, সেটা ধাপে ধাপে জানা যাবে। এই গাইডে ফিনালের তারিখ বা ফল ঘোষণা হলে আপডেট যোগ করা হবে।
সবশেষে, পাঠকের সবচেয়ে বেশি করা প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর এক জায়গায়। মার্কস অলরাউন্ডার কবে দেখা যায়, প্রতি শুক্রবার ও সোমবার রাত সাড়ে ৯টায়, এনটিভিতে, চূড়ান্ত পর্ব শুরু হয়েছে ৩০ অক্টোবর ২০২৬ থেকে। বিচারক কারা, স্টুডিও রাউন্ডে অতিথি বিচারক হিসেবে আছেন তাহসান রহমান খান ও মেহজাবীন চৌধুরী। সঞ্চালক কারা, উদ্বোধনী পর্বের সঞ্চালনায় রাফসান সাবাব ও সুনেরা বিনতে কামাল। কয়টি বিষয়ে প্রতিযোগিতা হয়, মোট সাতটি: গান, নাচ, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, গল্প বলা ও উপস্থিত বক্তৃতা, গ্রুপভেদে বিষয়ের তালিকায় ছোট পার্থক্য আছে। পুরস্কার কত, তিন গ্রুপের সেরা তিন অলরাউন্ডারের প্রত্যেকে ১৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি পাবেন, সব মিলিয়ে বৃত্তি ১ কোটি টাকা, সঙ্গে পদক, প্রথম ও দ্বিতীয় রানারআপ পাবেন যথাক্রমে ৫ লাখ ও ৩ লাখ টাকা। কারা অংশ নিয়েছে, প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা, দেশের প্রায় তিন লাখ শিশু-কিশোর। তথ্য কোথায় পাবেন, অফিশিয়াল ওয়েবসাইট marksallrounder.com-এ।
