মার্কিন সংগীতশিল্পী নিল ইয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি ট্রাম্প ৪৭ কমিটি ইনকরপোরেটেডের বিরুদ্ধে ১ কোটি ডলারের মামলা করেছেন। অভিযোগ, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মঞ্চে প্রবেশের সময় তাঁর রকিন ইন দ্য ফ্রি ওয়ার্ল্ড গানটি বারবার ব্যবহার করে কপিরাইট লঙ্ঘন করা হয়েছে। সোমবার, ২৬ অক্টোবর এই মামলা করা হয়। একজন শিল্পীর গান তাঁর অনুমতি ছাড়া রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা যাবে কিনা, সেই পুরোনো প্রশ্নই আবার আদালতে উঠেছে।
অনুমতি ছাড়া ইয়ংয়ের গানটি ব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এটি তাঁর দ্বিতীয় মামলা। প্রথম মামলাটি হয়েছিল ২০২০ সালে। পরে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু ইয়ংয়ের নতুন মামলার দাবি, আগের সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করে ট্রাম্প আবারও গানটি ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ এই মামলা শুধু একটি গান ব্যবহারের অভিযোগ নয়, আগের সমঝোতা মানা হয়নি বলেও অভিযোগ। এই দিকটাই মামলাটিকে আগের মামলার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
গানটির বক্তব্য ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের বিপরীত, এমন দাবি করেছেন ইয়ং। মামলায় ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত গানটিকে একটি তীব্র প্রতিবাদী সংগীত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, গানটি মার্কিন রাজনৈতিক বক্তব্যের ফাঁপা প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দরিদ্র, গৃহহীন ও সমাজের বিস্মৃত মানুষের কঠিন বাস্তবতার বৈপরীত্য তুলে ধরে। গানটির কথায় রাস্তায় বেঁচে থাকা মানুষের জীবনের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, সংক্ষেপে গানটি ডোনাল্ড জে ট্রাম্প যা কিছুর প্রতিনিধিত্ব করেন, তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
মামলার বিবরণে সুনির্দিষ্ট ব্যবহারের উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। ভ্যারাইটি জানিয়েছে, সোমবার ভার্জিনিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা আদালতে ট্রাম্প ৪৭ কমিটির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন ইয়ং। মামলায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১২ অক্টোবর ওহাইওর ইয়ংস্টাউনে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গানটি বাজানো হয়েছিল। পাশাপাশি অভিযোগ করা হয়েছে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত অন্যান্য সমাবেশেও গানটির রেকর্ডিং অসংখ্যবার বাজানো হয়েছে।
ইয়ংয়ের আইনজীবীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জনসমক্ষে গানটির আরও ব্যবহার বন্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন। পাশাপাশি ইতিমধ্যে গানটি ব্যবহারের জন্য ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তাঁরা। মামলায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখন এবং চলতি বছরের সব সমাবেশের সময় ব্যক্তিগতভাবে জানতেন যে সমাবেশে গানটি বাজানোর জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন। তিনি এটাও জানতেন যে ইয়ং সেই প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দেননি এবং দিতেও রাজি হবেন না। এই দাবি প্রমাণিত হলে মামলার ফল শুধু ক্ষতিপূরণেই থামবে না, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমাবেশে গান ব্যবহারের নিয়ম নিয়েও বড় বার্তা দেবে।
এই মামলার গুরুত্ব শুধু একজন শিল্পী আর একজন রাজনীতিকের বিরোধে সীমাবদ্ধ নয়। শিল্পীর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাজ রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা হলে সেটা কপিরাইট লঙ্ঘন কিনা, আর আগের সমঝোতা ভাঙলে তার পরিণতি কী হবে, এই দুটি প্রশ্নই এখানে জড়িয়ে আছে। আদালত নিষেধাজ্ঞা দিলে ট্রাম্পের সমাবেশে এই গানটি আর বাজানো যাবে না। আর ক্ষতিপূরণের দাবি মঞ্জুর হলে সেটা রাজনৈতিক প্রচার শিবিরগুলোর জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে। আপাতত মামলাটি দায়ের হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষায়।
