খাগড়াছড়ি নাম শুনলেই অনেকের মনে প্রথমে সাজেকের কথা আসে, কারণ সাজেক যাওয়ার পথ এই জেলা দিয়েই। কিন্তু খাগড়াছড়ি শহর আর তার আশপাশ নিজেই একটা সম্পূর্ণ ভ্রমণ গন্তব্য। এখানে আছে রহস্যময় অন্ধকার গুহা, পাহাড়ি ঝরনা, পাহাড়চূড়ার পুকুর, ঝুলন্ত ব্রিজের পার্ক আর শান্ত লেক। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা, শহরকে কেন্দ্র করে এক বা দুই দিনেই এসব জায়গা ঘুরে নেওয়া যায়, দূরের দুর্গম পথে যেতে হয় না। যারা পাহাড় ভালোবাসেন কিন্তু কঠিন ট্রেক চান না, তাদের জন্য খাগড়াছড়ি একটা দারুণ পছন্দ।
খাগড়াছড়ি শহর চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য জেলার প্রাণকেন্দ্র। চারপাশে পাহাড়, মাঝখানে চেঙ্গী নদীর উপত্যকা, আর পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, এই সব মিলিয়ে শহরটার আলাদা একটা চরিত্র আছে। শহরের আশপাশের দর্শনীয় জায়গাগুলোর বেশিরভাগই ১০ কিলোমিটারের মধ্যে, তাই সিএনজি, লোকাল বাস বা রিজার্ভ জিপে সহজে ঘোরা যায়। একদিনে আলুটিলা আর রিছাং ঝরনা, আরেকদিনে দেবতা পুকুর আর হর্টিকালচার পার্ক, এই ভাগে ঘুরলে তাড়াহুড়ো হয় না।
কেন যাবেন, তার উত্তর লুকিয়ে আছে বৈচিত্র্যে। আলুটিলা গুহায় অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার রোমাঞ্চ, রিছাং ঝরনার ঠান্ডা জলে পা ভেজানোর আনন্দ, দেবতা পুকুরের পাহাড়চূড়া থেকে চারপাশের দৃশ্য, আর সন্ধ্যায় হর্টিকালচার পার্কের ঝুলন্ত ব্রিজ, এক ট্রিপে এত রকম অভিজ্ঞতা খুব কম জায়গায় মেলে। এর সঙ্গে আছে স্থানীয় বাজার, পাহাড়ি খাবার আর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি দেখার সুযোগ। পরিবার নিয়ে, বন্ধুদের সঙ্গে বা একা, সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্যই খাগড়াছড়িতে কিছু না কিছু আছে।
খাগড়াছড়ি যাওয়ার সেরা সময় শীতকাল, মোটামুটি নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। তখন আকাশ পরিষ্কার থাকে, পাহাড়ি পথ শুকনো থাকে, আর ঘোরাঘুরি আরামদায়ক হয়। বর্ষাকালে ঝরনাগুলো সবচেয়ে প্রাণবন্ত থাকে, পানির প্রবাহ বেড়ে যায়, কিন্তু তখন পথ পিচ্ছিল থাকে আর পাহাড়ি রাস্তায় সতর্ক থাকতে হয়। গরমকালে দুপুরের রোদ কড়া লাগতে পারে, তাই সকাল আর বিকেলের দিকে ঘোরার পরিকল্পনা ভালো। ছুটির দিনে শহরের হোটেলে চাপ বেশি থাকে, তাই আগে বুকিং দেওয়া ভালো। আর পার্বত্য এলাকায় যাওয়ার আগে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আর স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা জেনে নেওয়া সবসময় বুদ্ধিমানের কাজ।
ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে সবচেয়ে সহজ উপায় বাস। ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে খাগড়াছড়ির নন এসি ও এসি বাস ছাড়ে, রাতের বাসে গেলে সকালে শহরে পৌঁছানো যায়। ভাড়া বাসের ধরন আর মৌসুমভেদে বদলায়, নন এসিতে আনুমানিক ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে ধরে নেওয়া যায়। চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ির বাস পাওয়া যায়। শহরে পৌঁছে ঘোরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লোকাল বাস বা রিজার্ভ জিপ ব্যবহার করা যায়। দল বড় হলে দিনভর জিপ রিজার্ভ করে নিলে আলুটিলা, রিছাং আর আশপাশ একসঙ্গে ঘোরা সহজ হয়, আর ভাড়া ভাগ হয়ে গেলে জনপ্রতি খরচও কমে।
খাগড়াছড়ির সবচেয়ে বিখ্যাত জায়গা আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। শহর থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় অবস্থিত এই কেন্দ্রকে খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশপথও বলা হয়। এখানে আছে উঁচু পাহাড়, সাজানো হাঁটাপথ, সিঁড়ি, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আর ঝুলন্ত সেতু। পাহাড়ের ওপর থেকে খাগড়াছড়ি শহরের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। কেন্দ্রের প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি অল্প, সূত্রভেদে ১০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে, আর মৌসুমভেদে বদলাতে পারে বলে গেটে যাচাই করে নিন।
আলুটিলার মূল আকর্ষণ প্রাকৃতিক গুহা। স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের কাছে এটি 'মাতাই হাকর' বা 'দেবতার গুহা' নামে পরিচিত। গুহাটি কয়েকশ ফুট লম্বা, সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গুহায় ঢুকতে হয়, আর ভেতরটা পুরোপুরি অন্ধকার। ভেতরে পাথুরে পথ আর কোথাও কোথাও পানির ধারা পার হতে হয়, এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে প্রায় ১৫ মিনিট লাগে। গুহার ভেতরে আলো কম থাকায় টর্চলাইট বা মশাল সঙ্গে রাখা জরুরি, প্রবেশপথে মশাল ভাড়াও পাওয়া যায়। ভেজা পাথরে পা পিছলে যেতে পারে, তাই ভালো গ্রিপের জুতা পরুন, আর গুহার ভেতরে দল থেকে আলাদা হবেন না। ছোট বাচ্চা বা অন্ধকারে ভয় পান এমন কেউ থাকলে আগেই ভেবে সিদ্ধান্ত নিন।
আলুটিলা ঘুরে একই ভ্রমণে দেখে নেওয়া যায় রিছাং ঝরনা। আলুটিলা থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে, হৃদয় মেম্বার এলাকার দিকে এই ঝরনা। মূল সড়ক থেকে কিছুটা পথ হেঁটে ঝরনায় পৌঁছাতে হয়, আর পথের কিছু অংশ পাথুরে ও খাড়া। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা স্বচ্ছ জলধারা আর চারপাশের সবুজ গাছপালা মিলিয়ে জায়গাটা খুব শান্ত। বর্ষায় ঝরনার রূপ সবচেয়ে সুন্দর, কিন্তু তখন পাথর বেশি পিচ্ছিল থাকে। ঝরনার জলে নামলে অতিরিক্ত পোশাক আর তোয়ালে সঙ্গে রাখুন, আর ভেজা পাথরে সাবধানে পা ফেলুন। রিছাংয়ের কাছেই আরেকটি ছোট ঝরনা আছে, সময় আর শক্তি থাকলে সেটাও দেখে নেওয়া যায়, তবে সেখানকার পথ কিছুটা দুর্গম।
খাগড়াছড়ির আরেকটি ঐতিহ্যবাহী জায়গা দেবতা পুকুর। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই পুকুরে যেতে খাগড়াছড়ি থেকে মহালছড়ি সড়ক ধরে মাইসছড়ি হয়ে নুনছড়ি এলাকায় যেতে হয়, তারপর পাহাড়ি পথ আর সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। ওঠার পথটা কিছুটা কষ্টকর, কিন্তু ওপরে পৌঁছে শান্ত পুকুর আর চারপাশের দৃশ্য ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। স্থানীয়দের কাছে এই পুকুরের আলাদা মর্যাদা আছে, তাই সেখানে শান্ত পরিবেশ বজায় রাখুন, পুকুরে নামা বা ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকুন। বয়স্ক মানুষ বা হাঁটুর সমস্যা থাকলে এই পর্বটা বাদ দেওয়াই ভালো।
শহরের ভেতরে বা কাছেই ঘোরার মতো জায়গার মধ্যে আছে পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক। এখানে আছে ঝুলন্ত ব্রিজ, সাজানো বাগান আর পাশেই মায়াবিনী লেক। বিকেলের দিকে পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য পার্কটা খুব ভালো, আর সন্ধ্যার আলোয় লেকের ধার সুন্দর লাগে। যারা একদিনের বেশি থাকবেন, তারা পানছড়ি সড়কের দিকে হাতিমাথা সিঁড়ির পরিকল্পনাও করতে পারেন, তবে সেখানে যেতে চেঙ্গী নদী পার হয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার হাঁটতে হয়, তাই এটা শুধু ফিট আর অভিজ্ঞ ভ্রমণকারীদের জন্য। সাধারণ ভ্রমণকারীর জন্য আলুটিলা, রিছাং, দেবতা পুকুর আর হর্টিকালচার পার্ক দিয়েই খাগড়াছড়ির স্বাদ পুরোপুরি পাওয়া যায়।
অনেকেই খাগড়াছড়িকে শুধু সাজেকের যাত্রাবিরতি হিসেবে দেখেন, কিন্তু সাজেক আসলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায়, আর খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা হয়ে সাজেক যেতে হয়। খাগড়াছড়ি শহরে রাত কাটিয়ে পরের দিন সাজেকের দিকে রওনা হওয়া যায়, কিন্তু সাজেকের জন্য আলাদা দিন, আলাদা যাতায়াত আর আলাদা অনুমতির ব্যবস্থা লাগে। এই গাইডে শুধু খাগড়াছড়ি শহর আর তার আশপাশের কথা বলা হলো, সাজেকের বিস্তারিত পরিকল্পনার জন্য আমাদের সাজেক গাইড দেখে নিন। আর সাজেক বা পার্বত্য এলাকার দিকে যাওয়ার আগে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অবশ্যই জেনে নিন, কারণ মাঝে মাঝে সড়ক অবরোধ বা চলাচলে বিধিনিষেধ থাকতে পারে।
থাকার জন্য খাগড়াছড়ি শহরই সবচেয়ে সুবিধাজনক। শহরে পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন মানের হোটেল আছে, ভাড়া আনুমানিক ৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকার মধ্যে। বাজেট হোটেলে সাধারণ সুবিধা মিলবে, আর মাঝারি মানের হোটেলে আরাম কিছুটা বেশি। শীতের মৌসুমে আর ছুটির দিনে আগে বুকিং দেওয়া ভালো। হোটেল বাছার সময় শহরের কেন্দ্র থেকে দূরত্ব আর সকালের যাতায়াতের সুবিধা দেখে নিন, কারণ আলুটিলার দিকে রওনা হতে সকাল সকাল বের হওয়াই ভালো। যারা সাজেকের সঙ্গে মিলিয়ে ঘুরবেন, তারা খাগড়াছড়িতে এক রাত আর সাজেকে এক রাতের পরিকল্পনা করতে পারেন।
খাওয়া দাওয়ার জন্য শহরের রেস্তোরাঁগুলোই ভরসা। ভাত, মাছ, মাংস আর ডালের সাধারণ বাঙালি খাবার সহজে পাওয়া যায়, আর পাহাড়ি রেস্তোরাঁয় স্থানীয় পদও চেখে দেখা যায়। আলুটিলা বা রিছাংয়ের দিকে ঘোরার সময় দুপুরের খাবার শহরে ফিরে খাওয়া অথবা সঙ্গে শুকনো খাবার রাখা ভালো, কারণ দর্শনীয় জায়গাগুলোর আশপাশে বড় রেস্তোরাঁ কম। এক বেলার সাধারণ খাবারে জনপ্রতি আনুমানিক ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা ধরে নেওয়া যায়। পানি সঙ্গে রাখুন, আর স্থানীয় বাজারে চা বা হালকা নাশতার বিরতি নিলে ভ্রমণের স্বাদ আরও বাড়ে।
খরচের হিসাবটা দল, যাতায়াত আর হোটেলের মানের ওপর অনেক বদলায়, তাই এখানে শুধু আনুমানিক রেঞ্জ দেওয়া হলো, মৌসুমভেদে দাম বদলাতে পারে বলে যাওয়ার আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি বাস ভাড়া নন এসিতে আনুমানিক ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, এসিতে বেশি। শহরের ভেতরে সিএনজি বা লোকাল বাসে একেকটি স্পটে যাওয়া আসায় জনপ্রতি কয়েকশ টাকা লাগে, আর দিনভর জিপ রিজার্ভ করলে দল ভাগ করে নিলে জনপ্রতি খরচ কমে। হোটেল, খাওয়া, প্রবেশ ফি আর স্থানীয় যাতায়াত মিলিয়ে খাগড়াছড়িতে এক রাত দুই দিনের ট্রিপে বাজেট ভ্রমণে জনপ্রতি আনুমানিক ৩,৫০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা লাগতে পারে। মাঝারি বাজেটে, ভালো হোটেল আর রিজার্ভ গাড়িসহ, জনপ্রতি আনুমানিক ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা ধরে নিন। এগুলো আনুমানিক রেঞ্জ, দলের আকার আর মৌসুমের ওপর আসল খরচ কম বেশি হতে পারে।
বাজেট বাঁচাতে কয়েকটা সহজ কৌশল আছে। প্রথমত, দল বেঁধে গেলে জিপের ভাড়া ভাগ হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, আলুটিলা আর রিছাং একদিনে একসঙ্গে ঘুরলে যাতায়াতের খরচ কমে। তৃতীয়ত, লোকাল বাস আর সিএনজি ব্যবহার করলে রিজার্ভ গাড়ির চেয়ে অনেক কম লাগে। চতুর্থত, শহরের সাধারণ রেস্তোরাঁয় খেলে খাবারের খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে। আর শেষ কথা, হোটেল আগে বুকিং দিলে মৌসুমে বেশি দামে ঠেকতে হয় না। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে আর পানি ও শুকনো খাবার সঙ্গে রাখলে ছোট ছোট খরচও অনেক কমে যায়।
নিরাপত্তা আর শিষ্টাচারের দিকগুলো খাগড়াছড়িতে মেনে চলা জরুরি। গুহার ভেতরে টর্চ ছাড়া ঢুকবেন না, ভেজা পাথরে সাবধানে হাঁটুন, আর ঝরনার জলে নামার আগে গভীরতা আর স্রোত দেখে নিন। পাহাড়ি পথে সন্ধ্যার পর ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলুন, আর অপরিচিত পথে স্থানীয়দের পরামর্শ ছাড়া এগোবেন না। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর গ্রামে গেলে তাদের জীবনযাত্রা আর ধর্মীয় স্থানের প্রতি সম্মান দেখান, অনুমতি ছাড়া মানুষের ছবি তুলবেন না। প্লাস্টিক আর ময়লা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলুন, ঝরনা আর পুকুরের পানি নোংরা করবেন না। আর পার্বত্য এলাকায় যাওয়ার আগে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সড়কের অবস্থা আর প্রশাসনের নির্দেশনা জেনে নিন।
দুই দিনের নমুনা পরিকল্পনা এমন হতে পারে। প্রথম দিন সকালে খাগড়াছড়ি পৌঁছে হোটেলে ফ্রেশ হয়ে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র আর গুহা ঘুরুন, দুপুরে ফেরার পথে রিছাং ঝরনা দেখে সন্ধ্যায় হর্টিকালচার পার্ক আর মায়াবিনী লেকে সময় কাটান। দ্বিতীয় দিন সকালে দেবতা পুকুরের দিকে যান, দুপুরে শহরে ফিরে বাজার ঘুরে বিকেলে বা রাতের বাসে ঢাকার দিকে রওনা হন। যাদের হাতে একদিন, তারা প্রথম দিনের পরিকল্পনাটাই করুন, দেবতা পুকুর পরের ট্রিপের জন্য রেখে দিন। তাড়াহুড়ো করে সব দেখার চেয়ে ধীরে ধীরে কয়েকটা জায়গা ভালোভাবে দেখা অনেক বেশি আনন্দের।
সবশেষে, খাগড়াছড়ি এমন এক গন্তব্য যেখানে পাহাড়ের রোমাঞ্চ আর শহরের সুবিধা দুটোই একসঙ্গে মেলে। কঠিন ট্রেক ছাড়াই গুহা, ঝরনা, পুকুর আর লেক দেখা যায়, আবার চাইলে সাজেকের মতো বড় ট্রিপের সঙ্গেও মিলিয়ে নেওয়া যায়। ঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে খাগড়াছড়ির দুই দিন আপনার পাহাড় ভ্রমণের স্মৃতিতে আলাদা জায়গা করে নেবে। আর খরচের অঙ্কগুলো মৌসুমভেদে বদলায়, তাই যাত্রার আগে বাস ভাড়া, হোটেল ভাড়া আর প্রবেশ ফি যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
খাগড়াছড়ি শহরের বাজার ঘোরাটাও ভ্রমণের অংশ। স্থানীয় বাজারে পাহাড়ি ফল, মসলা আর হাতে তৈরি জিনিসপত্র পাওয়া যায়, আর দাম নিয়ে হালকা দরদাম করা স্বাভাবিক। তবে কেনাকাটার সময় স্থানীয় দোকানিদের সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলুন, আর বনজ সম্পদ বা সুরক্ষিত কোনো জিনিস কিনবেন না। শহরের চায়ের দোকানে বসে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে গল্প করলে খাগড়াছড়ির জীবনযাত্রা সম্পর্কে এমন অনেক কিছু জানা যায়, যা কোনো গাইড বইয়ে থাকে না। আর মনে রাখবেন, বাজারের ভিড়ে নিজের ব্যাগ আর জিনিসপত্রের দিকে খেয়াল রাখা সবসময় জরুরি।
খাগড়াছড়ি নিয়ে সাধারণ প্রশ্নের উত্তরগুলো জেনে নিলে পরিকল্পনা সহজ হয়। একদিনে কি সব দেখা যাবে, আলুটিলা আর রিছাং একদিনে দেখা যায়, কিন্তু দেবতা পুকুরসহ সব দেখতে দুই দিন ভালো। গুহায় কি টর্চ ছাড়া ঢোকা যায়, না, গুহার ভেতর পুরো অন্ধকার, তাই টর্চ বা মশাল ছাড়া ঢোকা উচিত নয়। পরিবার নিয়ে যাওয়া কি নিরাপদ, হ্যাঁ, শহরকেন্দ্রিক স্পটগুলো পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য উপযুক্ত, শুধু গুহা আর ঝরনার পিচ্ছিল পথে বাচ্চাদের হাত ধরে রাখুন। আর সাজেকের সঙ্গে কি মিলিয়ে ঘোরা যাবে, যাবে, তবে সাজেকের জন্য আলাদা দিন আর আলাদা প্রস্তুতি লাগবে, আর যাওয়ার আগে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি জেনে নেওয়া জরুরি।
