হ্যালোইনে ভূতের সাজ নয়, মায়ের স্মৃতির সাজ বেছে নিলেন জাহ্নবী কাপুর। বলিউড অভিনেত্রী এবার হ্যালোইন উপলক্ষে ফিরিয়ে আনলেন তাঁর মা শ্রীদেবীর সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্রগুলোর একটি, ১৯৮৬ সালের নাগিনা সিনেমার ইচ্ছাধারী নাগিনের লুক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা ছবিগুলোতে গোলাপি পোশাক, গয়না, সাজসজ্জা আর চুলের ধরন, সবকিছুতেই মায়ের সেই বিখ্যাত চরিত্রের ছাপ ধরা পড়েছে।
শুধু একই পোশাক পরেই থামেননি জাহ্নবী। বন্ধু ওরির সঙ্গে তিনি নাগিনা সিনেমার মূল পোস্টার আর একটি স্মরণীয় দৃশ্যও নতুন করে উপস্থাপন করেছেন। অর্থাৎ এটা শুধু একটি কস্টিউম নয়, পুরোনো একটি সিনেমার মুহূর্তকে আবার জীবন্ত করে তোলার চেষ্টা। ছবিগুলোর সঙ্গে জাহ্নবী লিখেছেন, হ্যালোইনে মানুষ পছন্দের চরিত্র কিংবা জনপ্রিয় সংস্কৃতির বিভিন্ন মুহূর্তের সাজে হাজির হন। কখনো তা ভৌতিক, কখনো মজার, আবার কখনো শ্রদ্ধা জানানোর উপলক্ষ। তাঁর কাছে মা শ্রীদেবী, ঋষি কাপুর ও অমরীশ পুরীর চেয়ে আইকনিক আর কেউ নন, এই কথাটাই বুঝিয়ে দেয় কেন এই লুকটি তাঁর কাছে শুধু সাজ নয়।
নাগিনা সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮৬ সালে, পরিচালনা করেছিলেন হরমেশ মালহোত্রা। ফ্যান্টাসি আর রোমান্সধর্মী এই ছবিতে শ্রীদেবীর পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন ঋষি কাপুর, অমরীশ পুরী, কোমল মহুভাকর ও প্রেম চোপড়া। গল্পের কেন্দ্রে ছিলেন রাজনি, যিনি ছিলেন ইচ্ছাধারী নাগিন, মানুষের রূপ ধারণ করতে পারতেন। স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে রাজীবকে বিয়ে করলেও পরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও পরিবারের মায়ায় নিজের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন রাজনি। তবে সাপুড়ে ভাইরো নাথ তাঁর পরিচয় জেনে গেলে পরিবারকে রক্ষা করতে লড়াই শুরু করেন তিনি।
এই চরিত্রটি শ্রীদেবীর ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় কাজ হিসেবে আজও দর্শকের মনে আছে। একজন ইচ্ছাধারী নাগিনের চরিত্রে ভালোবাসা, প্রতিশোধ আর পরিবার রক্ষার লড়াই, তিনটি সুর একসঙ্গে মেশানো ছিল বলেই রাজনি চরিত্রটি শুধু একটি ফ্যান্টাসি চরিত্র হয়ে থাকেনি। জাহ্নবীর হ্যালোইন লুক তাই নতুন প্রজন্মের অনেক দর্শকের কাছে পুরোনো এই সিনেমাটিকে আবার মনে করিয়ে দেওয়ার কাজও করেছে।
মা ও মেয়ের গল্পটাও এখানে আলাদা করে মনে রাখার মতো। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৫৪ বছর বয়সে মারা যান শ্রীদেবী। একই বছরের জুলাইয়ে ধাড়াক সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয় জাহ্নবীর। অর্থাৎ মায়ের চলে যাওয়ার বছররেই বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর। তার পর থেকে নানা সময়ে মায়ের স্মৃতির কথা বলেছেন তিনি, আর এবার হ্যালোইনের সাজের মধ্য দিয়ে সেই স্মৃতিকে আবার সামনে আনলেন।
হ্যালোইনে তারকাদের সাজ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়, কিন্তু জাহ্নবীর এই লুক আলাদা হয়ে উঠেছে তার কারণেই। এখানে ভয় দেখানো বা চমক দেওয়ার চেষ্টা নেই, আছে একজন মেয়ের মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা। গোলাপি পোশাক থেকে চুলের ধরন পর্যন্ত প্রতিটি খুঁটিনাটিতে মূল চরিত্রের সঙ্গে মিল রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। আর ওরির সঙ্গে পোস্টার আর দৃশ্য নতুন করে তোলার মধ্য দিয়ে সেই শ্রদ্ধা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
যাঁরা নাগিনা দেখেননি, তাঁদের জন্য এই লুক একটি নতুন পরিচয়ও বটে। ১৯৮৬ সালের একটি ফ্যান্টাসি সিনেমা কীভাবে আজও একজন তরুণ অভিনেত্রীর হ্যালোইন সাজের অনুপ্রেরণা হতে পারে, সেটাই এই ঘটনার সবচেয়ে মজার দিক। আর যাঁরা ছবিটি দেখেছেন, তাঁদের জন্য এটা পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফেরার একটা উপলক্ষ। মায়ের চরিত্রে মেয়েকে দেখে দর্শকের মনে যে আবেগ তৈরি হয়, সেটাই এই লুককে শুধু একটি হ্যালোইন পোস্টের চেয়ে বেশি কিছু করে তুলেছে।
