বাংলাদেশের প্রতিদিনের বিনোদন পোর্টাল
বিনোদন ঝলক

দেশি-বিদেশি নাটক, সিনেমা ও সিরিজের প্রতিদিনের বিনোদন খবর

ভ্রমণ

দেবতাখুম ভ্রমণ গাইড ২০২৬: বান্দরবানের খুমের রাজ্যে যাওয়ার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা

বিনোদন ঝলক ডেস্ক৪ নভেম্বর ২০২৬11 মিনিটে পড়ুন
দেবতাখুম ভ্রমণ গাইডের থাম্বনেইল
ছবি: বিনোদন ঝলক

বান্দরবানের গভীর অরণ্যের ভেতর লুকিয়ে আছে দেবতাখুম, দুই পাশে খাড়া পাথরের দেয়াল আর মাঝখানে গভীর সবুজ জল। খুম মানে পাহাড়ি ঝিরির এমন এক অংশ যেখানে পানি জমে তৈরি হয়েছে গভীর জলাধার। বান্দরবানের খুমগুলোর মধ্যে দেবতাখুম এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়, কারণ অন্য দুর্গম খুমের তুলনায় এখানে পৌঁছানো তুলনামূলক সহজ, আর অভিজ্ঞতাটা একেবারেই অন্যরকম। বাঁশের ভেলায় চেপে সরু গিরিপথ দিয়ে এগিয়ে যাওয়া, মাথার ওপর পাথরের ছাদ, চারপাশে নিস্তব্ধতা, এই সব মিলিয়ে দেবতাখুম একদিনের অ্যাডভেঞ্চারের জন্য বাংলাদেশের সেরা গন্তব্যগুলোর একটি।

দেবতাখুম বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। বান্দরবান শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। যাত্রাপথটি এমন: বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ি, সেখান থেকে কচ্ছপতলী বাজার, তারপর ট্রেক করে শীলবাঁধা পাড়া হয়ে দেবতাখুম। স্থানীয়দের মতে খুমটি প্রায় ৬০০ ফুট লম্বা আর কিছু জায়গায় ৫০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত গভীর। দুই পাশের পাথরের দেয়াল এত উঁচু আর কাছাকাছি যে ভেতরের দিকে সূর্যের আলো প্রায় পৌঁছায় না, তাই খুমের ভেতরটা সবসময় শীতল আর রহস্যময় লাগে।

কেন যাবেন, এই প্রশ্নের উত্তরটা দেবতাখুম নিজেই দেয়। প্রথমত, এটি এমন এক অভিজ্ঞতা যা বাংলাদেশের আর কোথাও সহজে মেলে না, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া গভীর খালের ভেতর দিয়ে ভেলায় ভেসে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, পুরো পথটাই সুন্দর, ঝিরিপথ, বুনো গাছপালা, পাখির ডাক আর ছোট ছোট পাথুরে ধাপ। তৃতীয়ত, যারা থানচির আমিয়াখুম বা ভেলাখুমের মতো কঠিন ট্রেকের জন্য এখনো তৈরি নন, তাদের জন্য দেবতাখুম একটা দারুণ শুরু। মাঝারি মানের ট্রেক, একদিনেই ঘুরে আসা যায়, আর বান্দরবান শহর থেকে দিনে দিনে ফেরা সম্ভব।

দেবতাখুম যাওয়ার সেরা সময় বর্ষা পরবর্তী শীতকাল, মোটামুটি নভেম্বর থেকে এপ্রিল। এই সময় ঝিরিপথের পানি শান্ত আর স্বচ্ছ থাকে, পথ তুলনামূলক শুকনো থাকে, আর খুমের ভেতরে ভেলা চালানো সহজ হয়। বর্ষাকালে চারপাশ সবচেয়ে সবুজ দেখায় ঠিকই, কিন্তু তখন ঝিরিতে পানি বেড়ে যায়, পথ পিচ্ছিল হয়, জোঁকের উপদ্রব বাড়ে, আর হরকাবানের আশঙ্কা থাকে। ভারী বৃষ্টির সময় নিরাপত্তার কারণে প্রশাসন মাঝে মাঝে পর্যটক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধও রাখে। তাই বর্ষায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যাত্রার আগে স্থানীয় প্রশাসন বা গাইডের কাছ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই জেনে নিন। শীতের সকালে খুমের ভেতরটা ঠান্ডা লাগতে পারে, হালকা গরম কাপড় সঙ্গে রাখা ভালো।

ঢাকা থেকে দেবতাখুম যেতে প্রথমে বান্দরবান শহরে পৌঁছাতে হবে। ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল বা কলাবাগান থেকে বান্দরবানের নন এসি ও এসি বাস নিয়মিত ছাড়ে, রাতের বাসে গেলে সকালে বান্দরবান পৌঁছে সেদিনই দেবতাখুমের পরিকল্পনা করা যায়। ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকে বাসে বান্দরবান যেতে হবে, কারণ বান্দরবানে সরাসরি ট্রেন যায় না। চট্টগ্রাম থেকেও বান্দরবানের বাস সহজে পাওয়া যায়। বান্দরবান শহরে নেমে সকালের নাশতা সেরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোয়াংছড়ির দিকে রওনা হওয়া ভালো, কারণ দেবতাখুমের পুরো পর্বটা দিনের আলো থাকতে থাকতে শেষ করতে হয়।

বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ির দূরত্ব প্রায় ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার। রোয়াংছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাসে রোয়াংছড়ি যাওয়া যায়, জনপ্রতি ভাড়া আনুমানিক ৬০ টাকার মতো। সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। দল বড় হলে বান্দরবান শহর থেকে জিপ, স্থানীয় ভাষায় চাঁদের গাড়ি, রিজার্ভ করে সরাসরি কচ্ছপতলী পর্যন্ত যাওয়া যায়, এতে সময় বাঁচে আর ফেরার চিন্তাও কমে। রোয়াংছড়ি বাজার থেকে কচ্ছপতলী বাজার পর্যন্ত সিএনজিতে যেতে হয়, ভাড়া আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, সময় লাগে আধা ঘণ্টার মতো। রোয়াংছড়ি থেকে বান্দরবানের ফেরার শেষ বাস বিকেলের দিকে ছাড়ে বলে ফেরার পরিকল্পনা আগেই ঠিক করে রাখুন।

দেবতাখুম যাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো অনুমতি। কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করে সবার পরিচয়পত্র জমা দিয়ে এন্ট্রি করতে হয়। সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের অন্তত দুই কপি ফটোকপি রাখুন, কারণ কচ্ছপতলীতে ফটোকপির দোকান পাওয়া যাবে না। পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে এগোতে দেওয়া হয় না, তাই দলের সবার কাগজ আগেই গুছিয়ে নিন। একই সঙ্গে স্থানীয় গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক। গাইড ছাড়া খুমের দিকে যাওয়া যায় না, আর গাইডই পথ, ভেলা, লাইফ জ্যাকেট আর সময়ের হিসাব দেখভাল করেন। গাইডের খরচ দলভেদে আর মৌসুমভেদে বদলায়, সাধারণত ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে থাকে বলে ধরে নেওয়া যায়। গাইড ঠিক করার সময় কী কী এর মধ্যে আছে, ভেলা, লাইফ জ্যাকেট, শীলবাঁধা ঝরনা দেখা, তা আগেই পরিষ্কার করে নিন।

কচ্ছপতলী থেকে ট্রেক শুরু হয়। পাহাড়ি পথ আর ঝিরিপথ ধরে হেঁটে প্রথমে শীলবাঁধা পাড়ায় পৌঁছাতে হয়, পথে ঝিরি কয়েকবার পার হতে হয়। পথ আর বিশ্রামভেদে কচ্ছপতলী থেকে খুম পর্যন্ত পৌঁছাতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মতো ধরে নিন। পথে শীলবাঁধা ঝরনা পড়ে, চাইলে যাওয়া বা আসার পথে সেটা দেখে নেওয়া যায়। শীলবাঁধা পাড়া থেকে খানিকটা হাঁটলেই প্রথমে পং সু আং খুম পার হতে হয়, তারপর শুরু হয় মূল দেবতাখুম। ট্রেকটা মাঝারি মানের, সমতলের হাঁটার মতো সহজ নয়, আবার পাহাড় জয়ের মতো কঠিনও নয়। ভালো গ্রিপের জুতা, হালকা ব্যাগ আর পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে থাকলে পথটা অনেক সহজ লাগে।

খুমের ভেতরে ঢুকতে হয় বাঁশের ভেলা বা স্থানীয় ডিঙি নৌকায় চেপে। ভেলা ধীরে ধীরে সরু গিরিপথ দিয়ে এগিয়ে যায়, দুই পাশে খাড়া পাথর, ওপরে গাছের ছায়া, আর নিচে গভীর সবুজ জল। যত ভেতরে যাবেন, আলো তত কমবে, শব্দ তত কমবে, আর চারপাশ তত শান্ত লাগবে। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া খুমে নামা উচিত নয়, আর গাইডের নির্দেশ ছাড়া ভেলা থেকে নামা বা সাঁতার কাটা ঠিক নয়। খুমের পানি গভীর, আর পাথরের দেয়াল পিচ্ছিল, তাই হাত পা ছড়িয়ে বসা বা দাঁড়িয়ে ছবি তোলার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। ক্যামেরা বা মোবাইলের জন্য ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ বা পলিথিন সঙ্গে রাখুন, কারণ ভেলায় পানি ছিটে আসা স্বাভাবিক।

দেবতাখুমে যা যা দেখবেন, তার তালিকায় প্রথমে অবশ্যই মূল খুম, তারপর শীলবাঁধা ঝরনা, আর পুরো ঝিরিপথের প্রাকৃতিক দৃশ্য। যাওয়ার পথে ছোট ছোট পাড়া, জুমের ক্ষেত আর বুনো গাছপালা চোখে পড়বে। ফেরার পথে সময় থাকলে রোয়াংছড়ি বাজার ঘুরে দেখতে পারেন। আর বান্দরবান শহরে এক রাত থাকলে পরের দিন নীলাচল, মেঘলা বা স্বর্ণমন্দিরের মতো পরিচিত জায়গাগুলো ঘুরে নেওয়া যায়, তবে সেগুলোর জন্য আলাদা সময় আর যাতায়াতের পরিকল্পনা লাগবে। দেবতাখুমের দিনটা শুধু দেবতাখুমের জন্যই রাখা ভালো, তাড়াহুড়ো করে অন্য জায়গা ঢোকালে ট্রেকের আনন্দ কমে যায়।

দেবতাখুমে বা তার আশপাশে রাত্রিযাপনের কোনো ব্যবস্থা নেই, তাই থাকতে হবে বান্দরবান শহরে। বান্দরবান শহরে বাজেট হোটেল থেকে মাঝারি মানের হোটেল আর রিসোর্ট পর্যন্ত নানা বিকল্প আছে। শীতের মৌসুমে, বিশেষ করে ছুটির দিনে, ভালো জায়গা আগে বুকিং দিয়ে রাখা ভালো, কারণ তখন চাপ বেশি থাকে। হোটেল বাছার সময় বাসস্ট্যান্ড বা শহরের কেন্দ্র থেকে দূরত্ব দেখে নিন, কারণ ভোরে রোয়াংছড়ির দিকে রওনা হতে হয়। যারা বান্দরবান শহরে দুই রাত থাকবেন, তারা একদিন দেবতাখুম আর একদিন শহরের আশপাশ ঘুরে নিতে পারেন, এতে যাত্রা আরামদায়ক হয়।

খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা পরিকল্পনার অংশ। কচ্ছপতলী বাজারে ছোট ছোট খাবারের দোকান আছে, সেখানে ভাত, মুরগি, ডাল আর আলু ভর্তার মতো সাধারণ খাবার পাওয়া যায়, এক বেলার খাবারের খরচ আনুমানিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মতো। শীলবাঁধা পাড়ার দিকে ছোট রেস্তোরাঁও আছে, যেখানে প্যাকেজ খাবার পাওয়া যায়। কিন্তু কচ্ছপতলী পার হওয়ার পর দোকান আর পাওয়া যাবে না বলেই ধরে নিন, তাই পানি, শুকনো খাবার, স্যালাইন আর প্রয়োজনীয় ওষুধ আগেই কিনে নিন। ট্রেকের সময় বারবার পানি খাওয়া জরুরি, আর প্লাস্টিকের বোতল বা খাবারের প্যাকেট পথে ফেলা যাবে না, ব্যাগে করে ফিরিয়ে আনুন।

খরচের হিসাবটা দল আর যাতায়াতের ধরনের ওপর অনেক বদলায়, তাই এখানে শুধু আনুমানিক রেঞ্জ দেওয়া হলো, আর মৌসুমভেদে দাম বদলাতে পারে বলে যাওয়ার আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো। ঢাকা থেকে বান্দরবানের বাস ভাড়া নন এসিতে আনুমানিক ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, এসিতে ১,২০০ থেকে ১,৬০০ টাকা। বান্দরবান থেকে রোয়াংছড়ি আর কচ্ছপতলী পর্যন্ত লোকাল যাতায়াতে জনপ্রতি কয়েকশ টাকা লাগে, আর জিপ রিজার্ভ করলে দল ভাগ করে নিলে জনপ্রতি খরচ কমে। গাইডের খরচ দলপ্রতি ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার মতো, আর খুমে প্রবেশ, লাইফ জ্যাকেট আর ভেলা মিলিয়ে জনপ্রতি আনুমানিক ২০০ টাকার মতো প্যাকেজ খরচ ধরা যায়।

সব মিলিয়ে বান্দরবান শহর থেকে দিনে দিনে দেবতাখুম ঘুরে আসতে বাজেট ভ্রমণে জনপ্রতি আনুমানিক ১,২০০ থেকে ২,০০০ টাকা লাগতে পারে, যেখানে লোকাল বাস, দল ভাগ করে গাইড আর সাধারণ খাবার ধরা হয়েছে। মাঝারি বাজেটে, জিপ রিজার্ভ আর ভালো খাবারসহ, জনপ্রতি আনুমানিক ২,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকা ধরে নিন। আর ঢাকা থেকে দুই দিনের পুরো ট্রিপে, বাস ভাড়া আর এক রাতের হোটেলসহ, বাজেটে জনপ্রতি আনুমানিক ৪,৫০০ থেকে ৬,৫০০ টাকা, আর মাঝারি বাজেটে ৮,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা লাগতে পারে। এগুলো আনুমানিক রেঞ্জ, দলের আকার, মৌসুম আর দরদামের ওপর আসল খরচ কম বেশি হতে পারে।

বাজেট বাঁচাতে কয়েকটা সহজ কৌশল কাজে লাগে। প্রথমত, দল বড় করুন, গাইড আর জিপের খরচ ভাগ হয়ে গেলে জনপ্রতি খরচ অনেক কমে। দ্বিতীয়ত, রাতের বাসে ঢাকা থেকে গিয়ে দিনের বেলা ঘুরে আবার রাতের বাসে ফিরলে হোটেলের এক রাতের খরচ বাঁচে, যদিও এতে ক্লান্তি বাড়ে। তৃতীয়ত, লোকাল বাস আর সিএনজি ব্যবহার করলে রিজার্ভ গাড়ির চেয়ে অনেক কম খরচ হয়। চতুর্থত, পানি আর শুকনো খাবার শহর থেকে কিনে নিলে পথে বেশি দামে কিনতে হয় না। আর শেষ কথা, গাইড আর ভেলার খরচ আগেই পরিষ্কার করে নিলে পরে বাড়তি দাবি নিয়ে ঝামেলা হয় না।

নিরাপত্তা পরামর্শগুলো দেবতাখুমে সবচেয়ে জরুরি। লাইফ জ্যাকেট ছাড়া খুমে নামবেন না, গাইডের নির্দেশ ছাড়া সাঁতার কাটবেন না, আর ভেলায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলবেন না। বর্ষায় বা ভারী বৃষ্টির পর খুমে যাওয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ তখন হরকাবানের ঝুঁকি থাকে আর প্রশাসনও প্রবেশ বন্ধ রাখতে পারে। পিচ্ছিল পাথরে ভালো গ্রিপের জুতা পরুন, বর্ষায় জোঁক থেকে বাঁচতে লম্বা মোজা আর লবণ সঙ্গে রাখতে পারেন। কচ্ছপতলীর পর মোবাইল নেটওয়ার্ক খুব দুর্বল হয়ে যায়, তাই পরিবারকে আগেই জানিয়ে যান কখন ফিরবেন, আর ফেরার সময় হাতে রাখুন। সন্ধ্যার আগেই ট্রেক শেষ করে কচ্ছপতলী ফেরার পরিকল্পনা করুন, অন্ধকারে ঝিরিপথে হাঁটা নিরাপদ নয়।

একদিনের নমুনা পরিকল্পনা এমন হতে পারে। ভোরে বান্দরবান শহর থেকে রওনা হয়ে সকাল ৮টার মধ্যে কচ্ছপতলী পৌঁছান, এন্ট্রি আর গাইড ঠিক করে ট্রেক শুরু করুন। দুপুরের মধ্যে খুম ঘুরে শীলবাঁধা পাড়ায় ফিরে খাওয়া সেরে বিকেলের মধ্যে কচ্ছপতলী ফিরুন, তারপর বান্দরবান শহরে ফিরে রাতের বাস ধরুন অথবা শহরে রাত কাটান। যারা ঢাকা থেকে রাতের বাসে আসবেন, তারা বান্দরবান পৌঁছে নাশতা সেরেই এই পরিকল্পনা শুরু করতে পারেন, তবে ঘুমের ঘাটতি থাকলে ট্রেকে কষ্ট হতে পারে বলে আগের দিন শহরে এক রাত থাকা আরামদায়ক।

দেবতাখুম সবার জন্য সমান সহজ নয়। মাঝারি ট্রেক, ঝিরি পার হওয়া আর পিচ্ছিল পথের কারণে ছোট বাচ্চা, বয়স্ক মানুষ বা হাঁটুর সমস্যা থাকলে আগে থেকে ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। যাদের সাঁতার জানা নেই, তাদের জন্য লাইফ জ্যাকেট আর গাইডের নির্দেশ মেনে চলা আরও বেশি জরুরি। গর্ভবতী নারী বা হৃদরোগীদের এই ট্রেক এড়িয়ে চলাই ভালো। আর যারা প্রথমবার পাহাড়ি ট্রেকে যাচ্ছেন, তারা অভিজ্ঞ কারো সঙ্গে দল বেঁধে যান, একা যাওয়ার চেয়ে দলে যাওয়া সবসময় নিরাপদ।

সবশেষে মনে রাখবেন, দেবতাখুম এখনো অনেকটাই কাঁচা আর প্রাকৃতিক এক জায়গা, সেখানে পাকা রেস্তোরাঁ, টয়লেট বা নেটওয়ার্কের সুবিধা আশা করা ঠিক নয়। এই কাঁচা রূপটাই এর সৌন্দর্য, আর সেটা টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব পর্যটকদেরও। প্লাস্টিক ফেলবেন না, স্থানীয় পাড়ার মানুষের ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন, আর গাইড ও স্থানীয়দের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করুন। ঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে দেবতাখুমের একদিন আপনার স্মৃতিতে অনেকদিন থেকে যাবে। আর খরচের অঙ্কগুলো মৌসুমভেদে বদলায়, তাই যাত্রার আগে গাইড বা স্থানীয় সূত্র থেকে বর্তমান ভাড়া আর ফি যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

দেবতাখুম নিয়ে যেসব প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি করা হয়, তার উত্তরগুলো এক জায়গায় জেনে নিলে পরিকল্পনা সহজ হয়। গাইড কি সত্যিই বাধ্যতামূলক, হ্যাঁ, গাইড ছাড়া খুমের দিকে যাওয়া যায় না, আর গাইডই অনুমতি আর ভেলার ব্যবস্থা দেখেন। সাঁতার না জানলে কি যাওয়া যাবে, যাবে, তবে লাইফ জ্যাকেট পরা আর গাইডের নির্দেশ মেনে চলা তখন আরও বেশি জরুরি। মোবাইলে ছবি তোলা যাবে কি, যাবে, তবে ওয়াটারপ্রুফ ব্যবস্থা ছাড়া মোবাইল ভেলায় তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, একদিনে কি ঢাকা থেকে ঘুরে আসা যাবে, তাত্ত্বিকভাবে রাতের বাসে গিয়ে দিনে ঘুরে আবার রাতের বাসে ফেরা যায়, কিন্তু এতে ক্লান্তি অনেক বাড়ে, তাই বান্দরবান শহরে অন্তত এক রাত থাকাই আরামদায়ক।

সূত্র

ফেসবুকে শেয়ার এক্সে শেয়ার হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার
← সব খবর দেখুন