বিনোদন ঝলক
তারকা

মণিপুরি রাসলীলার গুরু কৃষ্ণকুমারী সিনহা আর নেই: ৮২ বছর বয়সে প্রয়াত, ৬ দশকের সাধনা

বিনোদন ঝলক ডেস্ক২৭ অক্টোবর ২০২৬2 মিনিটে পড়ুন
মণিপুরি রাসলীলার গুরু কৃষ্ণকুমারী সিনহা নিয়ে গ্রাফিক
ছবি: বিনোদন ঝলক

মণিপুরি রাসলীলার প্রবীণ শিল্পী ও শ্রদ্ধেয় গুরু কৃষ্ণকুমারী সিনহা মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে বয়সজনিত জটিলতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তাঁর বাড়ি ঝাপেরগাঁও গ্রামে। মণিপুরি রাসলীলার মতো একটি পবিত্র ও প্রাচীন শিল্পধারাকে টিকিয়ে রাখার কাজে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, কৃষ্ণকুমারী সিনহা ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

মণিপুরি রাসলীলার ঐতিহ্য রক্ষায় কৃষ্ণকুমারী সিনহা কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাসলীলা শুধু নাচ নয়, এতে একসঙ্গে মিশে থাকে শাস্ত্রীয় নৃত্য, সংগীত ও কাহিনিভিত্তিক মঞ্চনাটক। এই তিনটি মাধ্যমকে একসঙ্গে ধরে রাখা সহজ নয়। একজন শিল্পীকে যেমন নৃত্যশিল্পী হতে হয়, তেমনি কাহিনি বলার মানুষও হতে হয়। কৃষ্ণকুমারী সিনহা সেই দুটি ভূমিকাতেই দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

তাঁর শিল্পীজীবন শুরু হয়েছিল সূত্রধর হিসেবে। সারা রাত ধরে চলা ভক্তিমূলক পরিবেশনায় তিনি কথক ও গায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এমন পরিবেশনা ছিল তিন শতাধিক। একই সঙ্গে তিনি এক শতাধিক পরিবেশনায় প্রধান নৃত্যশিল্পী হিসেবেও অংশ নিয়েছেন। গুরু অজা চন্দ্রমোহন সিনহার কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি রসধারীর ভূমিকায় যান। রসধারী হিসেবে তিনি প্রায় ত্রিশটি পূর্ণাঙ্গ প্রযোজনা পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মহা রাসলীলা, রাখাল রাস, নৌকাবিলাস ও মাথুর পালা।

শুধু মঞ্চে পরিবেশনা করেই তাঁর কাজ শেষ হয়নি। শিক্ষকতা ও পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের পথ দেখানোর মধ্য দিয়ে তিনি এই শিল্পধারাকে টিকিয়ে রেখেছেন। বাংলাদেশ ও ভারত, দুই দেশের শিল্পীদেরই তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মণিপুরি থিয়েটারের শুরু থেকেই তিনি সেখানে পরিচালক ও উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন। একজন গুরু হিসেবে তাঁর কাজ ছিল শুধু নাচ শেখানো নয়, একটি ঐতিহ্যের মূল্যবোধ পরের প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া।

দেশীয় সংস্কৃতিতে আজীবন অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বহু সম্মান পেয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সম্মাননাও রয়েছে। তাঁর প্রয়াণে অঞ্চলের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তাঁকে মণিপুরি ঐতিহ্যের একজন মৌলিক অভিভাবক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর শেষকৃত্য মাধবপুরে মণিপুরি সম্প্রদায়ের শ্মশানে সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। একটি শিল্পধারা যখন তার গুরুকেই হারায়, তখন ক্ষতিটা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো একটি ঐতিহ্যের।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার