বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

তারকা

মৌসুমী সম্পূর্ণ গাইড: প্রিয়দর্শিনীর ক্যারিয়ার, সেরা সিনেমা, জাতীয় পুরস্কার আর এখন কোথায় আছেন

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩ নভেম্বর ২০২৬12 মিনিটে পড়ুন
মৌসুমী সম্পূর্ণ গাইডের নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

ঢাকাই সিনেমার প্রিয়দর্শিনী মৌসুমীকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল কখনো কমে না। তাঁর বয়স কত, প্রথম সিনেমা কোনটি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কয়টি পেয়েছেন, ওমর সানীর সঙ্গে তাঁর সংসারের গল্প কী, আর এখন তিনি কোথায় আছেন, এই প্রশ্নগুলো বারবার খোঁজা হয়। এই গাইডে সেই সব প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায় সাজানো হয়েছে, শুধু যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে। এখানে কোনো গুঞ্জনকে ঘটনা বলে চালানো হয়নি, আর যে তথ্যে সূত্রের মধ্যে ভিন্নতা আছে, সেখানে সেই ভিন্নতার কথাও খোলাখুলি বলা হয়েছে।

এক নজরে মৌসুমী: জন্ম ১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর, খুলনা অঞ্চলের টাইলকুপি গ্রামে। বড় পর্দায় অভিষেক ১৯৯৩ সালে, সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে, প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর বিপরীতে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ঢালিউডে কাজ করছেন তিনি। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনবার, মেঘলা আকাশ, দেবদাস আর তারকাটা ছবির জন্য। স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী, সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন, আর দেশে থাকছেন ওমর সানী।

জন্মস্থান নিয়ে একটি বিভ্রান্তি আগে পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। অনেক প্রতিবেদনে সংক্ষেপে লেখা হয়, মৌসুমী খুলনা শহরে জন্মেছেন। বিস্তারিত জীবনীতে দেখা যায়, তাঁর জন্ম টাইলকুপি গ্রামে, যা তখন অবিভক্ত খুলনা জেলার অন্তর্গত ছিল। বর্তমান প্রশাসনিক হিসাবে ওই গ্রাম সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় পড়ে। তাই খুলনা আর সাতক্ষীরা, দুটি নামই আসলে একই জন্মস্থানকে ঘিরে, শুধু সময় আর প্রশাসনিক সীমানার পার্থক্যে। এই ব্যাখ্যাটা মনে রাখলে জন্মস্থান নিয়ে দুই রকম লেখা দেখে আর ধাঁধায় পড়তে হবে না। ছোটবেলায় তিনি খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় বেড়ে উঠেছেন বলে জীবনীতে উল্লেখ আছে।

শৈশব থেকেই মঞ্চ আর ক্যামেরার দিকে তাঁর টান ছিল। ছোটবেলায় অভিনেত্রী ও গায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করেন মৌসুমী। বড় মোড় আসে ১৯৯০ সালে, আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্টে বিজয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই জয়ের পর টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের সুযোগ পান তিনি। ওই সময়ের বিজ্ঞাপনগুলো দর্শকের চোখে তাঁকে চেনা মুখ করে তোলে, আর সিনেমায় আসার পথটাও খুলে যায়। অনেক তারকার ক্ষেত্রে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা শুধু একটা মুকুট হয়ে থাকে, মৌসুমীর ক্ষেত্রে সেটা হয়ে ওঠে পেশাদার অভিনয়জীবনের সিঁড়ি।

১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় কেয়ামত থেকে কেয়ামত। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। এই ছবিতেই সালমান শাহর বিপরীতে প্রথমবার বড় পর্দায় আসেন মৌসুমী। প্রথম ছবিতেই দুজনের জুটি দর্শকের মন জয় করে নেয়। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে বড় সাফল্য পায়, আর একই সঙ্গে ঢালিউড পায় নব্বই দশকের সবচেয়ে আলোচিত নতুন জুটিগুলোর একটি। সালমান শাহর অকাল প্রয়াণের পরও এই জুটির কথা দর্শকের মনে থেকে গেছে, কারণ তাঁদের একসঙ্গে পথচলা ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু খুবই উজ্জ্বল।

অভিষেকের পরের দুই বছরে সালমান শাহর সঙ্গে আরও তিনটি ছবিতে কাজ করেন মৌসুমী, অন্তরে অন্তরে, দেনমোহর আর স্নেহ। এই ছবিগুলো তাঁর অবস্থান আরও পাকা করে। নব্বই দশকজুড়ে তিনি একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করতে থাকেন। বিশ্ব প্রেমিক, গরিবের রানী, স্বজন, মুক্তির সংগ্রাম, লুটরাজ, প্রিয় শত্রু, কষ্ট, উল্কা, রঙিন রংবাজ, রূপসী রাজকন্যা, এই তালিকা লম্বা। একই সময়ে তিনি রোমান্টিক নায়িকা থেকে পারিবারিক গল্পের নায়িকা, সব ধরনের চরিত্রেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন বলে প্রমাণ করেন।

নব্বই দশকের শেষ দিকে আর দুই হাজার সালের গোড়ায় মৌসুমীর ক্যারিয়ারে আসে আরও পরিণত অধ্যায়। ১৯৯৯ সালের আম্মাজান ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচক, দুই পক্ষের কাছেই আলোচিত হয়। এরপর আসে মোল্লা বাড়ির বউ, যেখানে বকুল চরিত্রে তাঁর কাজ দর্শক ভোটের পুরস্কারে স্বীকৃতি পায়। মাতৃত্ব, খাইরুন সুন্দরী, সোনার ময়না পাখি, বাবা আমার বাবা, গোলাপী এখন বিলাতে, প্রজাপতি, এই ছবিগুলো দেখিয়ে দেয়, শুধু গ্ল্যামার নয়, গল্পের ভেতরের চরিত্রেও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ।

পুরস্কারের অধ্যায়টা মৌসুমীর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে শক্ত ভিত্তিগুলোর একটি। নারগিস আক্তার পরিচালিত মেঘলা আকাশ ছবিতে মেঘলা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ছবিটির বিষয় ছিল এইচআইভি ও এইডস নিয়ে সচেতনতা, আর নারগিস আক্তারের পরিচালনায় প্রথম ছবি হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ছবিতে মৌসুমীর সঙ্গে ছিলেন শাকিল খান, পূর্ণিমা, অমিত হাসান আর বিশেষ চরিত্রে ভারতের শাবানা আজমি। ছবিটি মোট ছয়টি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল বলে উল্লেখ আছে।

দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার আসে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত দেবদাস ছবিতে চন্দ্রমুখী চরিত্রের জন্য। দেবদাসের গল্প বহুবার পর্দায় এসেছে, কিন্তু মৌসুমীর চন্দ্রমুখী আলাদা করে মনে থাকে তাঁর পরিণত অভিনয়ের জন্য। তৃতীয় পুরস্কার আসে তারকাটা ছবিতে, যেখানে তিনি ইব্রাহিমের বড় বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনটি ছবি, তিনটি সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের চরিত্র, আর তিনবারই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি, এই সমন্বয়ই তাঁকে তাঁর প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে আলাদা জায়গা দিয়েছে।

জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি দর্শক ভোটের পুরস্কারেও মৌসুমী বারবার স্বীকৃতি পেয়েছেন। মোল্লা বাড়ির বউ ছবির জন্য তিনি মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারে মনোনয়ন পান, আর গোলাপী এখন বিলাতে ও প্রজাপতি ছবির জন্য দর্শক ভোটে সেরা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হন। এক কাপ চা ছবির জন্য সমালোচক বিভাগেও তিনি পুরস্কার পেয়েছেন। এই তালিকাটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটা দেখায়, শুধু বিচারকের রায় নয়, দর্শকের ভালোবাসাও তাঁর ক্যারিয়ারের সঙ্গে সমান তালে চলেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা আর প্রযোজনার দিকেও পা বাড়ান মৌসুমী। ১৯৯৭ সালে তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা কপোতাক্ষ চলচ্চিত্র শুরু করেন। পরিচালক হিসেবে অভিষেক হয় ২০০৩ সালে, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি ছবিতে, যেখানে তিনি নদী চরিত্রেও অভিনয় করেন। পরে মেহের নিগার ছবিও তিনি পরিচালনা করেন। অভিনেত্রী থেকে পরিচালক হওয়ার এই যাত্রা সহজ নয়, কারণ ক্যামেরার সামনে থেকে ক্যামেরার পেছনে যাওয়া মানে গল্প দেখার দৃষ্টিভঙ্গিটাই বদলে ফেলা। মৌসুমী সেই বদলটা করেছেন নিজের মতো করে, ধীরে ধীরে।

সমাজসেবার কাজেও তাঁর নাম যুক্ত আছে। তিনি মৌসুমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন, যার কাজ নারী ও শিশুদের কল্যাণ। ২০১৩ সালে তিনি ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত হন। এই ভূমিকাগুলো তাঁর পরিচয়কে শুধু পর্দার নায়িকার মধ্যে আটকে রাখেনি। পর্দার বাইরে একজন পরিচিত মুখ হিসেবে সামাজিক কাজে যুক্ত থাকা তাঁর ভাবমূর্তির একটা বড় অংশ হয়ে উঠেছে, আর ভক্তদের কাছে তিনি শুধু অভিনেত্রী নন, একজন দায়িত্বশীল পরিচিত মুখ হিসেবেও ধরা দেন।

ওমর সানীর সঙ্গে জুটি আর সংসার, মৌসুমীর গল্পের আরেকটি বড় অধ্যায়। পর্দায় একসঙ্গে প্রেম, ঝগড়া, চোখের জল আর গানের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন তাঁরা। অভিনয়ের সূত্র ধরেই পরিচয়, তারপর প্রেম, তারপর সংসার। ১৯৯৬ সালে বাগদানের ঘোষণা দেন তাঁরা, এমন তথ্য জীবনীতে আছে। সংসারে তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে ফাইজার নাম সম্প্রতি আবার আলোচনায় এসেছে ওমর সানীর জন্মদিনের পোস্টে, যেখানে তিনি ফাইজা আর মৌসুমী, দুজনের জন্মদিন উপলক্ষে তবারক বিতরণের কথা লিখেছেন।

বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে এখানে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া দরকার। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিয়ের তারিখ আলাদা আলাদা লেখা হয়েছে। কোনো প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালের ২ আগস্ট, আবার কোনো প্রতিবেদনে ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ লেখা আছে। এই গাইডে তাই সুনির্দিষ্ট তারিখ দাবি করা হয়নি, কারণ যাচাই না করে একটি তারিখকে চূড়ান্ত বলা ঠিক হবে না। যেটা সব সূত্রে এক, সেটা হলো, ওমর সানী আর মৌসুমী দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে আছেন, আর তাঁদের সংসারে দুই সন্তান। পাঠক হিসেবে এই পার্থক্যটা জানা থাকলে ভবিষ্যতে দুই রকম তারিখ দেখলেও বিভ্রান্তি কম হবে।

২০০৯ সালের পর মৌসুমীর কাজের ধরন বদলাতে থাকে। তিনি আগের মতো নিয়মিত প্রধান নায়িকা হিসেবে না এসে সহশিল্পী ও চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে বেশি দেখা দিতে থাকেন। তারকাটা, দুই পুরুষ, এক কাপ চা, কিছু আশা কিছু ভালোবাসা, আমি নেতা হবো, সাহেব নামের গোলাম, দুলাভাই জিন্দাবাদ, এই ছবিগুলোতে তাঁর উপস্থিতি সেই বদলের প্রমাণ। একজন নায়িকার ক্যারিয়ারে এই বদল স্বাভাবিক, কিন্তু সবাই সেটা মর্যাদার সঙ্গে সামলাতে পারেন না। মৌসুমী ছোট চরিত্রেও নিজের ছাপ রাখার চেষ্টা করেছেন, আর সেটাই তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের একটা বড় কারণ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৌসুমী আর আগের মতো নিয়মিত অভিনয়ে নেই, এমনটাই বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন বলে ২০২৬ সালের নভেম্বরের প্রতিবেদনগুলোতে লেখা হয়েছে। দেশে ওমর সানী ব্যবসা আর অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত আছেন। দূরত্ব থাকলেও তাঁদের যোগাযোগ যে অটুট, সেটা বোঝা যায় সানীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো থেকে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর মৌসুমীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন অনেকেই, আর সানীও সেই সময় শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন বলে তাঁর ভিডিও বার্তায় আছে।

২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর, মৌসুমীর জন্মদিনে ওমর সানীর বার্তা আবারও আলোচনায় আসে। ফেসবুকে মৌসুমীর ছবি দিয়ে তিনি লেখেন, শুভ জন্মদিন প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী, বাংলা চলচ্চিত্রের শেষ মেগাস্টার শুধু তুমি। এই একটি লাইনই ভক্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে। আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, তাঁর দোয়া, আল্লাহ মৌসুমীকে সুস্থ রাখুন, ভালো রাখুন, সম্মানের সঙ্গে রাখুন। ভিডিও বার্তায় সানী বলেন, দূরত্ব কোনো বিষয় নয়, আর গত ৩৫ বছর ধরে তিনি মৌসুমীর জন্মদিন উদযাপন করে আসছেন বলে তাঁর ভাষায় জানান।

জন্মদিন ঘিরে একটি মানবিক পরিকল্পনার কথাও সানী জানিয়েছেন। সাভারের হেমায়েতপুরে চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি রেস্টুরেন্টে ফাইজা ও মৌসুমীর জন্মদিন উপলক্ষে গরিব ও দুঃখী মানুষের মধ্যে তবারক বিতরণের কথা তিনি লিখেছেন। মৌসুমী নিজে একসময় বলেছিলেন, তিনি আয়োজন করে জন্মদিন উদযাপন করেন না, বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়স্বজনরাই তাঁর জন্মদিন ঘিরে আয়োজন করেন। সানীর এবারের পরিকল্পনা সেই ধারার সঙ্গেই মিলে যায়, যেখানে উদযাপন মানে শুধু নিজের আনন্দ নয়, অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া।

প্রিয়দর্শিনী উপাধিটা মৌসুমীর সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে অনেকেই তাঁর আসল নামের চেয়ে এই উপাধিতেই তাঁকে চেনেন। প্রিয়দর্শিনী মানে যাঁকে দেখতে ভালো লাগে, যাঁর উপস্থিতি প্রিয়। কিন্তু মৌসুমীর ক্ষেত্রে উপাধিটা শুধু চেহারার জন্য নয়। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকের সামনে থাকা, নায়িকা থেকে চরিত্রাভিনেত্রী হয়ে ওঠা, পুরস্কার পাওয়া, পরিচালনা করা, সমাজসেবায় যুক্ত থাকা, এই সবকিছু মিলিয়েই তিনি প্রিয়দর্শিনী। ওমর সানী যখন তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের শেষ মেগাস্টার বলেন, তখন সেটা স্বামীর আবেগের কথা হলেও, তার পেছনে এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ভারটাও আছে।

মৌসুমীর সেরা ছবি বাছতে বললে একটা তালিকা নয়, কয়েকটা ধাপে ভাবতে হয়। শুরুর জন্য কেয়ামত থেকে কেয়ামত, কারণ সেখান থেকেই সব শুরু। নব্বই দশকের জনপ্রিয়তার জন্য অন্তরে অন্তরে আর দেনমোহর। পরিণত অভিনয়ের জন্য আম্মাজান আর মোল্লা বাড়ির বউ। পুরস্কারের জন্য মেঘলা আকাশ, দেবদাস আর তারকাটা। পরিচালক হিসেবে তাঁকে বুঝতে চাইলে কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি। এইভাবে ছবি বাছলে শুধু হিটের তালিকা পাওয়া যায় না, একজন অভিনেত্রীর বদলে যাওয়ার গল্পটাও ধরা পড়ে।

মৌসুমীর ছবি কোথায় দেখবেন, এই প্রশ্নের সৎ উত্তর হলো, কোনো একক প্ল্যাটফর্মে তাঁর সব ছবি একসঙ্গে পাওয়া যায় বলে এই প্রতিবেদনগুলোতে নিশ্চিত করা হয়নি। তাই এখানে কোনো নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নাম দিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হয়নি। তাঁর পুরোনো ছবিগুলো টেলিভিশন চ্যানেলে পুনঃপ্রচারে দেখা যায়, আর কিছু ছবি পরিবেশকদের বৈধ ইউটিউব চ্যানেলেও থাকে। দেখার আগে সংশ্লিষ্ট ছবির অফিশিয়াল চ্যানেল বা পরিবেশকের পেজ যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ। পাইরেসি সাইট বা অননুমোদিত আপলোড থেকে দেখা থেকে বিরত থাকাই ভালো, কারণ সেখানে ছবির মান যেমন খারাপ থাকে, তেমনি সেটা বৈধ উপায়ও নয়।

এবার সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর। মৌসুমীর বয়স কত, ১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর জন্ম হলে ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর তাঁর ৫৩ বছর পূর্ণ হয়। জন্ম কোথায়, খুলনা অঞ্চলের টাইলকুপি গ্রামে, যা এখন সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় পড়ে। প্রথম সিনেমা কোনটি, ১৯৯৩ সালের কেয়ামত থেকে কেয়ামত, সালমান শাহর বিপরীতে। স্বামী কে, চিত্রনায়ক ওমর সানী। সন্তান কয়জন, এক ছেলে ও এক মেয়ে। জাতীয় পুরস্কার কয়টি, শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তিনটি, মেঘলা আকাশ, দেবদাস আর তারকাটার জন্য। এখন কোথায় আছেন, সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে, আর ওমর সানী দেশে।

আরও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর। মৌসুমী কি পরিচালনা করেছেন, হ্যাঁ, কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি দিয়ে পরিচালক হিসেবে অভিষেক, পরে মেহের নিগার। তিনি কি এখনো অভিনয় করছেন, আগের মতো নিয়মিত নন, তবে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে। তাঁর প্রযোজনা সংস্থার নাম কী, কপোতাক্ষ চলচ্চিত্র, যা ১৯৯৭ সালে শুরু হয়। তিনি কি সমাজসেবায় যুক্ত, হ্যাঁ, নিজের ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন আছে, আর ২০১৩ সালে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে যুক্ত হন। এই উত্তরগুলো একসঙ্গে রাখলে মৌসুমীকে শুধু একজন সাবেক নায়িকা হিসেবে নয়, একজন পূর্ণাঙ্গ শিল্পী হিসেবে বোঝা সহজ হয়।

এরপর কী, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সতর্ক থাকতে হয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে মৌসুমীর কোনো নতুন ছবির ঘোষণা নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। তাই এখানে কোনো আসন্ন ছবির নাম বানিয়ে লেখা হয়নি। যেটা নিশ্চিত, সেটা হলো, জন্মদিন উপলক্ষে তবারক বিতরণের পরিকল্পনা, আর ওমর সানীর ভাষায়, অল্প কিছুদিনের মধ্যে তাঁদের দেখা হওয়ার আশা। ভবিষ্যতে তিনি নতুন কোনো ছবি বা প্রকল্পের ঘোষণা দিলে সেটা যাচাই করে এই গাইড আপডেট করা যাবে। আপাতত তাঁর গল্পের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সারাংশ এটাই, একজন প্রিয়দর্শিনী, যিনি নব্বই দশক থেকে আজ পর্যন্ত দর্শকের মনে জায়গা ধরে রেখেছেন।

শেষ কথা হিসেবে বলা যায়, মৌসুমীর ক্যারিয়ার শুধু সংখ্যার গল্প নয়। দুই শতাধিক ছবি, তিনটি জাতীয় পুরস্কার, একটি প্রযোজনা সংস্থা, পরিচালনার অভিজ্ঞতা, সমাজসেবা, আর তিন দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকের ভালোবাসা, এই সবকিছু মিলিয়ে তাঁর পরিচয়। নতুন দর্শক যাঁরা তাঁর ছবি প্রথমবার দেখতে চান, তাঁদের জন্য শুরুটা হতে পারে কেয়ামত থেকে কেয়ামত দিয়ে, তারপর মেঘলা আকাশ আর দেবদাস। পুরোনো দর্শকের জন্য এই গাইড একটা স্মৃতি ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ। আর সবার জন্য এটা মনে রাখার মতো, প্রিয়দর্শিনী উপাধি এমনি এমনি আসে না, সেটা অর্জন করতে হয়, বছরের পর বছর, ছবির পর ছবি।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন