বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

তারকা

শাহরুখ খান কত টাকার মালিক: ১৩ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য কীভাবে গড়লেন

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৩ নভেম্বর ২০২৬9 মিনিটে পড়ুন
শাহরুখ খানের সম্পদ ও ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে নিজস্ব গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

টেলিভিশনের একজন সাধারণ অভিনেতা থেকে শুরু করে ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা হওয়ার গল্পটা শুধু সিনেমার সাফল্যের গল্প নয়। হুরুন ইন্ডিয়ার ২০২৬ সালের হিসাবে শাহরুখ খানের সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এই হিসাব প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, একজন অভিনেতা কীভাবে এত বড় সম্পদের মালিক হলেন, আর এই সম্পদের পেছনে আসলে কোন কোন সিদ্ধান্ত কাজ করেছে। এই লেখায় সেই পুরো পথটাই ধাপে ধাপে দেখা যাক, সংখ্যার সীমাবদ্ধতাসহ।

প্রথমেই একটা জরুরি কথা পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। হুরুনের এই সংখ্যা কোনো নিরীক্ষিত ব্যাংক হিসাব নয়, এটি একটি আনুমানিক মূল্যায়ন। এতে অভিনয় থেকে আয়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মূল্য, ব্র্যান্ডমূল্য, ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজির অংশীদারত্ব, বিজ্ঞাপন থেকে আয় এবং আবাসনসহ নানা সম্পদের আনুমানিক মূল্য একসঙ্গে ধরা হয়। তাই এই অঙ্ককে হাতে থাকা নগদ টাকা ভাবলে ভুল হবে। এটি সম্পদের একটি সামগ্রিক ধারণা, যার মূল্য বাজার ও মূল্যায়ন পদ্ধতির সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে।

এই সীমাবদ্ধতা বোঝার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ হুরুনের আগের বছরের হিসাবের সঙ্গে তুলনা। ২০২৫ সালের হুরুন তালিকায় শাহরুখের সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ দেখানো হয়েছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। ২০২৬ সালের তালিকায় তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপিতে, অর্থাৎ কমেছে প্রায় ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। তারপরও এই তালিকায় তিনি ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতার অবস্থানে আছেন। তাঁর পরেই আছেন অমিতাভ বচ্চন, যাঁর সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি রুপি।

শাহরুখের জন্ম ১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর, দিল্লিতে। বাবা মীর তাজ মোহাম্মদ খান ছিলেন ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী, মা লতিফ ফাতিমা ছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট। দিল্লির সেন্ট কলম্বাস স্কুলে পড়াশোনার পর তিনি হংসরাজ কলেজে ভর্তি হন। পরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় গণযোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও অভিনয়ের টানে তা শেষ করেননি। থিয়েটার আর টেলিভিশনে কাজ করতে করতেই বড় পর্দায় যাওয়ার স্বপ্নটা তৈরি হয়। এই শুরুটা মনে রাখা জরুরি, কারণ তাঁর পরের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলোতেও এই ধারাবাহিক পরিশ্রম আর ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতাটা বারবার দেখা যায়।

১৯৯১ সালে তিনি মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান। পরের বছর, ১৯৯২ সালে, দিওয়ানা দিয়ে বড় পর্দায় পরিচিতি পান। নব্বইয়ের দশকে বাজিগর, ডর, দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে, দিল তো পাগল হ্যায় ও কুছ কুছ হোতা হ্যায়ের মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি তারকাখ্যাতি পান। একের পর এক হিট ছবির সুবাদে তাঁর পারিশ্রমিকও বাড়তে থাকে। কিন্তু শাহরুখের গল্পে মোড় আসে তখনই, যখন তিনি শুধু নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেননি।

ক্যারিয়ারের এক পর্যায়ে তিনি ছবির লাভের অংশীদার হওয়ার কৌশল নেন। অর্থাৎ কোনো সিনেমার জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নেওয়ার পাশাপাশি ছবির ব্যবসা ভালো হলে সেখান থেকেও আয় করার সুযোগ তৈরি করেন। পাঠান ও জওয়ানের মতো ব্যবসাসফল সিনেমা এই কৌশলের আর্থিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। অভিনয় থেকে আয়কে ব্যবসায় বিনিয়োগ করার সুযোগও তৈরি হয় এভাবেই। একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি নিজের শ্রমকে শুধু পারিশ্রমিকে আটকে রাখেননি, সেটাকে মালিকানায় বদলে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, আর এটাই তাঁর সম্পদ গড়ার প্রথম বড় ভিত্তি।

ব্যবসায়ী হওয়ার গল্পে শুরুতেই সাফল্য আসেনি, এই অংশটা অনেকেই ভুলে যান। ১৯৯৯ সালে অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও পরিচালক আজিজ মির্জার সঙ্গে মিলে তিনি গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ড্রিমজ আনলিমিটেড। অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা নির্মাণ ও ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়াই ছিল এর লক্ষ্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সিনেমা ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি ২০০০ সালে মুক্তি পেয়ে বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এরপর ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের অশোকাও ব্যবসায়িকভাবে বড় সাফল্য পায়নি। পরপর দুই ছবির ব্যর্থতা প্রতিষ্ঠানটির জন্য আর্থিক চাপ তৈরি করে।

তবে এখানেই থেমে যাননি শাহরুখ। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া চলতে চলতে তুলনামূলক ভালো ব্যবসা করে। আর ড্রিমজ আনলিমিটেডের অভিজ্ঞতার পর তিনি নিজের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকে আরও বিস্তৃত করেন। ২০০২ সালে গড়ে ওঠা রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট ধীরে ধীরে তাঁর সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। স্ত্রী গৌরী খানও এই প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই ধাপটা বোঝা জরুরি, কারণ এখান থেকে শাহরুখ আর শুধু অভিনেতা থাকেননি, তিনি হয়ে উঠলেন একটি বিনোদন প্রতিষ্ঠানের মালিক।

রেড চিলিজের হাত ধরে ২০০৪ সালে মুক্তি পায় ম্যায় হু না, যা প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা। এরপর ওম শান্তি ওম, বিল্লু, চেন্নাই এক্সপ্রেস, হ্যাপি নিউ ইয়ার, দিলওয়ালে, রইস ও জওয়ানের মতো সিনেমা নির্মাণ ও প্রযোজনায় যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রেড চিলিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শুধু সিনেমা তৈরির প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকেনি। চলচ্চিত্রের স্বত্ব, পরিবেশনা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও পোস্ট প্রোডাকশনের কাজেও বিস্তৃত হয়েছে এর কার্যক্রম। ফলে একটি সিনেমা মুক্তির পরও তার স্বত্ব ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ শাহরুখের সম্পদ তৈরির পেছনে শুধু অভিনয় নয়, সিনেমার মালিকানা ও ব্যবসায়িক অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সিনেমার ব্যবসায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস বা ভিএফএক্সে বিনিয়োগ। সাধারণত দর্শক পর্দায় অভিনেতাদের অভিনয় দেখেন, কিন্তু সিনেমার পেছনে যে প্রযুক্তিগত কাজ থাকে, সেটিও বড় ব্যবসার ক্ষেত্র। শাহরুখ এই সম্ভাবনা বুঝেছিলেন। রেড চিলিজের অধীনে গড়ে ওঠে রেড চিলিজ ভিএফএক্স। রা.ওয়ান, কৃষ থ্রি, ফ্যান, জিরোসহ বিভিন্ন সিনেমায় প্রতিষ্ঠানটি ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের কাজ করেছে। অন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সিনেমাতেও কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখানে তাঁর ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার একটি দিক স্পষ্ট। তিনি শুধু নিজের অভিনীত সিনেমার জন্য অর্থ ব্যয় করেননি, বরং সেই সিনেমা তৈরির প্রযুক্তি ও দক্ষতাকেও ব্যবসায়িক সম্পদে পরিণত করেছেন।

শাহরুখের সম্পদ বৃদ্ধির গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগগুলোর একটি ক্রিকেট। ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসরের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকানায় যুক্ত হন তিনি। জুহি চাওলা ও তাঁর স্বামী জয় মেহতার সঙ্গে মিলে দলটি কেনেন। সে সময় প্রায় ২৬২ কোটি রুপি বিনিয়োগের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শুরুর দিকে কেকেআরের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। প্রথম তিন আসরে দলটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কিন্তু বিনিয়োগ থেকে সরে আসেননি শাহরুখ। ২০১২ সালে প্রথমবার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় কলকাতা। ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতে দলটি। এরপর ২০২৪ সালেও চ্যাম্পিয়ন হয় কেকেআর।

ক্রিকেট বিনিয়োগ এখানেই থামেনি। ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগের ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটের লস অ্যাঞ্জেলেস নাইট রাইডার্সসহ বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় নাইট রাইডার্স ব্র্যান্ডের বিস্তার ঘটেছে। অর্থাৎ একটি দল কেনা থেকে শুরু করে একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ব্র্যান্ড গড়ে তোলা, এই ধাপটাই কেকেআরকে শুধু শখের বিনিয়োগ থেকে ব্যবসায়িক সম্পদে বদলে দিয়েছে। দলের সাফল্য আর ব্র্যান্ডের বিস্তার একসঙ্গে মিলে এই অংশের মূল্য বাড়িয়েছে, যদিও ক্রীড়া ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্যায়নও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

শাহরুখের সম্পদের আরেকটি বড় উৎস বিজ্ঞাপন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের দূত হিসেবে কাজ করছেন তিনি। গাড়ি, ঘড়ি, পানীয়, প্রযুক্তিপণ্য, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ থেকে শুরু করে নানা ধরনের ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাঁকে। তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি জনপ্রিয়তা। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর ভক্ত রয়েছে। ফলে একটি বিজ্ঞাপনে তাঁর উপস্থিতি শুধু ভারতীয় বাজারেই প্রভাব ফেলে না, আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও পৌঁছায়।

২০২৬ সালে প্রকাশিত ভারতীয় তারকাদের ব্র্যান্ডমূল্য সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, শাহরুখের ব্র্যান্ডমূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৯৪ কোটি রুপি। ব্র্যান্ডমূল্য আর মোট সম্পদ এক জিনিস নয়, এই পার্থক্যটা মনে রাখা দরকার। ব্র্যান্ডমূল্য বোঝায় একজন তারকার নাম ও উপস্থিতির বাণিজ্যিক আকর্ষণ কতটা, আর মোট সম্পদ বোঝায় তাঁর সব ধরনের সম্পত্তি ও অংশীদারত্বের আনুমানিক মূল্য। তবু ব্র্যান্ডমূল্যের এই অঙ্কটা বুঝিয়ে দেয়, কেন বিজ্ঞাপনদাতারা দশকের পর দশক ধরে শাহরুখের ওপর ভরসা রাখেন।

শাহরুখের সম্পদের আলোচনায় তাঁর বাড়িগুলোর কথা না বললেই নয়। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকা মান্নাত শুধু তাঁর বাড়ি নয়, ভক্তদের কাছে এটি একটি দর্শনীয় স্থান। একসময় এই বাড়ির নাম ছিল ভিলা ভিয়েনা। পরে শাহরুখ এটি কিনে সংস্কার করেন। স্ত্রী গৌরী খান বাড়িটির অভ্যন্তরীণ নকশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া দুবাইয়ের পাম জুমেইরায় রয়েছে তাঁর বিলাসবহুল ভিলা। লন্ডন ও ভারতের আলিবাগেও তাঁর সম্পত্তি থাকার খবর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। আবাসন এই সম্পদের একটি দৃশ্যমান অংশ, তবে এর বাজারমূল্যও সময়ের সঙ্গে বদলায়।

শাহরুখের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের আরেকটি দিক হলো পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা। স্ত্রী গৌরী খান শুধু তাঁর জীবনসঙ্গী নন, ব্যবসারও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের পাশাপাশি গৌরী নিজের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করেন। ছেলে আরিয়ান খানও বিনোদন ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। ২০২৫ সালে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া দ্য বার্ডস অব বলিউড দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। মেয়ে সুহানা খানও অভিনয়ে এসেছেন। অর্থাৎ পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও বিনোদনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, আর এই ধারাবাহিকতাটাই রেড চিলিজের মতো প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে পুরো ছবিটা দাঁড়াল কেমন। প্রথম ধাপে অভিনয় থেকে আয় ও তারকাখ্যাতি, দ্বিতীয় ধাপে লাভের অংশীদারত্বের কৌশল, তৃতীয় ধাপে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, চতুর্থ ধাপে ভিএফএক্সের মতো প্রযুক্তি ব্যবসা, পঞ্চম ধাপে ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বিস্তার, আর সব সময়ের সঙ্গী বিজ্ঞাপন থেকে আয়। কোনো একটা ধাপ একা এই সাম্রাজ্য গড়েনি। বরং তিন দশকের বেশি সময় ধরে একের পর এক সিদ্ধান্ত, কিছু ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা, আর ব্যর্থতার পরও লেগে থাকা, এই সব মিলেই আজকের হিসাবটা তৈরি হয়েছে।

এই লেখার সঙ্গে শাহরুখের আসন্ন সিনেমা কিংয়ের গাইডকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। কিং একটি আলাদা সিনেমা প্রকল্প, যার কাস্ট, গান ও মুক্তি নিয়ে আমাদের সাইটে আলাদা সম্পূর্ণ গাইড আছে। এই লেখার বিষয় শুধু তাঁর সম্পদ গড়ার ব্যবসায়িক পথ। পাঠক যদি কিংয়ের মুক্তির তারিখ, কাস্ট বা গান জানতে চান, তাহলে সেই গাইডটাই সঠিক জায়গা। আর যদি প্রশ্ন হয় শাহরুখ কত টাকার মালিক, তাহলে উত্তরটা এই লেখার শুরুতেই আছে, হুরুন ইন্ডিয়া ২০২৬ অনুযায়ী প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, তবে তা আনুমানিক হিসাব, নিশ্চিত ব্যাংক ব্যালান্স নয়।

সবশেষে কয়েকটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর। শাহরুখ কত টাকার মালিক, হুরুনের ২০২৬ সালের হিসাবে প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এই হিসাব কে দিয়েছে, হুরুন ইন্ডিয়া। আগের বছরের তুলনায় সম্পদ বেড়েছে না কমেছে, কমেছে, ২০২৫ সালের ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি থেকে ২০২৬ সালে প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি। সম্পদের মূল উৎস কী, অভিনয়, প্রযোজনা ও স্বত্ব, ভিএফএক্স, ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি, বিজ্ঞাপন ও আবাসন। আর এই হিসাব কি চূড়ান্ত, না, এটি আনুমানিক মূল্যায়ন, পরের বছরের তালিকায় তা আবার বদলাতে পারে। এই সতর্কতা মাথায় রেখেই সংখ্যাটা পড়া উচিত, তাহলে চমকটাও থাকবে, ভুল বোঝাবুঝিটাও হবে না।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন